কোনো যৌগের অণুকে মৌল বা যৌগমূলকের প্রতীক ও পরমাণুর সংখ্যা দিয়ে প্রকাশ করাই যৌগের রাসায়নিক সংকেত। সংখ্যা সংকেতের নিচে ডান পাশে ছোট করে লেখা হয়। যেমন পানির সংকেত H2O।
নিয়মগুলো:
মৌলের অণু: পরমাণুর সংখ্যা প্রতীকের নিচে ডানে লিখতে হয়, যেমন নাইট্রোজেন N2, ওজোন O3। ধাতু ও নিষ্ক্রিয় গ্যাস অণু গঠন করে না, তাই শুধু প্রতীক: Fe, He।
যোজনীর কোনো সাধারণ উৎপাদক না থাকলে: দুই মৌলের প্রতীক পাশাপাশি লিখে প্রতিটির নিচে অন্যটির যোজনী বসাও। ১ লেখা হয় না। যেমন Al (৩) ও O (২) থেকে Al2O3; Ca (২) ও Cl (১) থেকে CaCl2।
যৌগমূলক একের বেশি হলে: মূলকটি বন্ধনীর মধ্যে রেখে বাইরে সংখ্যা লেখো। Mg (২) ও ফসফেট (৩) থেকে Mg3(PO4)2; অ্যালুমিনিয়াম সালফেট Al2(SO4)3।
যোজনী দুটির সাধারণ উৎপাদক থাকলে: সেই সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে ভাগফল লেখো। C (৪) ও O (২) কে ২ দিয়ে ভাগ করলে ২ ও ১, তাই CO2। Fe (২) ও SO4 (২) থেকে FeSO4।
উদাহরণ: ক্যালসিয়াম ও ফসফেটের যৌগ। Ca এর যোজনী ২, PO4 এর ৩। ২ ও ৩ এর কোনো সাধারণ উৎপাদক নেই, তাই Ca এর পাশে ৩ এবং PO4 এর পাশে ২ বসে। ফসফেট একাধিক বলে বন্ধনী লাগে: Ca3(PO4)2। যাচাই: ধনাত্মক আধান 3×2=6, ঋণাত্মক 2×3=6, সমান।
মনে রাখো: দুই মৌলের যোজনী একে অপরের সংখ্যা হিসেবে বসে (সাধারণ উৎপাদক থাকলে ভাগ করে নিতে হয়), এবং একাধিক যৌগমূলক বন্ধনীতে লিখতে হয়।
আমাদের রান্নাঘরের ভাতের প্রেশার কুকার সাধারণত অ্যালুমিনিয়াম ধাতু দিয়ে তৈরি। বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে কুকারের গায়ে অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের একটি পাতলা ও অত্যন্ত শক্ত প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি হয়, যা ভেতরের ধাতুকে ক্ষয় হতে দেয় না। অ্যালুমিনিয়ামের (Al) যোজনী ৩ এবং অক্সিজেনের (O) যোজনী ২। পরমাণুর যোজনী বিনিময়ের নিয়ম অনুযায়ী এই অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের সঠিক রাসায়নিক সংকেত কী হবে?