পড়ার নোট
রাসায়নিক বিক্রিয়াকে কয়েকভাবে ভাগ করা যায়: দিক অনুযায়ী একমুখী ও উভমুখী, তাপের পরিবর্তন অনুযায়ী তাপ উৎপাদী ও তাপহারী, আর ইলেকট্রন স্থানান্তর অনুযায়ী রেডক্স ও ননরেডক্স। এখানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ধরন দেখি।
১. এসিড-ক্ষারক প্রশমন বিক্রিয়া: এসিড ও ক্ষারক পরস্পরকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি তৈরি করে।
এসিড দেয় , ক্ষারক দেয় , আর এরা মিলে পানি হয়: । ও বিক্রিয়ায় অংশ নেয় না। প্রশমন বিক্রিয়া সবসময় তাপ উৎপাদী; সবল এসিড ও সবল ক্ষারকের বিক্রিয়ায় mol পানি তৈরিতে kJ তাপ নির্গত হয়, যাকে প্রশমন তাপ বলে।
২. অধঃক্ষেপণ বিক্রিয়া: দুটি দ্রবণীয় যৌগ মেশালে যে নতুন যৌগ কঠিন হিসেবে পাত্রের তলায় জমে, তাকে অধঃক্ষেপ বলে; এমন বিক্রিয়া অধঃক্ষেপণ বিক্রিয়া। অধঃক্ষেপের ডানে চিহ্ন দেওয়া হয়।
পানিতে খুব দ্রবণীয় বলে দ্রবণে থাকে, কিন্তু সামান্য দ্রবণীয় বলে সাদা অধঃক্ষেপ পড়ে। একইভাবে দ্রবণে ফোঁটা ফোঁটা দিলে সবুজ অধঃক্ষেপ পড়ে।
৩. জারণ-বিজারণ বা রেডক্স বিক্রিয়া: যে বিক্রিয়ায় একটি বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দেয় এবং অন্যটি তা গ্রহণ করে। যেমন এবং দহন বিক্রিয়া।
প্রশমন ও সাধারণ অধঃক্ষেপণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের আদান-প্রদান হয় না, কোনো বিক্রিয়কের জারণ সংখ্যাও বদলায় না; তাই এগুলো ননরেডক্স।
উদাহরণ: বিক্রিয়ায় সাদা কঠিন জমে, তাই এটি অধঃক্ষেপণ বিক্রিয়া এবং ননরেডক্স।
সাধারণ ভুল হলো তাপ নির্গত হতে দেখলেই বিক্রিয়াকে রেডক্স ধরা। প্রশমন বিক্রিয়াও তাপ উৎপাদী, কিন্তু এতে ইলেকট্রন স্থানান্তর নেই।
মনে রাখো: প্রশমনে ও মিলে পানি হয়, অধঃক্ষেপণে অদ্রবণীয় কঠিন জমে, আর রেডক্সে ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।