offSchoolবেটা

রসায়ন · রাসায়নিক বন্ধন

ধাতু ও অধাতুর পার্থক্য (ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম)

সর্বশেষ হালনাগাদ ২২ অক্টোবর ২০২৬

সংক্ষেপে

ধাতু সাধারণত চকচকে, শক্ত, তাপ ও বিদ্যুৎ ভালো পরিবহন করে, পিটিয়ে পাত বা টেনে তার বানানো যায়, আর বিক্রিয়ায় ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়ন হয়; এদের অক্সাইড ক্ষারকীয়। অধাতু সাধারণত দীপ্তিহীন, ভঙ্গুর, তাপ ও বিদ্যুতের কুপরিবাহী, আর বিক্রিয়ায় ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়ন হয়; এদের অক্সাইড অম্লীয়। ব্যতিক্রম আছে: পারদ তরল ধাতু, গ্রাফাইট পরিবাহী অধাতু।

ধাতু ও অধাতু: পার্থক্যের ছক
তুলনার বিষয়ধাতুঅধাতু
দীপ্তি

চকচকে ধাতব দীপ্তি আছে

সাধারণত দীপ্তিহীন (আয়োডিন ও গ্রাফাইট ব্যতিক্রম)

তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবহন

সুপরিবাহী

কুপরিবাহী (গ্রাফাইট ব্যতিক্রম)

ঘাতসহতা ও প্রসারণশীলতা

পিটিয়ে পাত, টেনে তার বানানো যায়

ভঙ্গুর; আঘাতে ভেঙে যায়

অবস্থা (সাধারণ তাপমাত্রায়)

প্রায় সবই কঠিন (পারদ তরল)

কঠিন, তরল (ব্রোমিন) বা গ্যাস

ইলেকট্রন

ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়ন (ক্যাটায়ন) হয়

গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়ন (অ্যানায়ন) হয়

অক্সাইডের প্রকৃতি

ক্ষারকীয় (যেমন CaOCaO, Na2ONa_2O)

অম্লীয় (যেমন CO2CO_2, SO2SO_2)

উদাহরণ

লোহা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম, সোডিয়াম, সোনা

কার্বন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, সালফার, ক্লোরিন

ধাতু

ধাতুর পরমাণুর সর্বশেষ শক্তিস্তরে সাধারণত ১, ২ বা ৩টি ইলেকট্রন থাকে, যা সহজে ছেড়ে দিয়ে ধাতু ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। ধাতুর ভেতরে এই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো "ইলেকট্রনের সমুদ্র" তৈরি করে, যা ধাতব বন্ধনে আয়নগুলোকে ধরে রাখে। এই মুক্ত ইলেকট্রনই ধাতুকে তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবহনে সক্ষম করে, আর আঘাতে আয়নগুলো স্তরে স্তরে সরে যেতে পারে বলে ধাতুকে পিটিয়ে পাত বানানো যায়।

অধাতু

অধাতুর পরমাণুর সর্বশেষ শক্তিস্তরে সাধারণত ৪ থেকে ৭টি ইলেকট্রন থাকে; এরা নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মতো বিন্যাস পেতে ইলেকট্রন গ্রহণ করে বা ভাগাভাগি করে। মুক্ত ইলেকট্রন না থাকায় অধাতু সাধারণত বিদ্যুৎ পরিবহন করে না।

ব্যতিক্রম মনে রাখো

  • পারদ ধাতু হলেও সাধারণ তাপমাত্রায় তরল; তাই থার্মোমিটারে ব্যবহার হয়।
  • গ্রাফাইট (কার্বনের একটি রূপ) অধাতু হলেও বিদ্যুৎ পরিবাহী; পেনসিলের শিস আর ব্যাটারির দণ্ডে ব্যবহার হয়।
  • ব্রোমিন অধাতু হলেও তরল; আয়োডিন অধাতু হলেও চকচকে।

সাধারণ ভুল

  • সব ধাতু শক্ত ভাবা। সোডিয়াম ও পটাশিয়াম এত নরম যে ছুরি দিয়ে কাটা যায়।
  • অক্সাইডের প্রকৃতি উল্টে লেখা। ধাতুর অক্সাইড সাধারণত ক্ষারকীয়, অধাতুর অক্সাইড সাধারণত অম্লীয়। তবে উভধর্মী ও নিরপেক্ষ অক্সাইডও আছে।

পরীক্ষায় যেভাবে লিখবে

"ধাতু ও অধাতুর মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো" এলে একটি ভৌত (পরিবাহিতা) আর একটি রাসায়নিক (ইলেকট্রন দেওয়া-নেওয়া বা অক্সাইড) পার্থক্য দাও:

