ধাতু
ধাতুর পরমাণুর সর্বশেষ শক্তিস্তরে সাধারণত ১, ২ বা ৩টি ইলেকট্রন থাকে, যা সহজে ছেড়ে দিয়ে ধাতু ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। ধাতুর ভেতরে এই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো "ইলেকট্রনের সমুদ্র" তৈরি করে, যা ধাতব বন্ধনে আয়নগুলোকে ধরে রাখে। এই মুক্ত ইলেকট্রনই ধাতুকে তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবহনে সক্ষম করে, আর আঘাতে আয়নগুলো স্তরে স্তরে সরে যেতে পারে বলে ধাতুকে পিটিয়ে পাত বানানো যায়।
অধাতু
অধাতুর পরমাণুর সর্বশেষ শক্তিস্তরে সাধারণত ৪ থেকে ৭টি ইলেকট্রন থাকে; এরা নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মতো বিন্যাস পেতে ইলেকট্রন গ্রহণ করে বা ভাগাভাগি করে। মুক্ত ইলেকট্রন না থাকায় অধাতু সাধারণত বিদ্যুৎ পরিবহন করে না।
ব্যতিক্রম মনে রাখো
- পারদ ধাতু হলেও সাধারণ তাপমাত্রায় তরল; তাই থার্মোমিটারে ব্যবহার হয়।
- গ্রাফাইট (কার্বনের একটি রূপ) অধাতু হলেও বিদ্যুৎ পরিবাহী; পেনসিলের শিস আর ব্যাটারির দণ্ডে ব্যবহার হয়।
- ব্রোমিন অধাতু হলেও তরল; আয়োডিন অধাতু হলেও চকচকে।
সাধারণ ভুল
- সব ধাতু শক্ত ভাবা। সোডিয়াম ও পটাশিয়াম এত নরম যে ছুরি দিয়ে কাটা যায়।
- অক্সাইডের প্রকৃতি উল্টে লেখা। ধাতুর অক্সাইড সাধারণত ক্ষারকীয়, অধাতুর অক্সাইড সাধারণত অম্লীয়। তবে উভধর্মী ও নিরপেক্ষ অক্সাইডও আছে।