offSchoolবেটা

রসায়ন · অধ্যায় ৭ · টপিক ২

রাসায়নিক বিক্রিয়ার শ্রেণিবিভাগ (অধঃক্ষেপণ, অম্ল-ক্ষার প্রশমন ও জারণ-বিজারণ)

পড়ার নোট

রাসায়নিক বিক্রিয়াকে কয়েকভাবে ভাগ করা যায়: দিক অনুযায়ী একমুখী ও উভমুখী, তাপের পরিবর্তন অনুযায়ী তাপ উৎপাদী ও তাপহারী, আর ইলেকট্রন স্থানান্তর অনুযায়ী রেডক্স ও ননরেডক্স। এখানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ধরন দেখি।

১. এসিড-ক্ষারক প্রশমন বিক্রিয়া: এসিড ও ক্ষারক পরস্পরকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি তৈরি করে।

HCl(aq)+NaOH(aq)⟶NaCl(aq)+H2O(l)\mathrm{HCl(aq)+NaOH(aq)\longrightarrow NaCl(aq)+H_2O(l)}

এসিড দেয় H+\mathrm{H^+}, ক্ষারক দেয় OH−\mathrm{OH^-}, আর এরা মিলে পানি হয়: H++OH−⟶H2O\mathrm{H^+ + OH^- \longrightarrow H_2O}। Na+\mathrm{Na^+} ও Cl−\mathrm{Cl^-} বিক্রিয়ায় অংশ নেয় না। প্রশমন বিক্রিয়া সবসময় তাপ উৎপাদী; সবল এসিড ও সবল ক্ষারকের বিক্রিয়ায় 11 mol পানি তৈরিতে 57.3457.34 kJ তাপ নির্গত হয়, যাকে প্রশমন তাপ বলে।

২. অধঃক্ষেপণ বিক্রিয়া: দুটি দ্রবণীয় যৌগ মেশালে যে নতুন যৌগ কঠিন হিসেবে পাত্রের তলায় জমে, তাকে অধঃক্ষেপ বলে; এমন বিক্রিয়া অধঃক্ষেপণ বিক্রিয়া। অধঃক্ষেপের ডানে ↓\downarrow চিহ্ন দেওয়া হয়।

NaCl(aq)+AgNO3(aq)⟶AgCl(s)↓+NaNO3(aq)\mathrm{NaCl(aq)+AgNO_3(aq)\longrightarrow AgCl(s)\downarrow+NaNO_3(aq)}

NaNO3\mathrm{NaNO_3} পানিতে খুব দ্রবণীয় বলে দ্রবণে থাকে, কিন্তু AgCl\mathrm{AgCl} সামান্য দ্রবণীয় বলে সাদা অধঃক্ষেপ পড়ে। একইভাবে FeSO4\mathrm{FeSO_4} দ্রবণে NaOH\mathrm{NaOH} ফোঁটা ফোঁটা দিলে সবুজ Fe(OH)2\mathrm{Fe(OH)_2} অধঃক্ষেপ পড়ে।

৩. জারণ-বিজারণ বা রেডক্স বিক্রিয়া: যে বিক্রিয়ায় একটি বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দেয় এবং অন্যটি তা গ্রহণ করে। যেমন Na+12Cl2⟶NaCl\mathrm{Na+\frac{1}{2}Cl_2\longrightarrow NaCl} এবং দহন বিক্রিয়া।

প্রশমন ও সাধারণ অধঃক্ষেপণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের আদান-প্রদান হয় না, কোনো বিক্রিয়কের জারণ সংখ্যাও বদলায় না; তাই এগুলো ননরেডক্স।

উদাহরণ: Na2SO4(aq)+BaCl2(aq)⟶BaSO4(s)↓+2NaCl(aq)\mathrm{Na_2SO_4(aq)+BaCl_2(aq)\longrightarrow BaSO_4(s)\downarrow+2NaCl(aq)} বিক্রিয়ায় সাদা কঠিন BaSO4\mathrm{BaSO_4} জমে, তাই এটি অধঃক্ষেপণ বিক্রিয়া এবং ননরেডক্স।

সাধারণ ভুল হলো তাপ নির্গত হতে দেখলেই বিক্রিয়াকে রেডক্স ধরা। প্রশমন বিক্রিয়াও তাপ উৎপাদী, কিন্তু এতে ইলেকট্রন স্থানান্তর নেই।

মনে রাখো: প্রশমনে H+\mathrm{H^+} ও OH−\mathrm{OH^-} মিলে পানি হয়, অধঃক্ষেপণে অদ্রবণীয় কঠিন জমে, আর রেডক্সে ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • গ্যাসের চুলায় মিথেনের দহন ও সমতাকরণচালিয়ে দেখো

    রান্নার গ্যাসের চুলায় প্রধান উপাদান মিথেন গ্যাস (CH₄) বাতাসের অক্সিজেনে (O₂) পুড়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂), জলীয় বাষ্প (H₂O) ও তাপশক্তি তৈরি করে। ১টি মিথেন অণুতে ১টি কার্বন ও ৪টি হাইড্রোজেন পরমাণু থাকে, যা সম্পূর্ণ পুড়ে ১টি CO₂ তৈরি করে। রাসায়নিক বিক্রিয়ায় কোনো পরমাণু ধ্বংস বা সৃষ্টি হতে পারে না। উভয় পাশে পরমাণুর সংখ্যা সমান রাখতে কতটি O₂ অণু লাগবে এবং কতটি H₂O অণু উৎপন্ন হবে?