ধাতুঅধাতু
১. তাপ ও বিদ্যুতের সুপরিবাহী।১. তাপ ও বিদ্যুতের কুপরিবাহী।
২. ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়ন হয়।২. ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়ন হয়।

"ধাতু বিদ্যুৎ পরিবহন করে কেন?" এলে মুক্ত ইলেকট্রন আর ধাতব বন্ধনের কথা বলো। পর্যায় সারণির প্রশ্নে মনে রাখো, বাম দিকে ও মাঝখানে ধাতু, ডান দিকে অধাতু; তবে হাইড্রোজেন বাম দিকে থাকলেও অধাতু।

নিজে চালিয়ে দেখো

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. বাংলাদেশে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (BREB) সরবরাহ লাইনে এবং বাসা-বাড়ির বৈদ্যুতিক তারে তামা বা কপার (Cu) ধাতু ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। ধাতব তামার মধ্য দিয়ে অত্যন্ত সহজে বিদ্যুৎ পরিবাহিত হওয়ার মূল কারণ কোনটি?

    1. ক

      ধাতব কেলাসের মধ্যে মুক্ত বা সঞ্চারণশীল ইলেকট্রনের (delocalized electrons) অবাধ চলাচল

    2. খ

      তামার পরমাণুগুলো বিশ্লিষ্ট হয়ে জলীয় দ্রবণের মতো ক্যাটায়ন ও অ্যানায়নে বিভক্ত হওয়া

    3. গ

      তামার নিউক্লিয়াসে থাকা ধনাত্মক প্রোটনগুলো তারের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে প্রবাহিত হওয়া

    4. ঘ

      সমযোজী বন্ধনের ইলেকট্রন জোড়গুলো এক পরমাণু থেকে অন্য পরমাণুতে স্থানান্তরিত হওয়া

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) ধাতব কেলাসের মধ্যে মুক্ত বা সঞ্চারণশীল ইলেকট্রনের (delocalized electrons) অবাধ চলাচল

    1. ধাতব বন্ধনের মডেলে তামার পরমাণুগুলো তাদের বহিঃস্থ স্তরের যোজ্যতা ইলেকট্রনগুলোকে ত্যাগ করে ধনাত্মক পারমাণবিক শাঁসে (atomic core) পরিণত হয় এবং মুক্ত ইলেকট্রনগুলো সমগ্র কেলাসে একটি সঞ্চারণশীল ইলেকট্রনের সাগর (electron sea) গঠন করে।
    2. তামার তারের দুই প্রান্তে ব্যাটারি বা বিভব পার্থক্য যুক্ত করলে এই সঞ্চারণশীল ইলেকট্রনগুলো ঋণাত্মক প্রান্ত থেকে ধনাত্মক প্রান্তের দিকে সহজে প্রবাহিত হয়, যা বিদ্যুৎ প্রবাহ সৃষ্টি করে।
  2. পর্যায় সারণির ২য় পর্যায়ের দুটি মৌল নাইট্রোজেন (N, পারমাণবিক সংখ্যা ৭) ও অক্সিজেন (O, পারমাণবিক সংখ্যা ৮)-এর মধ্যে পারমাণবিক আকারের সাধারণ পর্যায়বৃত্ত প্রবণতা অনুযায়ী অক্সিজেনের প্রথম আয়নিকরণ শক্তি নাইট্রোজেনের চেয়ে বেশি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে নাইট্রোজেনের প্রথম আয়নিকরণ শক্তি অক্সিজেনের চেয়ে বেশি হয় কেন?

    1. ক

      নাইট্রোজেনের সর্ববহিঃস্থ ২p উপস্তরটি অর্ধপূর্ণ (২p³) থাকায় তা অধিক স্থিতিশীল

    2. খ

      নাইট্রোজেনের নিউক্লিয়াসে প্রোটন সংখ্যা অক্সিজেনের চেয়ে বেশি

    3. গ

      নাইট্রোজেনের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ অক্সিজেনের চেয়ে ছোট

    4. ঘ

      নাইট্রোজেনের ২s উপস্তরটি খালি থাকে

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) নাইট্রোজেনের সর্ববহিঃস্থ ২p উপস্তরটি অর্ধপূর্ণ (২p³) থাকায় তা অধিক স্থিতিশীল

