পড়ার নোট
নিষ্ক্রিয় গ্যাস হলো পর্যায় সারণির 18তম গ্রুপের মৌলগুলো, যাদের ইলেকট্রন বিন্যাস বিশেষভাবে স্থিতিশীল। হিলিয়াম, নিয়ন ও আর্গন এর পরিচিত উদাহরণ। এদের স্থিতিশীলতা বুঝতে পুরো পরমাণুর মোট ইলেকট্রনের পরিবর্তে সর্বশেষ কক্ষপথের বিন্যাস দেখতে হয়।
হিলিয়ামের প্রতীক He। এর দুটি ইলেকট্রনই প্রথম বা K কক্ষপথে থাকে। প্রথম কক্ষপথ দুটি ইলেকট্রনেই পূর্ণ হয়। তাই হিলিয়ামের স্থিতিশীল হতে আটটি ইলেকট্রন প্রয়োজন হয় না। এই দুটি ইলেকট্রন একটি জোড় গঠন করে; এটি দুইয়ের নিয়মের সরল উদাহরণ।
নিয়নের প্রতীক Ne এবং এর ইলেকট্রন বিন্যাস 2, 8। মোট ইলেকট্রন দশটি হলেও বাইরের L কক্ষপথে আটটি রয়েছে। আর্গনের প্রতীক Ar এবং বিন্যাস 2, 8, 8। এর বাইরের M কক্ষপথেও আটটি ইলেকট্রন থাকে। বাইরের স্তরের এই আটটি ইলেকট্রনকে অষ্টক বলা হয়। হিলিয়াম ছাড়া অন্য নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলোর বহিঃস্থ স্তরেও অষ্টক থাকে।
এই স্থিতিশীল বিন্যাস থাকার কারণে নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলোর সাধারণ অবস্থায় ইলেকট্রন গ্রহণ, ত্যাগ বা শেয়ার করে নতুন বন্ধন গঠনের প্রবণতা খুব কম। অন্য অনেক পরমাণুর বহিঃস্থ স্তরে এই বিন্যাস থাকে না। তারা ইলেকট্রন বিনিময় বা শেয়ারের মাধ্যমে অনুরূপ স্থিতিশীল বিন্যাস অর্জন করে। এই প্রবণতাই অষ্টক নিয়ম বোঝার ভিত্তি।
দুইয়ের নিয়মে ইলেকট্রন জোড়ের ধারণাও গুরুত্বপূর্ণ। হিলিয়ামে এক জোড় এবং নিয়ন বা আর্গনের বহিঃস্থ স্তরে চার জোড় ইলেকট্রন থাকে। ফলে স্থিতিশীল বিন্যাস বোঝার সময় জোড় ও মোট ইলেকট্রন—দুইভাবেই হিসাব পরীক্ষা করা যায়।
বাংলাদেশের বাড়িতে রান্নায় ব্যবহৃত খাদ্য লবণ এই তুলনার পরিচিত উদাহরণ। সোডিয়াম একটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে নিয়নের মতো বিন্যাস পায়; ক্লোরিন সেই ইলেকট্রন গ্রহণ করে আর্গনের মতো বিন্যাস পায়। তবে সোডিয়াম নিয়ন মৌলে বা ক্লোরিন আর্গন মৌলে পরিণত হয় না। তাদের নিউক্লিয়াস অপরিবর্তিত থাকে।
সাধারণ ভুল হলো সব নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মোট ইলেকট্রন আটটি বলা। আট হলো হিলিয়াম ছাড়া এদের বহিঃস্থ স্তরের সংখ্যা, পুরো পরমাণুর নয়।
মনে রাখো: হিলিয়ামের দুই এবং অন্য নিষ্ক্রিয় গ্যাসের বহিঃস্থ স্তরের আট ইলেকট্রন তাদের স্থিতিশীলতার ভিত্তি।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।