  • তুঁতে আর কস্টিক সোডা: বিক্রিয়ার শ্রেণিবিভাগচালিয়ে দেখো

    রসায়ন ক্লাসে রুমানা একটা টেস্টটিউবে নীল তুঁতের দ্রবণ (CuSO₄) নিল, তারপর ড্রপার দিয়ে কয়েক ফোঁটা কস্টিক সোডার দ্রবণ (NaOH) দিল। দুটোই পরিষ্কার দ্রবণ, তাই তার বন্ধু বলল মিশালে শুধু নীল রং একটু হালকা হবে, আর কিছু নয়। টেস্টটিউবে আসলে কী দেখা যাবে?

এই টপিকের পার্থক্য

এই টপিকের গাইড

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. তিতাস গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে বাসা-বাড়ির রান্নায় সরবরাহকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান হলো মিথেন (CH₄)। রান্নার চুলায় মিথেনের সম্পূর্ণ দহন বিক্রিয়াটির সমতাকৃত সমীকরণ হলো: CH₄(g) + x O₂(g) → CO₂(g) + y H₂O(g) ভরের নিত্যতা সূত্র ও পরমাণুর সংখ্যা অপরিবর্তিত রাখার জন্য সমতাকৃত সমীকরণে x এবং y এর মান যথাক্রমে কত হবে?

    1. ক

      x = ১, y = ২

    2. খ

      x = ২, y = ২

    3. গ

      x = ২, y = ১

    4. ঘ

      x = ৪, y = ২

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    খ) x = ২, y = ২

    1. CH₄ অণুতে ৪টি হাইড্রোজেন (H) পরমাণু রয়েছে। উৎপাদ পাশে প্রতি H₂O অণুতে ২টি করে H পরমাণু থাকায় হাইড্রোজেন সমতা করতে H₂O এর সহগ y = ২ হতে হবে (২ × ২ = ৪টি H)।
    y=2  ⟹  4 H on both sidesy = 2 \implies 4\text{ H on both sides}
    1. উৎপাদ পাশে ১টি CO₂ এ ২টি অক্সিজেন এবং ২টি H₂O এ ২টি অক্সিজেন, মোট ৪টি অক্সিজেন পরমাণু রয়েছে। বিক্রিয়ক পাশে O₂ অণুর সংখ্যা x = ৪ ÷ ২ = ২ হতে হবে। সুতরাং x = ২ এবং y = ২।
    2x=2+2=4  ⟹  x=22x = 2 + 2 = 4 \implies x = 2
  2. নরসিংদীর ঘোড়াশাল সার কারখানায় হেবার পদ্ধতিতে নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেন গ্যাসের সংযোগে অ্যামোনিয়া গ্যাস উৎপাদনকালে সংঘটিত বিক্রিয়াটি হলো: N₂(g) + 3H₂(g) ⇌ 2NH₃(g); ΔH = −৯২ kJ সমীকরণ অনুসারে ঠিক ২ মোল অ্যামোনিয়া গ্যাস উৎপাদনে মোট ৯২ kJ তাপ শক্তি নির্গত হয়। ওই কারখানায় ঠিক ১ মোল অ্যামোনিয়া (NH₃) গ্যাস উৎপাদিত হলে কত কিলোজুল (kJ) তাপ শক্তি নির্গত হবে? (সূত্র: ১ মোল NH₃ উৎপাদনে নির্গত তাপ = মোট নির্গত তাপ ÷ উৎপাদিত NH₃-এর মোল সংখ্যা)।

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ৪৬ kJ

    1. সমতাকৃত রাসায়নিক সমীকরণ অনুসারে ২ মোল NH₃ গ্যাস উৎপন্ন হলে নির্গত মোট তাপশক্তি = ৯২ kJ।
    Qtotal=92 kJ,nNH3=2 molQ_{\text{total}} = 92\text{ kJ}, \quad n_{\text{NH}_3} = 2\text{ mol}
    1. ১ মোল NH₃ গ্যাস উৎপাদনে নির্গত তাপশক্তি = ৯২ kJ ÷ ২ = ৪৬ kJ।
    Q=92 kJ2=46 kJQ = \frac{92\text{ kJ}}{2} = 46\text{ kJ}

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো