জারণ ও বিজারণ
আধুনিক ইলেকট্রনীয় মতবাদে, কোনো পরমাণু বা আয়ন ইলেকট্রন ত্যাগ করলে তা জারিত হয়, আর ইলেকট্রন গ্রহণ করলে বিজারিত হয়। পুরোনো সংজ্ঞায় অক্সিজেন যোগ হওয়াকে জারণ আর অক্সিজেন সরে যাওয়াকে বিজারণ বলা হতো; ইলেকট্রনের সংজ্ঞাটি এর চেয়ে বিস্তৃত, অক্সিজেন না থাকলেও খাটে।
দুটি সবসময় একসাথে
ইলেকট্রন হাওয়ায় মিলিয়ে যায় না; একজন ছাড়লে আরেকজনকে নিতেই হয়। তাই জারণ ও বিজারণ সবসময় একসাথে ঘটে, আর বিক্রিয়াটিকে বলে জারণ-বিজারণ বা রেডক্স বিক্রিয়া:
এখানে সোডিয়াম ইলেকট্রন ছেড়ে জারিত হয়েছে, ক্লোরিন সেই ইলেকট্রন নিয়ে বিজারিত হয়েছে।
জারক ও বিজারক চেনা
- জারক অন্যকে জারিত করে, অর্থাৎ অন্যের ইলেকট্রন কেড়ে নেয়; তাই জারক নিজে বিজারিত হয়। ওপরের বিক্রিয়ায় জারক।
- বিজারক অন্যকে বিজারিত করে, অর্থাৎ অন্যকে ইলেকট্রন দেয়; তাই বিজারক নিজে জারিত হয়। ওপরের বিক্রিয়ায় বিজারক।
দৈনন্দিন জীবনে
লোহায় মরিচা পড়া, জ্বালানি পোড়া, ব্যাটারির কাজ, আর আমাদের কোষে শ্বসন, সবই জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া। তুঁতের দ্রবণে লোহার পেরেক রাখলে পেরেকে লালচে তামা জমে: লোহা জারিত হয়, কপার আয়ন বিজারিত হয়।
সাধারণ ভুল
- জারক নিজে জারিত হয় লেখা। জারক অন্যকে জারিত করে, নিজে বিজারিত হয়।
- জারণ মানেই অক্সিজেন যুক্ত হওয়া ভাবা। -এ কোনো অক্সিজেন নেই, তবু এটি জারণ-বিজারণ।