রাসায়নিক সমীকরণ লেখার নিয়ম
পাঠ্যবই অনুযায়ী:
১. বিক্রিয়ক বাম পাশে, উৎপাদ ডান পাশে লিখে মাঝে তির (→) বা সমান চিহ্ন (=) দাও। ২. বিক্রিয়ক ও উৎপাদ প্রতীক বা সংকেতে লেখো; একাধিক হলে মাঝে যোগ চিহ্ন দাও। ৩. বাম ও ডান পাশে প্রতিটি মৌলের পরমাণুর সংখ্যা সমান করাই সমীকরণের সমতা। ৪. সমতা না করে দেখালে শুধু তির চিহ্ন (→) দাও; সমতা হলে সমান চিহ্নও দেওয়া যায়। ৫. ভৌত অবস্থা লিখতে চাইলে সংকেতের ডানে বন্ধনীতে দাও: কঠিন (s), তরল (l), গ্যাস (g), জলীয় দ্রবণ (aq)। ৬. তাপ দিতে হলে তিরের ওপরে চিহ্ন দাও। কতটুকু তাপ উৎপন্ন বা শোষিত হলো দেখাতে চাইলে সমীকরণ সমতা করে ভৌত অবস্থাসহ লিখতে হয়।
ধাপ ০: সঠিক সংকেত লেখা
সমতা শুরুর আগে প্রতিটি পদার্থের সংকেত ঠিক হতে হবে, আর তা আসে যোজনী থেকে। দুই মৌলের যোজনী আড়াআড়ি বিনিময় করো: Al-এর যোজনী ৩, O-এর ২, তাই অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড । যৌগমূলককে একটি একক ধরো:
| যৌগমূলক | সংকেত | যোজনী |
|---|---|---|
| অ্যামোনিয়াম | ১ | |
| হাইড্রক্সাইড | ১ | |
| নাইট্রেট | ১ | |
| বাইকার্বনেট | ১ | |
| সালফেট | ২ | |
| কার্বনেট | ২ | |
| ফসফেট | ৩ |
যেমন ক্যালসিয়াম (২) ও নাইট্রেট (১) মিলে ।
সমতা করার কৌশল
১. প্রতিটি মৌলের পরমাণু দুই পাশে গুনে লেখো। ২. আগে যৌগের মধ্যে থাকা পরমাণুগুলো মেলাও, মুক্ত মৌল (, , Fe) পরে। ৩. সংকেতের সামনে উপযুক্ত সংখ্যা (সহগ) বসাও। সংকেতের নিচের সংখ্যা কখনো বদলাবে না: -কে করলে সেটি আর পানি থাকে না। ৪. যৌগমূলক বিক্রিয়ার দুই পাশে অপরিবর্তিত থাকলে (, ) পুরোটাকে একটি একক হিসেবে গোনো। ৫. শেষে সব পরমাণু আবার গুনে মিলিয়ে নাও, আর সহগগুলো সবচেয়ে ছোট পূর্ণসংখ্যায় রাখো।
উদাহরণ (পাঠ্যবই থেকে)
১. : ডানে Cl ও H দুটি করে, বামে একটি করে। HCl-কে ২ দিয়ে গুণ করো:
২. : বামে Na দুটি, তাই NaCl-কে ২; তখন ডানে Cl দুটি, তাই HCl-কে ২:
৩. : Al মেলাতে -কে ২, তখন Cl ছয়টি, তাই HCl-কে ৬; শেষে O ও H মেলাতে -কে ৩:
আরও উদাহরণ
৪. বিজোড়-জোড় কৌশল: । ডানে O তিনটি (বিজোড়), বামে জোড়ায় জোড়ায়। -কে ২ করো (O = ৬), তাই -কে ৩; তখন Al চারটি:
৫. লোহা অক্সিজেনে পুড়ে তৈরি করে: ।
৬. দহন: হাইড্রোকার্বন পুড়লে আগে C, তারপর H, সবার শেষে O মেলাও।
ইথেনে C দুটি ও H ছয়টি, তাই ও ; ডানে O হয় ৭টি, যা বিজোড়। সব সহগ দ্বিগুণ করো:
৭. প্রশমন: ( একক হিসেবে গোনা)।
৮. ডিমের খোসা ও এসিড: ।
৯. তাপে বিয়োজন: । মিলিয়ে দেখো: Mg ২ = ২, N ৪ = ৪, O ১২ = ।
সমীকরণ থেকে ভরের হিসাব
সমতাকৃত সমীকরণের সহগ মানে মোলের অনুপাত। -এ ২ মোল Mg ( g) আর ১ মোল ( g) মিলে ২ মোল MgO ( g) তৈরি করে। দুই পাশের মোট ভর সমান, , যা ভরের নিত্যতা সূত্র মেনে চলে। এজন্যই ভরের হিসাবের আগে সমীকরণ সমতা করা জরুরি।
সাধারণ ভুল
- সমতা করতে সংকেতের নিচের সংখ্যা বদলানো। শুধু সামনে সহগ বসাবে।
- অক্সিজেন গ্যাসকে O লেখা। মুক্ত অবস্থায় এটি ; তেমনি , , ।
- সহগ ছোট না করা। সমতাকৃত হলেও উত্তর হবে ।
- সমতা না করেই সমান চিহ্ন দেওয়া।