পড়ার নোট
একটি যৌগের সংকেত দুইভাবে লেখা যায়: অণুতে আসলে কয়টি পরমাণু আছে তা দেখিয়ে, অথবা শুধু পরমাণুগুলোর অনুপাত দেখিয়ে।
দুই ধরনের সংকেত
- আণবিক সংকেত: অণুতে বিভিন্ন মৌলের প্রকৃত পরমাণুর সংখ্যা দেখায়। যেমন হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড : 2টি H ও 2টি O।
- স্থূল সংকেত: অণুতে বিভিন্ন মৌলের পরমাণুর সংখ্যার সরলতম পূর্ণসংখ্যার অনুপাত দেখায়। এ H: O = 2: 2 = 1: 1, তাই স্থূল সংকেত HO।
| যৌগ | আণবিক সংকেত | অনুপাত | স্থূল সংকেত |
|---|---|---|---|
| গ্লুকোজ | 6: 12: 6 = 1: 2: 1 | ||
| বেনজিন | 6: 6 = 1: 1 | CH | |
| ইথিন | 2: 4 = 1: 2 | ||
| পানি | 2: 1 | ||
| সালফিউরিক এসিড | 2: 1: 4 |
যে যৌগের সব পরমাণুর সংখ্যাকে একটি সাধারণ সংখ্যা দিয়ে ভাগ করা যায়, সাধারণত তার আণবিক ও স্থূল সংকেত আলাদা হয়। পানি ও সালফিউরিক এসিডের মতো যৌগে তা যায় না, তাই দুটি সংকেত একই।
দুই সংকেতের সম্পর্ক
আণবিক সংকেত , যেখানে
একটি পূর্ণসংখ্যা এবং এর কোনো একক নেই। হলে স্থূল সংকেতই আণবিক সংকেত।
উদাহরণ: একটি হাইড্রোকার্বনের স্থূল সংকেত এবং আণবিক ভর 42। এর আণবিক সংকেত কী? (C = 12, H = 1)
- স্থূল সংকেতের ভর ।
- ।
- আণবিক সংকেত ।
যাচাই: এর ভর , যা দেওয়া আণবিক ভরের সমান।
সাধারণ ভুল হলো স্থূল সংকেতের অনুপাতকে সরলতম রূপে না আনা। এর অনুপাত 6: 12: 6 থেকে 6 দিয়ে ভাগ করে 1: 2: 1 আনতে হয়; 3: 6: 3 লিখলে স্থূল সংকেত হয় না।
মনে রাখো: আণবিক সংকেত অণুর প্রকৃত পরমাণু-সংখ্যা দেখায়, স্থূল সংকেত শুধু সরলতম অনুপাত; আণবিক সংকেত , যেখানে = আণবিক ভর ÷ স্থূল সংকেতের ভর।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।