offSchoolবেটা

রসায়ন · রাসায়নিক বিক্রিয়া

ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তনের পার্থক্য

সর্বশেষ হালনাগাদ ২২ অক্টোবর ২০২৬

সংক্ষেপে

ভৌত পরিবর্তনে পদার্থের আকার, আকৃতি বা অবস্থা বদলায়, কিন্তু কোনো নতুন পদার্থ তৈরি হয় না, আর পরিবর্তনটি সাধারণত সহজে উল্টানো যায়; যেমন বরফ গলা, লবণ পানিতে দ্রবীভূত হওয়া। রাসায়নিক পরিবর্তনে পদার্থের গঠন বদলে সম্পূর্ণ নতুন ধর্মের পদার্থ তৈরি হয়, প্রায়ই তাপ, আলো বা গ্যাস নির্গত হয়, আর সহজে উল্টানো যায় না; যেমন লোহায় মরিচা পড়া, কাঠ পোড়া।

ভৌত পরিবর্তন ও রাসায়নিক পরিবর্তন: পার্থক্যের ছক
তুলনার বিষয়ভৌত পরিবর্তনরাসায়নিক পরিবর্তন
নতুন পদার্থ

তৈরি হয় না

তৈরি হয়

উল্টানো যায় কি না

সাধারণত সহজে উল্টানো যায়

সাধারণত উল্টানো যায় না

অণুর গঠন

অপরিবর্তিত থাকে

বদলে যায়; পুরোনো বন্ধন ভেঙে নতুন বন্ধন হয়

যা বদলায়

আকার, আকৃতি বা অবস্থা

রং, গন্ধ, স্বাদের মতো মৌলিক ধর্ম

শক্তির পরিবর্তন

সাধারণত সামান্য

প্রায়ই তাপ, আলো বা শব্দ নির্গত বা শোষিত হয়

উদাহরণ

বরফ গলা, পানি ফোটা, লবণ দ্রবীভূত হওয়া, কাগজ কাটা, মোম গলা

লোহায় মরিচা পড়া, কাঠ বা মোম পোড়া, দুধ থেকে দই হওয়া, ভাত রান্না

ভৌত পরিবর্তন

যে পরিবর্তনে পদার্থের শুধু বাহ্যিক রূপ বা অবস্থা বদলায়, কিন্তু অণুর গঠন একই থাকে এবং নতুন কোনো পদার্থ তৈরি হয় না, তাকে ভৌত পরিবর্তন বলে। বরফ গলে পানি হলেও তা H2OH_2O-ই থাকে; ঠান্ডা করলে আবার বরফ হয়।

রাসায়নিক পরিবর্তন

যে পরিবর্তনে পদার্থের অণুর গঠন বদলে যায় এবং সম্পূর্ণ নতুন ধর্মের পদার্থ তৈরি হয়, তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে। লোহায় মরিচা পড়লে লোহা আর অক্সিজেন ও পানি মিলে আয়রন অক্সাইড হয়, যার রং ও ধর্ম সবই আলাদা; সেই মরিচা থেকে সহজে আর লোহা ফেরত পাওয়া যায় না।

মোম: একই জিনিসে দুটি

জ্বলন্ত মোমবাতিতে দুই রকম পরিবর্তনই ঘটে। শিখার তাপে মোম গলে তরল হয়, আবার ঠান্ডা হয়ে জমে যায়: এটি ভৌত পরিবর্তন। কিন্তু সলতের কাছে মোমের বাষ্প পুড়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি হয়, সঙ্গে আলো ও তাপ: এটি রাসায়নিক পরিবর্তন, কারণ পোড়া মোম আর ফিরে পাওয়া যায় না।

