ইলেকট্রন বিন্যাস কী?
কোনো পরমাণুর ইলেকট্রনগুলো কোন শক্তিস্তরে ও কোন অরবিটালে কয়টি করে আছে, তা সাজিয়ে লেখাই ইলেকট্রন বিন্যাস। নিরপেক্ষ পরমাণুতে ইলেকট্রন সংখ্যা পারমাণবিক সংখ্যার সমান, তাই প্রথম কাজ পারমাণবিক সংখ্যা জানা। SSC-তে বিন্যাস দুইভাবে চাওয়া হয়: শক্তিস্তর ধরে (K, L, M, N) আর অরবিটাল ধরে (1s, 2s, 2p…)।
ধাপ ১: শক্তিস্তর ধরে লেখা
তম শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ টি ইলেকট্রন থাকতে পারে: K-তে ২, L-তে ৮, M-তে ১৮, N-তে ৩২। সাধারণত ভেতরের স্তর আগে পূর্ণ হয়। যেমন সোডিয়াম (): K = ২, L = ৮, M = ১।
তবে আর্গনের (১৮) পরে নিয়ম একটু বদলায়: M স্তরে ১৮টি জায়গা থাকলেও পটাশিয়ামের ১৯তম আর ক্যালসিয়ামের ২০তম ইলেকট্রন N স্তরে যায়। তাই K (১৯) = ২, ৮, ৮, ১ আর Ca (২০) = ২, ৮, ৮, ২। কেন এমন হয়, তা বোঝা যায় অরবিটাল দিয়ে।
ধাপ ২: অরবিটাল ধরে লেখা
প্রতিটি শক্তিস্তর কয়েকটি উপশক্তিস্তরে ভাগ হয়: s, p, d, f; পাঠ্যবইয়ে এই উপশক্তিস্তরগুলোকেই অরবিটাল বলা হয়েছে। একটি উপশক্তিস্তরে (পাঠ্যবইয়ের ভাষায় অরবিটালে) সর্বোচ্চ টি ইলেকট্রন থাকে, অর্থাৎ s-এ ২, p-তে ৬, d-তে ১০, f-এ ১৪।
ইলেকট্রন আগে কম শক্তির অরবিটালে ঢোকে। কোন অরবিটালের শক্তি কম, তা ঠিক হয় দিয়ে (s-এর , p-এর ১, d-এর ২, f-এর ৩):
- যার কম, তার শক্তি কম, সেটি আগে পূর্ণ হয়। 4s-এর জন্য , 3d-এর জন্য , তাই 4s আগে।
- সমান হলে যার কম, সেটি আগে। 3d ও 4p দুটিরই ৫, কিন্তু 3d-এর কম, তাই 3d আগে।
এতে শক্তির ক্রম দাঁড়ায়:
মনে রাখার সহজ উপায়: খাতায় 1s; 2s 2p; 3s 3p 3d; 4s 4p 4d 4f — এভাবে সারি করে লেখো, তারপর ডান-ওপর থেকে বাম-নিচে কোনাকুনি তির টেনে পড়ো। পাঠ্যবইয়ের চিত্র ৩.০৪-এ এই ছকটিই আছে।
ধাপ ৩: লেখার নিয়ম
১. পারমাণবিক সংখ্যা থেকে মোট ইলেকট্রন গোনো। ২. ওপরের ক্রমে অরবিটাল পূর্ণ করো: s-এ ২, p-তে ৬, d-তে ১০। ৩. শেষে একই প্রধান শক্তিস্তরের অরবিটালগুলো পাশাপাশি লেখো। যেমন আয়রন (২৬)-এ ইলেকট্রন 3d-এর আগে 4s-এ ঢুকলেও লেখা হয় । ৪. সব ঘাত যোগ করে মিলিয়ে নাও মোট ইলেকট্রন সংখ্যা ঠিক আছে কি না।
১ থেকে ৩০ মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস
| মৌল (Z) | শক্তিস্তর (K, L, M, N) | অরবিটাল |
|---|---|---|
| H (১) | ১ | |
| He (২) | ২ | |
| Li (৩) | ২, ১ | |
| Be (৪) | ২, ২ | |
| B (৫) | ২, ৩ | |
| C (৬) | ২, ৪ | |
| N (৭) | ২, ৫ | |
| O (৮) | ২, ৬ | |
| F (৯) | ২, ৭ | |
| Ne (১০) | ২, ৮ | |
| Na (১১) | ২, ৮, ১ | |
| Mg (১২) | ২, ৮, ২ | |
| Al (১৩) | ২, ৮, ৩ | |
| Si (১৪) | ২, ৮, ৪ | |
| P (১৫) | ২, ৮, ৫ | |
| S (১৬) | ২, ৮, ৬ | |
| Cl (১৭) | ২, ৮, ৭ | |
| Ar (১৮) | ২, ৮, ৮ | |
| K (১৯) | ২, ৮, ৮, ১ | |
| Ca (২০) | ২, ৮, ৮, ২ | |
| Sc (২১) | ২, ৮, ৯, ২ | |
| Ti (২২) | ২, ৮, ১০, ২ | |
| V (২৩) | ২, ৮, ১১, ২ | |
| Cr (২৪) | ২, ৮, ১৩, ১ | (ব্যতিক্রম) |
| Mn (২৫) | ২, ৮, ১৩, ২ | |
| Fe (২৬) | ২, ৮, ১৪, ২ | |
| Co (২৭) | ২, ৮, ১৫, ২ | |
| Ni (২৮) | ২, ৮, ১৬, ২ | |
| Cu (২৯) | ২, ৮, ১৮, ১ | (ব্যতিক্রম) |
| Zn (৩০) | ২, ৮, ১৮, ২ |
ছকে জায়গা বাঁচাতে [Ne] মানে নিয়নের ১০টি ইলেকট্রনের বিন্যাস , আর [Ar] মানে আর্গনের ১৮টির বিন্যাস । পরীক্ষার খাতায় পুরো বিন্যাসটি লিখবে।
ব্যতিক্রম: ক্রোমিয়াম ও কপার
p বা d অরবিটাল অর্ধেক পূর্ণ (, ) বা সম্পূর্ণ পূর্ণ (, ) হলে বিন্যাস বেশি সুস্থিত হয়। তাই:
- Cr (২৪): হওয়ার কথা , কিন্তু 4s থেকে একটি ইলেকট্রন 3d-তে গিয়ে অর্ধপূর্ণ হয়: ।
- Cu (২৯): হওয়ার কথা , কিন্তু একই কারণে পূর্ণ হয়: ।
বিন্যাস থেকে পর্যায় ও গ্রুপ
- পর্যায়: সবচেয়ে বাইরের প্রধান শক্তিস্তরের নম্বর।
- গ্রুপ, নিয়ম ১: বাইরের স্তরে শুধু s থাকলে s-এর ইলেকট্রন সংখ্যাই গ্রুপ (হিলিয়াম ছাড়া; He থাকে গ্রুপ ১৮-এ)। Na (): পর্যায় ৩, গ্রুপ ১।
- গ্রুপ, নিয়ম ২: বাইরের স্তরে s ও p থাকলে দুটির ইলেকট্রন যোগ করে ১০ যোগ করো। Cl (): , পর্যায় ৩।
- গ্রুপ, নিয়ম ৩: বাইরের স্তরে s আর তার আগের স্তরে d থাকলে s ও d-এর ইলেকট্রন যোগ করো। Fe (): , পর্যায় ৪।
আয়নের ইলেকট্রন বিন্যাস
ধনাত্মক আয়নে যতটি চার্জ, ততটি ইলেকট্রন কম; ঋণাত্মক আয়নে ততটি বেশি। -এ ১০টি ইলেকট্রন: ২, ৮ (নিয়নের মতো)। -এ ১৮টি: ২, ৮, ৮ (আর্গনের মতো)। অবস্থান্তর মৌলের আয়নে আগে বাইরের 4s থেকে ইলেকট্রন সরে: হলো ।
সাধারণ ভুল
- K-কে ২, ৮, ৯ লেখা। M স্তর ৮-এ পৌঁছালে ১৯তম ইলেকট্রন 4s-এ যায়: ২, ৮, ৮, ১।
- Cr আর Cu-তে সাধারণ নিয়ম খাটানো। এ দুটি মুখস্থ রাখো।
- Fe-তে "…4s² 3d⁶" লিখে রাখা। লেখার সময় একই -এর অরবিটাল পাশাপাশি: …3d⁶ 4s²।
- ঘাতের যোগফল না মেলানো। শেষে যোগ করে পারমাণবিক সংখ্যার সাথে মিলিয়ে নাও।