পড়ার নোট
অণু গঠনের সময় বিভিন্ন মৌলের পরমাণু সর্বশেষ কক্ষপথের ইলেকট্রন বর্জন, গ্রহণ বা ভাগাভাগি করে। কোনো মৌলের একটি পরমাণুর সাথে অন্য মৌলের পরমাণু যুক্ত হওয়ার এই ক্ষমতাকে যোজনী বা যোজ্যতা বলে।
সাধারণত হাইড্রোজেনের যোজনী ১ ধরা হয়। কোনো মৌলের একটি পরমাণু যতগুলো H বা Cl পরমাণুর সাথে যুক্ত হতে পারে, সেই সংখ্যাই ওই মৌলের যোজনী।
- অণুতে একটি H এর সাথে একটি Cl যুক্ত, তাই Cl এর যোজনী ১।
- তে একটি O দুটি H এর সাথে যুক্ত, তাই O এর যোজনী ২।
- এ একটি Na একটি Cl এর সাথে যুক্ত, তাই Na এর যোজনী ১।
অক্সিজেনের মাধ্যমেও যোজনী বের করা যায়: একটি পরমাণুর সাথে যতগুলো অক্সিজেন পরমাণু যুক্ত হয়, তাকে ২ দিয়ে গুণ করলে যোজনী পাওয়া যায়। তে একটি O আছে, তাই Ca এর যোজনী ।
পরিবর্তনশীল ও সুপ্ত যোজনী
কিছু মৌলের একাধিক যোজনী থাকে, একে পরিবর্তনশীল যোজনী বলে। যেমন Fe এর যোজনী ২ এবং ৩। কোনো যৌগে মৌলের সর্বোচ্চ যোজনী ও সক্রিয় যোজনীর পার্থক্যকে সুপ্ত যোজনী বলে।
- এ Fe এর সক্রিয় যোজনী ২, সর্বোচ্চ ৩, তাই সুপ্ত যোজনী ।
- এ সক্রিয় ও সর্বোচ্চ দুটোই ৩, তাই সুপ্ত যোজনী ।
কয়েকটি মৌলের যোজনী: H, F, Br, I, Na, K এর ১; Mg, Zn এর ২; Al এর ৩; Cu এর ১ ও ২; C এর ২ ও ৪।
মনে রাখো: যোজনী হলো একটি পরমাণুর অন্য পরমাণুর সাথে যুক্ত হওয়ার ক্ষমতা, যা হাইড্রোজেনের তুলনায় মাপা হয়; এটি শুধু একটি সংখ্যা, তাতে ধনাত্মক বা ঋণাত্মক চিহ্ন থাকে না।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।