    1. নাইট্রোজেনের ইলেকট্রন বিন্যাস 1s² 2s² 2p³ এবং অক্সিজেনের ইলেকট্রন বিন্যাস 1s² 2s² 2p⁴।
    N (7):1s2 2s2 2p3,O (8):1s2 2s2 2p4\text{N } (7): 1s^2 \, 2s^2 \, 2p^3, \quad \text{O } (8): 1s^2 \, 2s^2 \, 2p^4
    1. অরবিটাল তত্ত্ব অনুসারে কোনো উপস্তর অর্ধপূর্ণ (যেমন p³) বা সম্পূর্ণ পূর্ণ (যেমন p⁶) থাকলে তা অধিক সুস্থিত বা স্থিতিশীল হয়।
    2. নাইট্রোজেনের ২p উপস্তরটি সুস্থিত অর্ধপূর্ণ (2p³) অবস্থায় থাকায় তা থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি শক্তি লাগে, তাই নাইট্রোজেনের ১ম আয়নিকরণ শক্তি (১৪০২ kJ/mol) অক্সিজেনের (১৩১৪ kJ/mol) চেয়ে বেশি।
  3. পর্যায় সারণির গ্রুপ ১৭-এর হ্যালোজেন মৌলগুলোর ক্ষেত্রে ওপর থেকে নিচে নামলে পরমাণুর আকার বৃদ্ধির কারণে ইলেকট্রন আসক্তি (electron affinity) ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাওয়ার কথা। সেই হিসেবে ফ্লোরিনের (F, পারমাণবিক সংখ্যা ৯) ইলেকট্রন আসক্তি ক্লোরিনের (Cl, পারমাণবিক সংখ্যা ১৭) চেয়ে বেশি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে ক্লোরিনের ইলেকট্রন আসক্তি ফ্লোরিনের চেয়ে বেশি হয়। এর কারণ কী?

    1. ক

      ফ্লোরিনের পারমাণবিক আকার অতি ক্ষুদ্র হওয়ায় ২য় শক্তিস্তরে ইলেকট্রন ঘনত্ব খুব বেশি এবং তা আগত নতুন ইলেকট্রনকে তীব্রভাবে বিকর্ষণ করে

    2. খ

      ক্লোরিনের তড়িৎ ঋণাত্মকতা ফ্লোরিনের চেয়ে বেশি

    3. গ

      ক্লোরিনের ১ম আয়নিকরণ শক্তি ফ্লোরিনের চেয়ে বেশি

    4. ঘ

      ফ্লোরিনের শেষ শক্তিস্তরে d অরবিটাল বিদ্যমান কিন্তু ক্লোরিনে কোনো d অরবিটাল নেই

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) ফ্লোরিনের পারমাণবিক আকার অতি ক্ষুদ্র হওয়ায় ২য় শক্তিস্তরে ইলেকট্রন ঘনত্ব খুব বেশি এবং তা আগত নতুন ইলেকট্রনকে তীব্রভাবে বিকর্ষণ করে

    1. গ্রুপ ১৭-এ নিচে নামলে পরমাণুর আকার বাড়ে, ফলে সাধারণ প্রবণতা অনুযায়ী ইলেকট্রন আসক্তি কমার কথা (F > Cl > Br > I)।
    2. কিন্তু ফ্লোরিনের আকার অত্যন্ত ছোট হওয়ায় এর ২য় প্রধান শক্তিস্তরের ক্ষুদ্র পরিসরে ৭টি ইলেকট্রন পুঞ্জীভূত থাকে, ফলে এর ইলেকট্রন মেঘের ঘনত্ব খুব বেশি হয়।
    3. এই উচ্চ ঘনত্বের কারণে বাইরে থেকে আগত নতুন ইলেকট্রনটি তীব্র বিকর্ষণের সম্মুখীন হয়। পক্ষান্তরে ক্লোরিনের ৩য় শক্তিস্তর অপেক্ষাকৃত প্রশস্ত হওয়ায় ইলেকট্রন ঘনত্ব কম থাকে এবং আগত ইলেকট্রন সহজে গৃহীত হয়। তাই ক্লোরিনের ইলেকট্রন আসক্তি (৩৪৯ kJ/mol) ফ্লোরিনের (৩২৮ kJ/mol) চেয়ে বেশি।

প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ধাতু বিদ্যুৎ পরিবহন করে কেন?

ধাতুতে প্রচুর মুক্ত ইলেকট্রন থাকে, যেগুলো বিভব পার্থক্য পেলে চলাচল করে চার্জ বহন করে।

কোন অধাতু বিদ্যুৎ পরিবহন করে?

গ্রাফাইট, যা কার্বনের একটি রূপ।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো