পড়ার নোট
পরীক্ষার নাম: ক্যালসিয়াম কার্বনেট ও লঘু হাইড্রোক্লোরিক এসিডের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শনাক্তকরণ।
মূলনীতি:
যন্ত্রপাতি: গোলতলী ফ্লাস্ক, থিসল ফানেল, দুবার সমকোণে বাঁকানো কাচের নির্গম নল, কয়েকটি গ্যাসজার এবং ছিদ্রযুক্ত কর্ক। রাসায়নিক: ক্যালসিয়াম কার্বনেট, লঘু হাইড্রোক্লোরিক এসিড ও পানি।
কার্যপদ্ধতি:
- ফ্লাস্কে কয়েক টুকরা ক্যালসিয়াম কার্বনেট নাও।
- কর্কের এক ছিদ্রে থিসল ফানেল এবং অন্য ছিদ্রে নির্গম নলের এক প্রান্ত লাগাও।
- থিসল ফানেল দিয়ে এমনভাবে পানি দাও যেন রাসায়নিক ও থিসল ফানেলের নিচের প্রান্ত পানিতে ডুবে থাকে।
- নির্গম নলের অন্য প্রান্ত গ্যাসজারের ভেতরে রাখো।
- থিসল ফানেল দিয়ে ধীরে ধীরে লঘু HCl দাও; বুদবুদ আকারে গ্যাস বের হবে।
- কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাসের অন্যান্য গ্যাসের চেয়ে ভারী, তাই এটি গ্যাসজারের নিচের দিকে জমা হয়।
গ্যাসের ধর্ম পরীক্ষা:
- গ্যাসটির কোনো বর্ণ নেই।
- গ্যাসজারের মুখে জ্বলন্ত কাঠি ধরলে আগুন নিভে যায়; কার্বন ডাই-অক্সাইড আগুন নিভাতে সাহায্য করে।
- টেস্টটিউবে চুনের পানি বা ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড নিয়ে গ্যাস চালনা করলে প্রথমে ক্যালসিয়াম কার্বনেটের সাদা অধঃক্ষেপ পড়ে এবং চুনের পানি ঘোলা হয়: । আরও বেশি গ্যাস চালনা করলে ক্যালসিয়াম বাইকার্বনেট তৈরি হয়ে পানি আবার পরিষ্কার হয়: ।
সতর্কতা: থিসল ফানেলের শেষ প্রান্ত সবসময় পানির নিচে ডুবিয়ে রাখতে হবে, নইলে উৎপন্ন গ্যাস ফানেল দিয়ে বেরিয়ে যাবে; গোলতলী ফ্লাস্কটি স্ট্যান্ডের সাথে আটকে রাখতে হবে।
উদাহরণ (সহজলভ্য উপকরণে): ক্যালসিয়াম কার্বনেটের বদলে শামুক, ঝিনুক বা ডিমের খোসা, আর হাইড্রোক্লোরিক এসিডের বদলে ভিনেগার বা লেবুর রস ব্যবহার করা যায়। ডিমের খোসায় ভিনেগার দিলে বুদবুদ ওঠে, আর সেই গ্যাস চুনের পানিতে চালনা করলে পানি ঘোলা হয়, অর্থাৎ গ্যাসটি কার্বন ডাই-অক্সাইড। ম্যাগনেসিয়াম কার্বনেট নিলেও একই ফল পাওয়া যায়।
সাধারণ ভুল হলো অনেকক্ষণ গ্যাস চালিয়ে চুনের পানি আবার পরিষ্কার দেখে ভাবা যে গ্যাসটি কার্বন ডাই-অক্সাইড নয়। প্রথমে ঘোলা হওয়াই শনাক্তকরণের চিহ্ন।
মনে রাখো: কার্বনেট লবণ ও লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়, যা বর্ণহীন, আগুন নিভায় এবং চুনের পানি ঘোলা করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।