পড়ার নোট
কোনো মৌল বা যৌগের একটি অণুতে কোন মৌলের কতটি পরমাণু আছে, তা প্রতীক ও সংখ্যা দিয়ে প্রকাশ করাকে আণবিক সংকেত বা রাসায়নিক সংকেত বলে। প্রোপেনের আণবিক সংকেত । অর্থাৎ একটি প্রোপেন অণুতে ৩টি কার্বন ও ৮টি হাইড্রোজেন পরমাণু থাকে। নিচের ছোট সংখ্যাটি তার ঠিক আগের মৌলের পরমাণুসংখ্যা বোঝায়। সংখ্যা না থাকলে একটি পরমাণু বুঝতে হয়।
অণুর পরমাণুগুলো কীভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তা প্রতীক ও বন্ধনের সাহায্যে প্রকাশ করাকে গাঠনিক সংকেত বলে। এতে পরমাণুর ধরন ও সংখ্যার পাশাপাশি তাদের সংযোগও জানা যায়। বন্ধন বোঝাতে ব্যবহৃত প্রতিটি রেখা এখানে একটি সমযোজী বন্ধন নির্দেশ করে। তাই শুধু পরমাণু গুনলেই গাঠনিক সংকেত সম্পূর্ণ বোঝা হয় না; কোন পরমাণু কার সঙ্গে যুক্ত, সেটিও দেখতে হয়।
বাংলাদেশের অনেক বাড়িতে রান্নার জন্য ব্যবহৃত এলপিজির একটি উপাদান প্রোপেন। এর গঠন ধাপে ধাপে বোঝো:
- প্রথমে তিনটি কার্বন পরমাণুকে একটি শিকলে যুক্ত করো। এতে দুটি কার্বন–কার্বন বন্ধন হয়।
- দুই প্রান্তের প্রতিটি কার্বনের একটি যোজনী পাশের কার্বনের সঙ্গে বন্ধনে ব্যবহৃত হয়। বাকি তিনটি যোজনী পূরণে প্রতিটির সঙ্গে তিনটি হাইড্রোজেন যুক্ত হয়।
- মাঝের কার্বনের দুটি যোজনী দুই পাশের কার্বনের সঙ্গে ব্যবহৃত হয়। তাই এর সঙ্গে দুটি হাইড্রোজেন যুক্ত হয়।
- মোট হাইড্রোজেন টি। প্রতিটি কার্বনের চারটি এবং প্রতিটি হাইড্রোজেনের একটি বন্ধন থাকে।
এই সংযোগ সংক্ষেপে দিয়ে প্রকাশ করা যায়; মাঝের রেখা দুটি কার্বন–কার্বন বন্ধন বোঝায়। পানির আণবিক সংকেত এবং গাঠনিক সংকেত । এতে অক্সিজেনের সঙ্গে দুটি হাইড্রোজেন যুক্ত। মিথেনের আণবিক সংকেত ; এর গঠনে একটি কার্বন চারটি হাইড্রোজেনের সঙ্গে চারটি পৃথক বন্ধনে যুক্ত থাকে। এখানে C, H ও O যথাক্রমে কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের প্রতীক; এসব প্রতীকের SI একক নেই। পরমাণুর সংখ্যাও এককবিহীন।
আরেকটি গণনায় ৫টি প্রোপেন অণু ধরো। প্রথমে একটি অণুর পরমাণুর সংখ্যা হিসাব করো। তারপর কার্বন পরমাণু টি এবং হাইড্রোজেন পরমাণু টি পাও। অণুর সংখ্যা বাড়লেও প্রতিটি অণুর সংকেত একই থাকে।
সাধারণ ভুল হলো প্রোপেনের মাঝের কার্বনেও তিনটি হাইড্রোজেন বসানো। তাতে ওই কার্বনের পাঁচটি বন্ধন হয়ে যায়। প্রতিটি কার্বনের যোজনী ৪ মিলিয়ে নিলে ভুলটি ধরা পড়ে।
মনে রাখো: আণবিক সংকেত পরমাণুর ধরন ও সংখ্যা জানায়; গাঠনিক সংকেত এর সঙ্গে তাদের পারস্পরিক বন্ধনও দেখায়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।