রাসায়নিক পরিবর্তন চেনার লক্ষণ

  • রং বদলে যাওয়া (কাটা আপেল বাদামি হওয়া)
  • গ্যাসের বুদবুদ ওঠা (ডিমের খোসা ভিনেগারে)
  • তাপ বা আলো বের হওয়া (দেশলাই জ্বালানো)
  • অধঃক্ষেপ পড়া বা নতুন গন্ধ তৈরি হওয়া

সাধারণ ভুল

  • লবণ পানিতে দ্রবীভূত হওয়াকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলা। পানি বাষ্পীভূত করলে লবণ ফেরত পাওয়া যায়, তাই এটি ভৌত পরিবর্তন।
  • পানি ফোটাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলা। জলীয় বাষ্পও H2OH_2O, তাই এটি ভৌত।

পরীক্ষায় যেভাবে লিখবে

"ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তনের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো" এলে নতুন পদার্থ তৈরি হয় কি না, আর আগের অবস্থায় ফেরানো যায় কি না, তা দিয়ে লেখো:

ভৌত পরিবর্তনরাসায়নিক পরিবর্তন
১. নতুন পদার্থ তৈরি হয় না।১. নতুন পদার্থ তৈরি হয়।
২. সাধারণত সহজে উল্টানো যায়।২. সাধারণত উল্টানো যায় না।

উদ্দীপকে কয়েকটি ঘটনা দিয়ে কোনটি কোন পরিবর্তন জানতে চাইলে প্রতিটির জন্য নিজেকে জিজ্ঞেস করো: "নতুন পদার্থ হয়েছে কি? আগেরটা ফেরত পাওয়া যাবে কি?" মোমবাতি থাকলে দুটি পরিবর্তনই উল্লেখ করো।

নিজে চালিয়ে দেখো

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় রাজবাড়ীর এক শিক্ষার্থী পড়ার টেবিলে একটি মোমবাতি জ্বালাল। মোমবাতি জ্বলার সময় শিখার তাপে কঠিন মোম গলে তরলে পরিণত হয় এবং গলিত মোমের কিছু অংশ সলতের সাহায্যে শিখায় এসে বাতাসের অক্সিজেনে পুড়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) ও জলীয় বাষ্প (H₂O) উৎপন্ন করে। মোমবাতির জ্বলনে ভৌত পরিবর্তন (physical change) ও রাসায়নিক পরিবর্তনের (chemical change) বিষয়ে কোন উক্তিটি সঠিক?

    1. ক

      মোমের গলন একটি ভৌত পরিবর্তন এবং মোমের দহন একটি রাসায়নিক পরিবর্তন

    2. খ

      মোমের গলন একটি রাসায়নিক পরিবর্তন এবং দহন একটি ভৌত পরিবর্তন

    3. গ

      মোমের গলন ও দহন উভয়ই কেবল ভৌত পরিবর্তন

    4. ঘ

      মোমের গলন ও দহন উভয়ই সম্পূর্ণ রাসায়নিক পরিবর্তন

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) মোমের গলন একটি ভৌত পরিবর্তন এবং মোমের দহন একটি রাসায়নিক পরিবর্তন

    1. শিখার তাপে কঠিন মোম গলে তরলে পরিণত হওয়া একটি ভৌত পরিবর্তন, কারণ এখানে মোমের রাসায়নিক গঠনের কোনো রূপান্তর ঘটে না এবং ঠান্ডা করলে তা পুনরায় কঠিন মোমে ফিরে আসে।
    2. সলতের সাহায্যে শিখায় এসে গলিত মোম বাতাসের অক্সিজেনে পুড়ে সম্পূর্ণ নতুন ধর্মবিশিষ্ট কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) ও জলীয় বাষ্প (H₂O) উৎপন্ন করে, যা একটি স্থায়ী রাসায়নিক পরিবর্তন। ফলে মোমবাতির জ্বলনে ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তন যুগপৎ ঘটে।
  2. তিতাস গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে বাসা-বাড়ির রান্নায় সরবরাহকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান হলো মিথেন (CH₄)। রান্নার চুলায় মিথেনের সম্পূর্ণ দহন বিক্রিয়াটির সমতাকৃত সমীকরণ হলো: CH₄(g) + x O₂(g) → CO₂(g) + y H₂O(g) ভরের নিত্যতা সূত্র ও পরমাণুর সংখ্যা অপরিবর্তিত রাখার জন্য সমতাকৃত সমীকরণে x এবং y এর মান যথাক্রমে কত হবে?

    1. ক

      x = ১, y = ২

    2. খ

      x = ২, y = ২

    3. গ

      x = ২, y = ১

    4. ঘ

      x = ৪, y = ২

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    খ) x = ২, y = ২

    1. CH₄ অণুতে ৪টি হাইড্রোজেন (H) পরমাণু রয়েছে। উৎপাদ পাশে প্রতি H₂O অণুতে ২টি করে H পরমাণু থাকায় হাইড্রোজেন সমতা করতে H₂O এর সহগ y = ২ হতে হবে (২ × ২ = ৪টি H)।
    y=2  ⟹  4 H on both sidesy = 2 \implies 4\text{ H on both sides}
    1. উৎপাদ পাশে ১টি CO₂ এ ২টি অক্সিজেন এবং ২টি H₂O এ ২টি অক্সিজেন, মোট ৪টি অক্সিজেন পরমাণু রয়েছে। বিক্রিয়ক পাশে O₂ অণুর সংখ্যা x = ৪ ÷ ২ = ২ হতে হবে। সুতরাং x = ২ এবং y = ২।
    2x=2+2=4  ⟹  x=22x = 2 + 2 = 4 \implies x = 2
  3. নরসিংদীর ঘোড়াশাল সার কারখানায় হেবার পদ্ধতিতে নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেন গ্যাসের সংযোগে অ্যামোনিয়া গ্যাস উৎপাদনকালে সংঘটিত বিক্রিয়াটি হলো: N₂(g) + 3H₂(g) ⇌ 2NH₃(g); ΔH = −৯২ kJ সমীকরণ অনুসারে ঠিক ২ মোল অ্যামোনিয়া গ্যাস উৎপাদনে মোট ৯২ kJ তাপ শক্তি নির্গত হয়। ওই কারখানায় ঠিক ১ মোল অ্যামোনিয়া (NH₃) গ্যাস উৎপাদিত হলে কত কিলোজুল (kJ) তাপ শক্তি নির্গত হবে? (সূত্র: ১ মোল NH₃ উৎপাদনে নির্গত তাপ = মোট নির্গত তাপ ÷ উৎপাদিত NH₃-এর মোল সংখ্যা)।

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ৪৬ kJ

    1. সমতাকৃত রাসায়নিক সমীকরণ অনুসারে ২ মোল NH₃ গ্যাস উৎপন্ন হলে নির্গত মোট তাপশক্তি = ৯২ kJ।
    Qtotal=92 kJ,nNH3=2 molQ_{\text{total}} = 92\text{ kJ}, \quad n_{\text{NH}_3} = 2\text{ mol}
    1. ১ মোল NH₃ গ্যাস উৎপাদনে নির্গত তাপশক্তি = ৯২ kJ ÷ ২ = ৪৬ kJ।
    Q=92 kJ2=46 kJQ = \frac{92\text{ kJ}}{2} = 46\text{ kJ}

প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

মোমবাতি জ্বলা ভৌত না রাসায়নিক পরিবর্তন?

দুটিই। মোম গলা ভৌত পরিবর্তন, আর মোমের বাষ্প পুড়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি হওয়া রাসায়নিক পরিবর্তন।

লোহায় মরিচা পড়া কোন ধরনের পরিবর্তন?

রাসায়নিক পরিবর্তন, কারণ নতুন পদার্থ আয়রন অক্সাইড তৈরি হয় এবং সহজে আর লোহা ফেরত পাওয়া যায় না।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো