পড়ার নোট
রেডক্স শব্দটি এসেছে reduction এর 'red' ও oxidation এর 'ox' মিলিয়ে। এ ধরনের বিক্রিয়ায় একটি বিক্রিয়ক ইলেকট্রন ত্যাগ করে এবং অন্যটি তা গ্রহণ করে।
যে বিক্রিয়ায় কোনো পরমাণু ইলেকট্রন ত্যাগ করে, কিংবা তার ধনাত্মক আধান বাড়ে বা ঋণাত্মক আধান কমে, তাকে জারণ বলে; যেমন এবং । যে বিক্রিয়ায় পরমাণু ইলেকট্রন গ্রহণ করে, কিংবা ধনাত্মক আধান কমে বা ঋণাত্মক আধান বাড়ে, তাকে বিজারণ বলে; যেমন । যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন ত্যাগ করে সে বিজারক, আর যে গ্রহণ করে সে জারক।
জারণ সংখ্যা: অণু বা মূলকে কোনো পরমাণুর ইলেকট্রন দেওয়ার প্রবণতা ধনাত্মক চিহ্নযুক্ত সংখ্যা এবং নেওয়ার প্রবণতা ঋণাত্মক চিহ্নযুক্ত সংখ্যা দিয়ে প্রকাশ করা হয়; এটিই জারণ সংখ্যা। মুক্ত মৌল (, , , ) এর জারণ সংখ্যা শূন্য। যৌগে সাধারণত এর ও এর ; নিরপেক্ষ যৌগে মোট জারণ সংখ্যা শূন্য, আর আয়নে মোট জারণ সংখ্যা তার আধানের সমান।
উদাহরণ: আয়নে এর জারণ সংখ্যা ধরি। তাহলে , অর্থাৎ । একইভাবে এ থেকে এর জারণ সংখ্যা । জারণ সংখ্যা এককহীন।
জারণ সংখ্যা ও যোজনী এক নয়। জারণ সংখ্যা ধনাত্মক, ঋণাত্মক, পূর্ণ বা ভগ্নাংশ হতে পারে এবং যৌগভেদে বদলায়; যোজনী সবসময় চিহ্নহীন পূর্ণসংখ্যা।
যুগপৎ ঘটনা: বিক্রিয়ায় জারণ অর্ধবিক্রিয়া এবং বিজারণ অর্ধবিক্রিয়া । দুটি যোগ করলে পুরো বিক্রিয়া পাওয়া যায়। ইলেকট্রন গ্রহণ না করলে ইলেকট্রন ত্যাগ করতে পারত না; তাই জারণ ও বিজারণ একসঙ্গে ঘটে। সংযোজন, বিয়োজন, প্রতিস্থাপন ও দহন বিক্রিয়ায় জারণ-বিজারণ ঘটতে পারে।
সাধারণ ভুল হলো জারক ও বিজারক গুলিয়ে ফেলা। বিজারক নিজে ইলেকট্রন ত্যাগ করে বলে নিজেই জারিত হয়; জারক ইলেকট্রন গ্রহণ করে বলে নিজে বিজারিত হয়।
মনে রাখো: জারণ মানে ইলেকট্রন ত্যাগ, বিজারণ মানে ইলেকট্রন গ্রহণ; দুটি সবসময় একসঙ্গে ঘটে, এবং জারণ সংখ্যার হিসাবে নিরপেক্ষ যৌগের মোট জারণ সংখ্যা শূন্য।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।