ডিমের খোসা আর ভিনেগার: কোন গ্যাসের বুদবুদ?
মান বদলাও, চালাও, আর দেখো কী ঘটে।
মিতু রান্নাঘরে একটা ডিমের খোসার টুকরো ভিনেগারে ফেলে দেখল, খোসার গা থেকে অনবরত ছোট ছোট বুদবুদ উঠছে। ভাই বলল এটা নিশ্চয়ই হাইড্রোজেন, কারণ এসিড থেকে হাইড্রোজেন বের হয়। মিতু ঠিক করল, বুদবুদের গ্যাসটা নল দিয়ে চুনের পানির মধ্যে চালনা করে পরীক্ষা করবে। চুনের পানিতে কী দেখা যাবে?
ডিমের খোসা ও ভিনেগারের বুদবুদ চুনের পানিতে চালনা করলে কী ঘটবে?
- চুনের পানি দুধের মতো ঘোলা হবে, কারণ গ্যাসটি কার্বন ডাইঅক্সাইড
- চুনের পানির কিছু হবে না, তবে গ্যাসের কাছে আগুন ধরলে 'পপ' শব্দ হবে, কারণ এটি হাইড্রোজেন
- চুনের পানি একই থাকবে; গ্যাসটি অক্সিজেন, তাই শিখাহীন কাঠি জ্বলে উঠবে
- কিছুই হবে না, বুদবুদগুলো আসলে খোসায় আটকে থাকা বাতাস
যা বদলাতে পারবে
- টেস্টটিউবে আছে: ডিমের খোসা (CaCO₃), মার্বেলের টুকরো (CaCO₃), খাবার সোডা (NaHCO₃), কাপড় কাচার সোডা (Na₂CO₃)
- যা যোগ করবে: ভিনেগার বা সিরকা (CH₃COOH), লেবুর রস (সাইট্রিক এসিড), লঘু হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl), পাতিত পানি
- গ্যাস পরীক্ষা: গ্যাস পরীক্ষা নয়, গ্যাস চুনের পানিতে চালনা, জ্বলন্ত কাঠি, শিখাহীন জ্বলন্ত কাঠি
যা মেপে দেখাবে
- উৎপন্ন গ্যাস
- গ্যাস পরীক্ষার ফল
- বিক্রিয়ার গতি
- তাপমাত্রার পরিবর্তন (°C)
- সমীকরণ
চালানোর সময় খেয়াল করো
- গ্যাস পরীক্ষায় 'চুনের পানিতে চালনা' বেছে নাও। তারপর জ্বলন্ত কাঠি দিয়েও দেখো 'পপ' শব্দ হয় কি না।
- এসিডের বদলে শুধু পানি দিয়ে চেষ্টা করো। বুদবুদ কি এসিড থেকে আসছে, নাকি খোসা থেকে?
নিজে করে দেখো
- এমন কার্বনেট আর এসিড বেছে নাও যাতে সবচেয়ে জোরে বুদবুদ ওঠে, আর জ্বলন্ত কাঠি দিয়ে দেখাও যে গ্যাসটি আগুন নিভিয়ে দেয়।
ইঙ্গিত
হাইড্রোক্লোরিক এসিড শক্তিশালী এসিড; খাবার সোডা গুঁড়া, তাই দ্রুত বিক্রিয়া করে।
- এমন একটি জোড় খুঁজে বের করো যেখানে বুদবুদ ওঠার সময় টেস্টটিউব ঠান্ডা হয়ে যায়।
ইঙ্গিত
খাবার সোডা আর ভিনেগার বিক্রিয়ার সময় চারপাশ থেকে তাপ শোষণ করে।
ধারণাটা কী?আগে নিজে চালিয়ে দেখো, তারপর খোলো।
কার্বনেট ও এসিডের বিক্রিয়া এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের চুনের পানি পরীক্ষা
ডিমের খোসা, মার্বেল, খাবার সোডা আর কাপড় কাচার সোডা সবাই কার্বনেট বা বাইকার্বনেট। যেকোনো এসিডের সঙ্গে এরা বিক্রিয়া করে লবণ, পানি আর কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস তৈরি করে, তাই বুদবুদ ওঠে। কার্বন ডাইঅক্সাইড চুনের পানির ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইডের সঙ্গে মিলে অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম কার্বনেট তৈরি করে, এজন্য চুনের পানি দুধের মতো ঘোলা হয়ে যায়। এটিই কার্বন ডাইঅক্সাইড চেনার পরীক্ষা। এই গ্যাস জ্বলে না এবং জ্বলতেও সাহায্য করে না, তাই জ্বলন্ত কাঠি নিভে যায়, কোনো 'পপ' শব্দ হয় না। এসিড ছাড়া শুধু পানিতে খোসা থেকে কোনো গ্যাস বের হয় না।
অন্য উত্তরগুলো কেন ভুল
এসিড শুধু ধাতুর সঙ্গে বিক্রিয়া করলে হাইড্রোজেন দেয়। ডিমের খোসা ধাতু নয়, এটি ক্যালসিয়াম কার্বনেট, তাই এখানে গ্যাসটি কার্বন ডাইঅক্সাইড। জ্বলন্ত কাঠি দিয়ে পরীক্ষা করে দেখো: 'পপ' শব্দ না হয়ে কাঠি নিভে যায়।
যেসব ভুল ধারণা হয়
- এসিড যেকোনো কিছুর সঙ্গে বিক্রিয়া করলেই হাইড্রোজেন গ্যাস বের হয়
- তরলে যেকোনো বুদবুদই অক্সিজেন গ্যাস
- কঠিন বস্তু থেকে ওঠা বুদবুদ কেবল ভেতরে আটকে থাকা বাতাস, কোনো নতুন পদার্থ নয়
বাস্তবে কোথায় দেখা যায়
- পিঠা ও কেক ফোলাতে খাবার সোডার সঙ্গে দই বা লেবুর রসের মতো এসিড মেশানো হয়: উৎপন্ন কার্বন ডাইঅক্সাইডের বুদবুদ খামিরকে ফাঁপা করে।
- পেটের অ্যাসিডিটি কমাতে অ্যান্টাসিড ট্যাবলেটে কার্বনেট থাকে; পাকস্থলীর এসিডের সঙ্গে বিক্রিয়ায় ঢেকুরের সঙ্গে কার্বন ডাইঅক্সাইড বের হয়।