পড়ার নোট
কিছু বিক্রিয়া জারণ-বিজারণ (Redox) ও অ-জারণ-বিজারণ (Non-Redox) শ্রেণিতে পড়ে না। এগুলো বিশেষ ধরনের বিক্রিয়া।
আর্দ্র বিশ্লেষণ (Hydrolysis)
বিক্রিয়ক হিসেবে পানি অন্য যৌগের সাথে বিক্রিয়া করে উৎপাদ দিলে তাকে আর্দ্র বিশ্লেষণ বিক্রিয়া বলে।
কখনো উৎপন্ন যৌগ পানিতে অদ্রবণীয় হয়ে অধঃক্ষেপ দেয়। তখন একই বিক্রিয়া অধঃক্ষেপণও বটে:
পানিযোজন (Hydration)
আয়নিক যৌগ কেলাস গঠনের সময় এক বা একাধিক পানির অণুর সাথে যুক্ত হলে তাকে পানিযোজন বিক্রিয়া বলে। যুক্ত পানিকে কেলাস পানি বলে।
তুঁতে এর উদাহরণ। এটি সংযোজন বিক্রিয়ার মতো, কিন্তু এখানে ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে না।
সমানুকরণ (Isomerisation)
আণবিক সংকেত এক কিন্তু গাঠনিক সংকেত ভিন্ন হলে যৌগ দুটি পরস্পরের সমানু। এক সমানু থেকে অন্য সমানু তৈরির বিক্রিয়াই সমানুকরণ। অ্যামোনিয়াম সায়ানেট কে তাপ দিলে ইউরিয়া হয়; দুটিরই আণবিক সংকেত ।
পলিমারকরণ (Polymerisation)
প্রভাবক, উচ্চ চাপ ও তাপে অসংখ্য ক্ষুদ্র অণু (মনোমার) যুক্ত হয়ে একটি বৃহৎ অণু (পলিমার) তৈরি করলে তাকে পলিমারকরণ বলে। ইথিলিন থেকে পলিথিন তৈরি এর উদাহরণ; বাজারের পলিথিন ব্যাগ এই পলিমার দিয়ে তৈরি।
মনে রাখো: আর্দ্র বিশ্লেষণে পানি বিক্রিয়ক, পানিযোজনে কেলাস পানি যুক্ত হয়, সমানুকরণে সমানু বদলায়, আর পলিমারকরণে মনোমার জুড়ে পলিমার হয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।