পড়ার নোট
একাধিক মৌলের কয়েকটি পরমাণু বা আয়ন মিলে ধনাত্মক বা ঋণাত্মক আধানযুক্ত যে পরমাণুগুচ্ছ গঠন করে এবং একটি মৌলের আয়নের মতো আচরণ করে, তাকে যৌগমূলক বলে। এখানে পুরো গুচ্ছটিকে একটি একক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যেমন, অ্যামোনিয়াম একটি ধনাত্মক যৌগমূলক; সালফেট একটি ঋণাত্মক যৌগমূলক।
যৌগমূলকের আধান সংখ্যার চিহ্ন বাদ দিলে যে সংখ্যা পাওয়া যায়, সেটিই তার যোজনী। অ্যামোনিয়ামের আধান সংখ্যা , তাই যোজনী ১; সালফেটের আধান সংখ্যা , তাই যোজনী ২। যোজনী এককবিহীন সংখ্যা।
অ্যামোনিয়ামের গঠন বুঝতে একটি নাইট্রোজেন পরমাণুর সঙ্গে তিনটি হাইড্রোজেন পরমাণু ও একটি হাইড্রোজেন আয়ন যুক্ত হওয়ার কথা ভাবতে পারো। ফলে চারটি হাইড্রোজেনসহ একটি ধনাত্মক পরমাণুগুচ্ছ পাওয়া যায়। পুরো গুচ্ছের আধানই তার যোজনী নির্ধারণ করে।
প্রয়োজনীয় যৌগমূলকগুলো আধান ও যোজনী মিলিয়ে শেখো:
- অ্যামোনিয়াম ও ফসফোনিয়াম : আধান সংখ্যা , যোজনী ১।
- হাইড্রোজেন কার্বনেট , হাইড্রোজেন সালফেট , নাইট্রেট , নাইট্রাইট ও হাইড্রোক্সাইড : আধান সংখ্যা , যোজনী ১।
- কার্বনেট , সালফেট ও সালফাইট : আধান সংখ্যা , যোজনী ২।
- ফসফেট : আধান সংখ্যা , যোজনী ৩।
এখানে N, H, P, C, O ও S যথাক্রমে নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, ফসফরাস, কার্বন, অক্সিজেন ও সালফারের প্রতীক। রাসায়নিক প্রতীকের SI একক নেই। নিচের ছোট সংখ্যা পরমাণুর সংখ্যা বোঝায়, ওপরের চিহ্নসহ সংখ্যা পুরো গুচ্ছের আধান বোঝায়। কোনো প্রতীকের নিচে সংখ্যা না থাকলে একটি পরমাণু বুঝতে হবে।
একটি অনুশীলনে ৪টি সালফেট আয়নের অক্সিজেন গুনে দেখো। প্রথমে একটি সালফেটে ৪টি অক্সিজেন শনাক্ত করো। এরপর মোট অক্সিজেন পরমাণু টি। এখানে উভয় সংখ্যা পরমাণু বা আয়নের গণনা, এককবিহীন। কিন্তু প্রতিটি সালফেটের যোজনী ২-ই থাকে; পরমাণু গুনে যোজনী নির্ধারিত হয় না।
ধানের জমিতে ব্যবহৃত টিএসপি সারে ফসফেট থাকে। যৌগের সংকেত লেখার সময় এমন গুচ্ছকে একক হিসেবে ধরতে হয়। সাধারণ ভুল হলো সালফেটের যোজনী ঋণাত্মক ২ বলা অথবা অক্সিজেনের সংখ্যা দেখে ৪ বলা।
মনে রাখো: যৌগমূলকের যোজনী হলো পুরো গুচ্ছের আধান সংখ্যা, চিহ্ন বাদ দিয়ে; পরমাণুর মোট সংখ্যা নয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।