পড়ার নোট
নিষ্ক্রিয় গ্যাস হলো পর্যায় সারণির ১৮ নম্বর গ্রুপের এমন গ্যাসীয় মৌল, যেগুলো সাধারণত কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেয় না। এদের নোবেল গ্যাসও বলা হয়। হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe) ও রেডন (Rn) এই গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত। এদের কম বিক্রিয়াশীলতার মূল কারণ হলো পরমাণুর বাইরের শক্তিস্তরের স্থিতিশীল ইলেকট্রন বিন্যাস।
এখানে রাসায়নিক স্থিতিশীলতা বলতে বোঝায়, কোনো পরমাণুর ইলেকট্রন গ্রহণ, ত্যাগ বা শেয়ারের মাধ্যমে নিজের ইলেকট্রন বিন্যাস পরিবর্তন করার প্রবণতা কম থাকা। নিষ্ক্রিয় গ্যাসের পরমাণুতে আগে থেকেই এমন স্থিতিশীল বিন্যাস থাকে। তাই সাধারণ অবস্থায় এরা অন্য পরমাণুর সঙ্গে সহজে বন্ধন গঠন করে না।
বিষয়টি ধাপে ধাপে বোঝা যায়:
- প্রথমে পরমাণুর বিভিন্ন শক্তিস্তরে ইলেকট্রনের বণ্টন দেখা হয়। হিলিয়ামের একমাত্র শক্তিস্তরে ২টি ইলেকট্রন থাকে। এই প্রথম শক্তিস্তর ২টি ইলেকট্রনেই পূর্ণ হয়।
- নিয়নের প্রথম শক্তিস্তরে ২টি এবং দ্বিতীয় শক্তিস্তরে ৮টি ইলেকট্রন থাকে। তাই এর বাইরের শক্তিস্তরে স্থিতিশীল বিন্যাস রয়েছে।
- আর্গনের তিনটি শক্তিস্তরে যথাক্রমে ২টি, ৮টি ও ৮টি ইলেকট্রন থাকে। এর বাইরের স্তরেও ৮টি ইলেকট্রন রয়েছে।
- এই স্থিতিশীল বিন্যাসের জন্য এদের সহজে ইলেকট্রন দেওয়া, নেওয়া বা শেয়ার করার প্রবণতা থাকে না। ফলে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার প্রবণতাও খুব কম।
হিলিয়ামকে বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে: স্থিতিশীল হতে তার ৮টি ইলেকট্রনের প্রয়োজন নেই। তার একমাত্র স্তরটি ২টি ইলেকট্রনেই পূর্ণ। হিলিয়াম ছাড়া অন্যান্য নিষ্ক্রিয় গ্যাসের বাইরের শক্তিস্তরে ৮টি ইলেকট্রন থাকে, যার সাধারণ বিন্যাস । এখানে মোট ইলেকট্রন সংখ্যার চেয়ে বাইরের স্তরের বিন্যাসটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
নিষ্ক্রিয় গ্যাস সাধারণ অবস্থায় পৃথক পরমাণু হিসেবে থাকে। অন্য অনেক মৌলের পরমাণু বন্ধন গঠনের সময় এদের মতো স্থিতিশীল ইলেকট্রন বিন্যাস অর্জন করে।
মনে রাখো: বাইরের শক্তিস্তরের স্থিতিশীল ইলেকট্রন বিন্যাসের কারণে নিষ্ক্রিয় গ্যাস সাধারণ অবস্থায় সহজে বিক্রিয়া করে না।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।