offSchoolবেটা

রসায়ন · অধ্যায় ৪ · টপিক ১১

পরীক্ষা: কার্বনেট লবণের সাথে লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন গ্যাস পরীক্ষা

  • ধাতব যৌগের সাথে পানি ও লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন গ্যাস শনাক্তকরণ

পড়ার নোট

পরীক্ষার নাম: ক্যালসিয়াম কার্বনেট ও লঘু হাইড্রোক্লোরিক এসিডের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শনাক্তকরণ।

মূলনীতি: CaCO3+2HCl→CaCl2+H2O+CO2\mathrm{CaCO_3 + 2HCl \rightarrow CaCl_2 + H_2O + CO_2}

যন্ত্রপাতি: গোলতলী ফ্লাস্ক, থিসল ফানেল, দুবার সমকোণে বাঁকানো কাচের নির্গম নল, কয়েকটি গ্যাসজার এবং ছিদ্রযুক্ত কর্ক। রাসায়নিক: ক্যালসিয়াম কার্বনেট, লঘু হাইড্রোক্লোরিক এসিড ও পানি।

কার্যপদ্ধতি:

  1. ফ্লাস্কে কয়েক টুকরা ক্যালসিয়াম কার্বনেট নাও।
  2. কর্কের এক ছিদ্রে থিসল ফানেল এবং অন্য ছিদ্রে নির্গম নলের এক প্রান্ত লাগাও।
  3. থিসল ফানেল দিয়ে এমনভাবে পানি দাও যেন রাসায়নিক ও থিসল ফানেলের নিচের প্রান্ত পানিতে ডুবে থাকে।
  4. নির্গম নলের অন্য প্রান্ত গ্যাসজারের ভেতরে রাখো।
  5. থিসল ফানেল দিয়ে ধীরে ধীরে লঘু HCl দাও; বুদবুদ আকারে গ্যাস বের হবে।
  6. কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাসের অন্যান্য গ্যাসের চেয়ে ভারী, তাই এটি গ্যাসজারের নিচের দিকে জমা হয়।

গ্যাসের ধর্ম পরীক্ষা:

  • গ্যাসটির কোনো বর্ণ নেই।
  • গ্যাসজারের মুখে জ্বলন্ত কাঠি ধরলে আগুন নিভে যায়; কার্বন ডাই-অক্সাইড আগুন নিভাতে সাহায্য করে।
  • টেস্টটিউবে চুনের পানি বা ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড নিয়ে গ্যাস চালনা করলে প্রথমে ক্যালসিয়াম কার্বনেটের সাদা অধঃক্ষেপ পড়ে এবং চুনের পানি ঘোলা হয়: Ca(OH)2+CO2→CaCO3+H2O\mathrm{Ca(OH)_2 + CO_2 \rightarrow CaCO_3 + H_2O}। আরও বেশি গ্যাস চালনা করলে ক্যালসিয়াম বাইকার্বনেট তৈরি হয়ে পানি আবার পরিষ্কার হয়: CaCO3+H2O+CO2→Ca(HCO3)2\mathrm{CaCO_3 + H_2O + CO_2 \rightarrow Ca(HCO_3)_2}।

সতর্কতা: থিসল ফানেলের শেষ প্রান্ত সবসময় পানির নিচে ডুবিয়ে রাখতে হবে, নইলে উৎপন্ন গ্যাস ফানেল দিয়ে বেরিয়ে যাবে; গোলতলী ফ্লাস্কটি স্ট্যান্ডের সাথে আটকে রাখতে হবে।

উদাহরণ (সহজলভ্য উপকরণে): ক্যালসিয়াম কার্বনেটের বদলে শামুক, ঝিনুক বা ডিমের খোসা, আর হাইড্রোক্লোরিক এসিডের বদলে ভিনেগার বা লেবুর রস ব্যবহার করা যায়। ডিমের খোসায় ভিনেগার দিলে বুদবুদ ওঠে, আর সেই গ্যাস চুনের পানিতে চালনা করলে পানি ঘোলা হয়, অর্থাৎ গ্যাসটি কার্বন ডাই-অক্সাইড। ম্যাগনেসিয়াম কার্বনেট নিলেও একই ফল পাওয়া যায়।

সাধারণ ভুল হলো অনেকক্ষণ গ্যাস চালিয়ে চুনের পানি আবার পরিষ্কার দেখে ভাবা যে গ্যাসটি কার্বন ডাই-অক্সাইড নয়। প্রথমে ঘোলা হওয়াই শনাক্তকরণের চিহ্ন।

মনে রাখো: কার্বনেট লবণ ও লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়, যা বর্ণহীন, আগুন নিভায় এবং চুনের পানি ঘোলা করে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • ডিমের খোসা আর ভিনেগার: কোন গ্যাসের বুদবুদ?চালিয়ে দেখো

    মিতু রান্নাঘরে একটা ডিমের খোসার টুকরো ভিনেগারে ফেলে দেখল, খোসার গা থেকে অনবরত ছোট ছোট বুদবুদ উঠছে। ভাই বলল এটা নিশ্চয়ই হাইড্রোজেন, কারণ এসিড থেকে হাইড্রোজেন বের হয়। মিতু ঠিক করল, বুদবুদের গ্যাসটা নল দিয়ে চুনের পানির মধ্যে চালনা করে পরীক্ষা করবে। চুনের পানিতে কী দেখা যাবে?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. চুনের পানিতে কোন পরিবর্তনটি ঘটবে এবং তার কারণ কী?

    1. ক

      দুধের মতো সাদা হবে; ক্যালসিয়াম ক্লোরাইডের অধঃক্ষেপ তৈরি হবে

    2. খ

      নীল হবে; কপার সালফেটের দ্রবণ তৈরি হবে

    3. গ

      স্বচ্ছ থাকবে; ক্যালসিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট তৈরি হবে

    4. ঘ

      দুধের মতো সাদা হবে; ক্যালসিয়াম কার্বনেটের অধঃক্ষেপ তৈরি হবে

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ঘ) দুধের মতো সাদা হবে; ক্যালসিয়াম কার্বনেটের অধঃক্ষেপ তৈরি হবে

    1. সোডিয়াম কার্বনেটের সঙ্গে লঘু হাইড্রোক্লোরিক এসিডের বিক্রিয়ায় কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়।
    Na2CO3+2HCl→2NaCl+H2O+CO2\mathrm{Na_2CO_3 + 2HCl \rightarrow 2NaCl + H_2O + CO_2}
    1. কার্বন ডাইঅক্সাইড চুনের পানির সঙ্গে বিক্রিয়া করে অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম কার্বনেট তৈরি করে। ফলে চুনের পানি দুধের মতো সাদা হয়।
    CO2+Ca(OH)2→CaCO3↓+H2O\mathrm{CO_2 + Ca(OH)_2 \rightarrow CaCO_3\downarrow + H_2O}

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো