যোজনী
অণু গঠনের সময় একটি মৌলের পরমাণু অন্য মৌলের পরমাণুর সাথে যুক্ত হওয়ার যে ক্ষমতা দেখায়, তা যোজনী বা যোজ্যতা। হাইড্রোজেনের যোজনী ১ ধরে মাপা হয়: -তে একটি অক্সিজেন দুটি হাইড্রোজেনের সাথে যুক্ত, তাই অক্সিজেনের যোজনী ২। যোজনী দিয়ে আমরা যৌগের সংকেত লিখি; যেমন ক্যালসিয়াম (২) আর ক্লোরিন (১) মিলে ।
জারণ সংখ্যা
যৌগে কোনো পরমাণু কতটি ইলেকট্রন ত্যাগ বা গ্রহণ করেছে বলে ধরা হয়, তা-ই জারণ সংখ্যা; ত্যাগ করলে ধনাত্মক, গ্রহণ করলে ঋণাত্মক। কয়েকটি নিয়ম মনে রাখো: মুক্ত মৌলে জারণ সংখ্যা শূন্য; যৌগে হাইড্রোজেন সাধারণত , অক্সিজেন ; আর নিরপেক্ষ যৌগে সব জারণ সংখ্যার যোগফল শূন্য।
জারণ সংখ্যা ও যোজনী এক নয় কেন
কার্বনের যোজনী মিথেনে () আর কার্বন ডাই-অক্সাইডে () দুটিতেই ৪, কারণ দুই ক্ষেত্রেই কার্বন চারটি বন্ধন গঠন করেছে। কিন্তু জারণ সংখ্যা:
- -এ: , তাই
- -এ: , তাই
একই যোজনী, অথচ জারণ সংখ্যা সম্পূর্ণ উল্টো। যোজনী শুধু বলে কয়টি বন্ধন; জারণ সংখ্যা বলে ইলেকট্রন কোন দিকে সরেছে।
সাধারণ ভুল
- যোজনীতে চিহ্ন বসানো। যোজনী শুধু একটি সংখ্যা; চিহ্ন থাকে জারণ সংখ্যায়।
- মুক্ত মৌলের জারণ সংখ্যা তার যোজনীর সমান ধরা। মুক্ত মৌলে, যেমন -তে, জারণ সংখ্যা শূন্য।