পড়ার নোট
যোজ্যতা ইলেকট্রন হলো কোনো পরমাণুর সর্বশেষ বা সবচেয়ে বাইরের কক্ষপথের ইলেকট্রন। সেই কক্ষপথে যতটি ইলেকট্রন থাকে, সেটিই পরমাণুর যোজ্যতা ইলেকট্রন সংখ্যা। এখানে পুরো পরমাণুর ইলেকট্রন গোনা হয় না; শুধু সর্বশেষ ইলেকট্রনযুক্ত কক্ষপথটি বিবেচনা করা হয়।
পটাশিয়ামের প্রতীক K এবং এর পরমাণুতে 19টি ইলেকট্রন থাকে। ইলেকট্রন বিন্যাস 2, 8, 8, 1। প্রথম তিনটি কক্ষপথের বাইরে চতুর্থ কক্ষপথে একটি ইলেকট্রন আছে। তাই পটাশিয়ামের যোজ্যতা ইলেকট্রন সংখ্যা 1। এখানে মৌলের প্রতীক K এবং প্রথম কক্ষপথের নাম K একই অক্ষরে লেখা হলেও অর্থ আলাদা।
অক্সিজেনের প্রতীক O। এর আটটি ইলেকট্রনের মধ্যে প্রথম কক্ষপথে দুটি এবং দ্বিতীয় কক্ষপথে ছয়টি থাকে। বিন্যাস 2, 6 হওয়ায় দ্বিতীয় কক্ষপথই সর্বশেষ কক্ষপথ। তাই অক্সিজেনের যোজ্যতা ইলেকট্রন সংখ্যা 6। একইভাবে নাইট্রোজেনের বিন্যাস 2, 5 থেকে যোজ্যতা ইলেকট্রন সংখ্যা 5 পাওয়া যায়।
এই ইলেকট্রনগুলোর গুরুত্ব হলো, পরমাণু অন্য পরমাণুর সঙ্গে বন্ধন গঠনের সময় বাইরের কক্ষপথের ইলেকট্রন ত্যাগ, গ্রহণ বা শেয়ার করে। এর মাধ্যমে স্থিতিশীল ইলেকট্রন বিন্যাস অর্জন করতে পারে। তাই যোজ্যতা ইলেকট্রন সংখ্যা মৌলের রাসায়নিক ধর্ম এবং বন্ধন গঠনের ধরন বুঝতে সাহায্য করে। তবে শুধু সংখ্যাটি জানলেই সব মৌলের সব রাসায়নিক আচরণ নির্ধারিত হয় না।
বাংলাদেশের রান্নাঘরে ব্যবহৃত খাদ্য লবণে সোডিয়াম ও ক্লোরিন থাকে। সোডিয়ামের একটি যোজ্যতা ইলেকট্রন ক্লোরিনকে দেওয়ার ঘটনা লবণের বন্ধন গঠন বোঝায়। আবার পানির অণুতে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনের বাইরের ইলেকট্রন শেয়ারের মাধ্যমে বন্ধন গঠিত হয়। পরিচিত পদার্থের গঠনেও তাই যোজ্যতা ইলেকট্রনের ভূমিকা আছে।
নিজে কোনো বিন্যাস পরীক্ষা করতে প্রথমে ইলেকট্রনযুক্ত কক্ষপথগুলো শনাক্ত করো, তারপর সর্বশেষটির সংখ্যা পড়ো। ভেতরের কক্ষপথের ইলেকট্রন এর সঙ্গে যোগ করবে না।
সাধারণ ভুল হলো যোজ্যতা ইলেকট্রন সংখ্যা ও যোজ্যতাকে একই ভাবা। অক্সিজেনের যোজ্যতা ইলেকট্রন 6টি হলেও পানিতে এর যোজ্যতা 2; দুটি ধারণা আলাদা।
মনে রাখো: সর্বশেষ ইলেকট্রনযুক্ত কক্ষপথের ইলেকট্রনগুলোই যোজ্যতা ইলেকট্রন।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।