offSchoolবেটা

রসায়ন · অধ্যায় ৭ · টপিক ১

ভৌত পরিবর্তন ও রাসায়নিক পরিবর্তন

  • ভৌত পরিবর্তন ও রাসায়নিক পরিবর্তনের বৈশিষ্ট্য

পড়ার নোট

প্রকৃতির পদার্থ তাপ, চাপ বা অন্য পদার্থের সংস্পর্শে বদলায়। এই পরিবর্তন দুই রকম: ভৌত ও রাসায়নিক।

ভৌত পরিবর্তন: পদার্থের রাসায়নিক গঠন অপরিবর্তিত রেখে তার অবস্থা, আকার বা আকৃতির পরিবর্তনকে ভৌত পরিবর্তন বলে। কক্ষ তাপমাত্রায় বরফ তাপ শোষণ করে গলে পানি হয়, আর পানিকে 100 ∘C100\,^{\circ}\mathrm{C} এ গরম করলে জলীয় বাষ্প হয়। বরফ, পানি ও বাষ্প তিনটিরই আণবিক সংকেত H2O\mathrm{H_2O}; প্রতিটি অণুতে দুটি হাইড্রোজেন ও একটি অক্সিজেন পরমাণু। শুধু অবস্থা ভিন্ন: কঠিন, তরল ও গ্যাস।

রাসায়নিক পরিবর্তন: তাপমাত্রা, চাপ বা অন্য পদার্থের সংস্পর্শে কোনো পদার্থ সম্পূর্ণ নতুন ধর্মের নতুন পদার্থে পরিণত হলে তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে। এতে পুরোনো বন্ধন ভেঙে আলাদা পরমাণু বা আয়ন তৈরি হয়, তারপর এরা নিজেদের মধ্যে নতুন বন্ধন গড়ে নতুন অণু তৈরি করে। রান্নার গ্যাসের মিথেন অক্সিজেনে পুড়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প ও তাপ তৈরি করে। আবার

CaCO3(s)+2HCl(aq)⟶CaCl2(aq)+CO2(g)+H2O(l)\mathrm{CaCO_3(s)+2HCl(aq)\longrightarrow CaCl_2(aq)+CO_2(g)+H_2O(l)}

এখানে ক্যালসিয়াম কার্বনেট ও হাইড্রোক্লোরিক এসিড থেকে সম্পূর্ণ নতুন পদার্থ তৈরি হয়েছে।

পার্থক্য বোঝার উপায়: নতুন পদার্থ তৈরি না হয়ে শুধু ভৌত ধর্ম বদলালে ভৌত পরিবর্তন; নতুন ধর্মের নতুন পদার্থ তৈরি হলে রাসায়নিক পরিবর্তন। আণবিক সংকেত একই থাকলেও রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটতে পারে।

উদাহরণ: খোলা জায়গায় রাখা লোহার দা-তে মরিচা পড়ে। লোহা (Fe\mathrm{Fe}) বাতাসের অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের সঙ্গে বিক্রিয়া করে মরিচা (Fe2O3⋅nH2O\mathrm{Fe_2O_3\cdot}n\mathrm{H_2O}) তৈরি করে, যার ধর্ম লোহা থেকে আলাদা; তাই এটি রাসায়নিক পরিবর্তন। অন্যদিকে চায়ের কাপে বরফ গলে যাওয়া ভৌত পরিবর্তন, কারণ পানি পানিই থাকে।

সাধারণ ভুল হলো শুধু "আবার আগের অবস্থায় ফেরানো যায় কি না" দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া। একটি কাচের গ্লাস ভেঙে গেলে জোড়া লাগানো না গেলেও কাচ কাচই থাকে, তাই এটি ভৌত পরিবর্তন। আসল প্রশ্ন হলো নতুন পদার্থ তৈরি হয়েছে কি না।

মনে রাখো: ভৌত পরিবর্তনে অবস্থা, আকার বা আকৃতি বদলাতে পারে, কিন্তু রাসায়নিক গঠন অপরিবর্তিত থাকে; রাসায়নিক পরিবর্তনে পুরোনো বন্ধন ভেঙে নতুন বন্ধন গড়ে নতুন ধর্মের পদার্থ তৈরি হয়।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • গলে যাওয়া না পুড়ে যাওয়া: ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তনচালিয়ে দেখো

    শীতের সকালে নাদিয়া চুলায় একটা কড়াইতে বরফ রাখল, আরেকটায় একটু চিনি। বরফ গলে পানি হলো, আর চিনি প্রথমে গলে বাদামি, তারপর কালো হয়ে গেল, সঙ্গে ধোঁয়ার মতো বাষ্প। নাদিয়ার মনে হলো, দুটোই তো তাপে গলেছে, তাই দুটোই একই ধরনের পরিবর্তন। টেস্টটিউবে তাপ দিয়ে দেখো: কোনটিতে নতুন পদার্থ তৈরি হয়?

এই টপিকের পার্থক্য

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় রাজবাড়ীর এক শিক্ষার্থী পড়ার টেবিলে একটি মোমবাতি জ্বালাল। মোমবাতি জ্বলার সময় শিখার তাপে কঠিন মোম গলে তরলে পরিণত হয় এবং গলিত মোমের কিছু অংশ সলতের সাহায্যে শিখায় এসে বাতাসের অক্সিজেনে পুড়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) ও জলীয় বাষ্প (H₂O) উৎপন্ন করে। মোমবাতির জ্বলনে ভৌত পরিবর্তন (physical change) ও রাসায়নিক পরিবর্তনের (chemical change) বিষয়ে কোন উক্তিটি সঠিক?

    1. ক

      মোমের গলন একটি ভৌত পরিবর্তন এবং মোমের দহন একটি রাসায়নিক পরিবর্তন

    2. খ

      মোমের গলন একটি রাসায়নিক পরিবর্তন এবং দহন একটি ভৌত পরিবর্তন

    3. গ

      মোমের গলন ও দহন উভয়ই কেবল ভৌত পরিবর্তন

    4. ঘ

      মোমের গলন ও দহন উভয়ই সম্পূর্ণ রাসায়নিক পরিবর্তন

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) মোমের গলন একটি ভৌত পরিবর্তন এবং মোমের দহন একটি রাসায়নিক পরিবর্তন

    1. শিখার তাপে কঠিন মোম গলে তরলে পরিণত হওয়া একটি ভৌত পরিবর্তন, কারণ এখানে মোমের রাসায়নিক গঠনের কোনো রূপান্তর ঘটে না এবং ঠান্ডা করলে তা পুনরায় কঠিন মোমে ফিরে আসে।
    2. সলতের সাহায্যে শিখায় এসে গলিত মোম বাতাসের অক্সিজেনে পুড়ে সম্পূর্ণ নতুন ধর্মবিশিষ্ট কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) ও জলীয় বাষ্প (H₂O) উৎপন্ন করে, যা একটি স্থায়ী রাসায়নিক পরিবর্তন। ফলে মোমবাতির জ্বলনে ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তন যুগপৎ ঘটে।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো