পড়ার নোট
যে পরিবর্তনে কোনো পদার্থ নিজের ধর্ম হারিয়ে নতুন ধর্মের পদার্থে পরিণত হয়, তা রাসায়নিক পরিবর্তন, আর যে প্রক্রিয়ায় এটি ঘটে তা রাসায়নিক বিক্রিয়া। প্রতীক, সংকেত ও চিহ্ন দিয়ে বিক্রিয়াকে সংক্ষেপে প্রকাশ করাকে রাসায়নিক সমীকরণ বলে। বিক্রিয়ার শুরুর পদার্থ বিক্রিয়ক, আর নতুন ধর্মের যে পদার্থ তৈরি হয় তা উৎপাদ।
সমীকরণ লেখার নিয়ম
- বিক্রিয়ক বাম পাশে, উৎপাদ ডান পাশে; মাঝে তির (→) বা সমান (=) চিহ্ন।
- একাধিক বিক্রিয়ক বা উৎপাদ থাকলে মাঝে যোগ (+) চিহ্ন।
- দুই পাশে প্রতিটি মৌলের পরমাণুর সংখ্যা সমান করাকে সমীকরণের সমতাকরণ বলে। সমতা না হলে তির চিহ্ন ব্যবহার হয়।
- প্রয়োজনে ভৌত অবস্থা লেখা হয়: কঠিন (s), তরল (l), গ্যাস (g), জলীয় দ্রবণ (aq)।
- তাপ দিতে হলে তিরের উপরে চিহ্ন দেওয়া হয়।
বিক্রিয়ায় কত তাপ উৎপন্ন বা শোষিত হলো দেখাতে হলে সমীকরণ সমতাকৃত হতে হবে এবং ভৌত অবস্থা লিখতে হবে।
কেন সমতাকরণ
বিক্রিয়া ভরের নিত্যতা সূত্র মেনে চলে; পরমাণু সৃষ্টি বা ধ্বংস হয় না, শুধু নতুনভাবে যুক্ত হয়। তাই দুই পাশে প্রতিটি মৌলের পরমাণুর সংখ্যা সমান হতে হবে।
সমতাকরণের কৌশল
- প্রথমে বিক্রিয়ক ও উৎপাদের সঠিক সংকেত লেখো।
- সংকেতের সামনে উপযুক্ত সংখ্যা (1, 2, 3...) বসিয়ে গুণ করো; সংকেতের ভেতরের ছোট সংখ্যা কখনো বদলাবে না।
- আগে যৌগের পরমাণু, পরে মৌলিক পদার্থের পরমাণু মেলাও।
উদাহরণ: সমতা করো:
- ডানে Cl 2টি, বামে 1টি; তাই HCl কে 2 দিয়ে গুণ:
- গুনে দেখো:
| মৌল | বাম | ডান |
|---|---|---|
| Ca | 1 | 1 |
| C | 1 | 1 |
| O | 3 | |
| H | 2 | 2 |
| Cl | 2 | 2 |
সব সমান, তাই সমীকরণ সমতাকৃত।
সাধারণ ভুল হলো সমতা করতে সংকেতের ভেতরের সংখ্যা বদলানো, যেমন কে লেখা। এতে পদার্থটিই বদলে যায়।
মনে রাখো: রাসায়নিক সমীকরণে বিক্রিয়ক বামে, উৎপাদ ডানে লেখা হয়; ভরের নিত্যতা সূত্র অনুযায়ী দুই পাশে প্রতিটি মৌলের পরমাণু সমান করতে সংকেতের সামনে সংখ্যা বসাতে হয়, ভেতরে নয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।