পড়ার নোট
উভমুখী ও একমুখী বিক্রিয়া
যে বিক্রিয়ায় বিক্রিয়ক থেকে উৎপাদ তৈরি হয় এবং একই অবস্থায় উৎপাদ থেকে বিপরীত বিক্রিয়ার মাধ্যমে আবার বিক্রিয়ক তৈরি হয়, তাকে উভমুখী বিক্রিয়া বলে। এ ধরনের বিক্রিয়ায় বিক্রিয়ক ও উৎপাদের মাঝে উভমুখী তিরচিহ্ন (⇌) ব্যবহার করা হয়। যেমন—বদ্ধ পাত্রে চুনাপাথর উত্তপ্ত করলে: ।
যে বিক্রিয়া শুধু সম্মুখ দিকে চলে, অর্থাৎ উৎপাদগুলো আর বিক্রিয়কে ফিরে যায় না, তাকে একমুখী বিক্রিয়া বলে। যেমন—মোম বা কাঠ পোড়ানো।
উভমুখী বিক্রিয়াকে একমুখী করার উপায়: বিক্রিয়া চলার সময় একটি উৎপাদকে ক্রমাগত বিক্রিয়াস্থল থেকে সরিয়ে নিলে বিপরীত বিক্রিয়া ঘটতে পারে না। তখন বিক্রিয়াটি একমুখী হয়ে সম্পূর্ণ হয়। যেমন—
- খোলা পাত্রে চুনাপাথর উত্তপ্ত করলে উৎপন্ন গ্যাস বাতাসে বেরিয়ে যায়, তাই উৎপাদ আর বিক্রিয়কে ফিরতে পারে না এবং বিক্রিয়াটি একমুখী হয়: ।
- খুব কম দ্রবণীয় কোনো উৎপাদ অধঃক্ষেপ (তলানি) হিসেবে দ্রবণ থেকে আলাদা হয়ে গেলে অনেক বিক্রিয়া কার্যত একমুখী হয়।
বদ্ধ পাত্রে সাম্যাবস্থায় থাকা কোনো উভমুখী বিক্রিয়া থেকে উৎপাদ সরিয়ে নিলে লা-শাতেলিয়ারের নীতি অনুযায়ী সাম্যের অবস্থান উৎপাদের দিকে সরে যায়। আর উৎপাদ ক্রমাগত সরে গেলে (যেমন খোলা পাত্রে) সাম্যাবস্থা তৈরিই হয় না, বিক্রিয়াটি একমুখী হয়ে শেষ হয়।
লা-শাতেলিয়ারের নীতি
লা-শাতেলিয়ারের নীতি বলে যে, কোনো উভমুখী বিক্রিয়ায় সাম্যাবস্থা স্থাপিত হলে, বাইরে থেকে চাপ, তাপ বা ঘনমাত্রার পরিবর্তন আনলে সাম্যের অবস্থান সেই পরিবর্তনকে প্রতিরোধ করার দিকে সরে যায়।
যেমন—
- তাপ বাড়ালে সাম্যের অবস্থান তাপ শোষণকারী দিকে যায়।
- চাপ বাড়ালে সাম্যের অবস্থান গ্যাসের মোল কম থাকা দিকে যায়।
- কোনো বিক্রিয়কের ঘনমাত্রা বাড়ালে সাম্যের অবস্থান উৎপাদ তৈরির দিকে যায়।
এই নীতি ব্যবহার করে আমরা বিক্রিয়ায় উৎপাদের পরিমাণ বাড়াতে পারি। যেমন—হেবার পদ্ধতিতে অ্যামোনিয়া তৈরির সময় চাপ বাড়িয়ে বেশি অ্যামোনিয়া পাওয়া যায়।
মনে রাখো: সাম্যাবস্থায় বাইরে থেকে কোনো পরিবর্তন আনলে সাম্যের অবস্থান সেই পরিবর্তন কমানোর দিকে সরে যায়। আর একটি উৎপাদ ক্রমাগত সরিয়ে নিলে উভমুখী বিক্রিয়াও একমুখী হয়ে সম্পূর্ণ হয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।