পড়ার নোট
পর্যায় সারণিতে মৌলের যেসব ধর্ম পর্যায় ও গ্রুপ বরাবর নিয়মিতভাবে বদলায়, সেগুলোকে পর্যায়বৃত্ত ধর্ম বলে। প্রধান পর্যায়বৃত্ত ধর্মগুলো:
- ধাতব ধর্ম: এক বা একাধিক ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হওয়ার প্রবণতা। যেমন । যে মৌল যত সহজে ইলেকট্রন ত্যাগ করে, তার ধাতব ধর্ম তত বেশি।
- অধাতব ধর্ম: এক বা একাধিক ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়নে পরিণত হওয়ার প্রবণতা। যেমন । যে মৌল কখনো ইলেকট্রন ত্যাগ করে, কখনো গ্রহণ করে, তাকে অর্ধধাতু বা অপধাতু বলে; যেমন সিলিকন।
- পরমাণুর আকার বা পারমাণবিক ব্যাসার্ধ: একই পর্যায়ে বাম থেকে ডানে প্রোটন ও ইলেকট্রন বাড়ে কিন্তু শক্তিস্তর একই থাকে, ফলে আকর্ষণ বেড়ে আকার কমে। একই গ্রুপে উপর থেকে নিচে নতুন শক্তিস্তর যোগ হয়, তাই আকার বাড়ে।
- আয়নিকরণ শক্তি: গ্যাসীয় অবস্থায় এক মোল পরমাণু থেকে এক মোল ইলেকট্রন সরিয়ে এক মোল ধনাত্মক আয়ন তৈরিতে যে শক্তি লাগে।
- ইলেকট্রন আসক্তি: গ্যাসীয় অবস্থায় এক মোল পরমাণুতে এক মোল ইলেকট্রন যোগ করে এক মোল ঋণাত্মক আয়ন তৈরিতে যে শক্তি নির্গত হয়।
- তড়িৎ ঋণাত্মকতা: সমযোজী বন্ধনে আবদ্ধ পরমাণুর বন্ধনের ইলেকট্রন দুটিকে নিজের দিকে আকর্ষণ করার প্রবণতা।
শেষ তিনটি ধর্ম পারমাণবিক ব্যাসার্ধের সাথে সম্পর্কিত: ব্যাসার্ধ কমলে এদের মান বাড়ে, ব্যাসার্ধ বাড়লে মান কমে। তাই একই পর্যায়ে বাম থেকে ডানে ধাতব ধর্ম কমে এবং অধাতব ধর্ম, আয়নিকরণ শক্তি, ইলেকট্রন আসক্তি ও তড়িৎ ঋণাত্মকতা সাধারণত বাড়ে।
উদাহরণ: Na, Mg, Al, Si এর মধ্যে কার আয়নিকরণ শক্তি সবচেয়ে বেশি? এরা সবাই পর্যায় 3 এর মৌল। Si এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধ সবচেয়ে কম, তাই এর আয়নিকরণ শক্তি সবচেয়ে বেশি; Na এর ব্যাসার্ধ সবচেয়ে বেশি, তাই এর আয়নিকরণ শক্তি সবচেয়ে কম। একইভাবে গ্রুপ 1 এর ক্ষার ধাতুগুলোর মধ্যে Li এর আয়নিকরণ শক্তি সবচেয়ে বেশি, আর পর্যায় 3 এ তড়িৎ ঋণাত্মকতা Na এর সবচেয়ে কম ও Cl এর সবচেয়ে বেশি।
সাধারণ ভুল হলো আয়নিকরণ শক্তি ও ইলেকট্রন আসক্তি গুলিয়ে ফেলা: প্রথমটিতে ইলেকট্রন সরাতে শক্তি লাগে, দ্বিতীয়টিতে ইলেকট্রন যোগ হলে শক্তি নির্গত হয়।
মনে রাখো: ধাতব ধর্ম, অধাতব ধর্ম, পরমাণুর আকার, আয়নিকরণ শক্তি, ইলেকট্রন আসক্তি ও তড়িৎ ঋণাত্মকতা হলো পর্যায়বৃত্ত ধর্ম; পরমাণু ছোট হলে শেষ তিনটির মান বেশি হয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।