পড়ার নোট
শতকরা সংযুতি থেকে স্থূল সংকেত ও আণবিক সংকেত গণনা
শতকরা সংযুতি মানে হলো কোনো যৌগের ১০০ গ্রামে প্রতিটি মৌল কত গ্রাম আছে। এই তথ্য থেকে আমরা যৌগের স্থূল সংকেত বের করতে পারি। স্থূল সংকেত হলো যৌগে থাকা মৌলগুলোর পরমাণুর সরলতম অনুপাত।
স্থূল সংকেত বের করার ধাপগুলো:
- প্রতিটি মৌলের শতকরা সংযুতি কে তার পারমাণবিক ভর দিয়ে ভাগ করো। এটাই হলো প্রতি মৌলের আপেক্ষিক মোল সংখ্যা।
- এই ভাগফলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ছোট সংখ্যাটি দিয়ে সবগুলো ভাগফলকে ভাগ করো।
- যদি ভাগফল পূর্ণসংখ্যা না হয়, তবে সবগুলোকে একটি ছোট সংখ্যা (২, ৩ ইত্যাদি) দিয়ে গুণ করে নিকটতম পূর্ণসংখ্যা করো।
- এই পূর্ণসংখ্যাগুলো হলো মৌলগুলোর পরমাণুর সংখ্যা। এগুলো ব্যবহার করে স্থূল সংকেত লেখো।
আণবিক সংকেত হলো যৌগের আসল সংকেত, যা একটি অণুতে প্রকৃত পরমাণুর সংখ্যা দেখায়। আণবিক সংকেত পেতে হলে আমাদের যৌগের আণবিক ভর জানা লাগে।
আণবিক সংকেত বের করার নিয়ম:
- স্থূল সংকেতের ভর বের করো।
- আণবিক ভর কে স্থূল সংকেতের ভর দিয়ে ভাগ করো। ভাগফল হবে একটি পূর্ণসংখ্যা (n)।
- স্থূল সংকেতের প্রতিটি মৌলের পরমাণুর সংখ্যাকে n দিয়ে গুণ করলে আণবিক সংকেত পাওয়া যাবে।
উদাহরণ: একটি যৌগে C-এর শতকরা সংযুতি ৪০%, H-এর ৬.৬৭%, O-এর ৫৩.৩৩%। আণবিক ভর ৬০।
- C: , H: , O:
- ছোট সংখ্যা ৩.৩৩ দিয়ে ভাগ: C: ১, H: ২, O: ১ → স্থূল সংকেত , ভর = ৩০
- , তাই আণবিক সংকেত =
মনে রাখো: স্থূল সংকেত হলো পরমাণুর সরলতম অনুপাত, আর আণবিক সংকেত হলো প্রকৃত সংখ্যা।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।