তুঁতে আর কস্টিক সোডা: বিক্রিয়ার শ্রেণিবিভাগ
মান বদলাও, চালাও, আর দেখো কী ঘটে।
রসায়ন ক্লাসে রুমানা একটা টেস্টটিউবে নীল তুঁতের দ্রবণ (CuSO₄) নিল, তারপর ড্রপার দিয়ে কয়েক ফোঁটা কস্টিক সোডার দ্রবণ (NaOH) দিল। দুটোই পরিষ্কার দ্রবণ, তাই তার বন্ধু বলল মিশালে শুধু নীল রং একটু হালকা হবে, আর কিছু নয়। টেস্টটিউবে আসলে কী দেখা যাবে?
তুঁতের নীল দ্রবণে কস্টিক সোডা দিলে কী দেখা যাবে?
- নীল রঙের জেলির মতো অদ্রবণীয় কঠিন (Cu(OH)₂) তৈরি হয়ে তলায় জমবে
- নীল রং কেবল একটু হালকা হবে, কারণ দুটি দ্রবণ মিশে পাতলা হয়েছে
- জোরে বুদবুদ উঠে দ্রবণ বর্ণহীন হয়ে যাবে
- তলায় লালচে তামা জমবে, কারণ সোডিয়াম তামাকে সরিয়ে দেয়
যা বদলাতে পারবে
- টেস্টটিউবে আছে: তুঁতের দ্রবণ (CuSO₄), সিলভার নাইট্রেট দ্রবণ (AgNO₃), বেরিয়াম ক্লোরাইড দ্রবণ (BaCl₂), কস্টিক সোডার দ্রবণ (NaOH)
- যা যোগ করবে: কিছুই না, একাই পরীক্ষা, কস্টিক সোডার দ্রবণ (NaOH), লবণ-পানি (NaCl), সোডিয়াম সালফেট দ্রবণ (Na₂SO₄), লঘু হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl), দস্তার দানা (Zn)
- নির্দেশক: নির্দেশক নেই, ফেনলফথ্যালিন
যা মেপে দেখাবে
- বিক্রিয়ার ধরন
- অধঃক্ষেপ
- অধঃক্ষেপের রং
- পরে মিশ্রণের রং
- জারণ-বিজারণ ঘটে?
- pH
- নির্দেশকের রং
- সমীকরণ
চালানোর সময় খেয়াল করো
- সিলভার নাইট্রেটে লবণ-পানি দাও, আর বেরিয়াম ক্লোরাইডে সোডিয়াম সালফেট। সাদা অধঃক্ষেপ দেখো।
- কস্টিক সোডায় ফেনলফথ্যালিন দিয়ে গোলাপি রং দেখো, তারপর হাইড্রোক্লোরিক এসিড যোগ করো। আর তুঁতের দ্রবণে দস্তা দিয়েও দেখো।
নিজে করে দেখো
- ফেনলফথ্যালিন দিয়ে দেখাও যে এসিড যোগ করলে কস্টিক সোডার ক্ষারত্ব পুরো প্রশমিত হয়।
ইঙ্গিত
টেস্টটিউবে কস্টিক সোডা নাও, হাইড্রোক্লোরিক এসিড যোগ করো।
- এখানে একটি জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া ঘটাও।
ইঙ্গিত
দস্তার দানা কোন দ্রবণ থেকে ধাতু সরিয়ে দিতে পারে?
- সাদা রঙের একটি অধঃক্ষেপ তৈরি করো।
ইঙ্গিত
সিলভার নাইট্রেটে লবণ-পানি দাও।
ধারণাটা কী?আগে নিজে চালিয়ে দেখো, তারপর খোলো।
অধঃক্ষেপণ, প্রশমন ও জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া
দুটি দ্রবণীয় যৌগের দ্রবণ মেশালে যদি আয়নগুলো মিলে অদ্রবণীয় যৌগ তৈরি করে, তবে তা কঠিন অধঃক্ষেপ হিসেবে তলায় জমে; একে অধঃক্ষেপণ বিক্রিয়া বলে। তুঁতে ও কস্টিক সোডায় নীল কপার হাইড্রক্সাইড, সিলভার নাইট্রেট ও লবণে সাদা সিলভার ক্লোরাইড, বেরিয়াম ক্লোরাইড ও সোডিয়াম সালফেটে সাদা বেরিয়াম সালফেট অধঃক্ষেপ পড়ে। এসিড ও ক্ষার মিলে লবণ ও পানি তৈরি হওয়া প্রশমন বিক্রিয়া: চোখে কিছু দেখা যায় না, টেস্টটিউব একটু গরম হয়, আর ফেনলফথ্যালিনের গোলাপি রং মুছে যায় কারণ pH ৭ হয়। যে বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে, যেমন দস্তা তুঁতের দ্রবণ থেকে তামাকে সরিয়ে দেয়, তা জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া। অধঃক্ষেপণ ও প্রশমনে কোনো মৌলের জারণ সংখ্যা বদলায় না।
অন্য উত্তরগুলো কেন ভুল
দুটি পরিষ্কার দ্রবণ মেশালেও নতুন অদ্রবণীয় যৌগ তৈরি হতে পারে। Cu²⁺ ও OH⁻ আয়ন মিলে Cu(OH)₂ তৈরি করে, যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না, তাই নীল অধঃক্ষেপ পড়ে।
যেসব ভুল ধারণা হয়
- দুটি পরিষ্কার দ্রবণ মেশালে শুধু দ্রবণ পাতলা হয়, নতুন পদার্থ তৈরি হয় না
- রাসায়নিক বিক্রিয়া হলেই বুদবুদ বা গ্যাস বের হয়
- কস্টিক সোডার সোডিয়াম তুঁতের দ্রবণ থেকে তামাকে প্রতিস্থাপন করে
বাস্তবে কোথায় দেখা যায়
- পানিতে লবণাক্ততা বা ক্লোরাইড আছে কি না, পরীক্ষাগারে সিলভার নাইট্রেট দিয়ে সাদা অধঃক্ষেপ দেখে বোঝা যায়।
- পেটের এসিড বেশি হলে মিল্ক অফ ম্যাগনেশিয়ার মতো ক্ষারীয় ওষুধ প্রশমন বিক্রিয়ায় তা কমায়।