offSchoolবেটা

রসায়ন · অধ্যায় ৫ · টপিক ২৫

ধাতুর বিদ্যুৎ পরিবাহিতার কারণ

পড়ার নোট

ধাতুর বিদ্যুৎ পরিবাহিতা হলো তার মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে দেওয়ার ক্ষমতা। তামা ও অ্যালুমিনিয়ামের মতো ধাতু ভালো পরিবাহী, কারণ এদের মধ্যে চলাচলযোগ্য ইলেকট্রন থাকে। ঘরের বৈদ্যুতিক তার, মোবাইল চার্জারের তার এবং রিকশার বৈদ্যুতিক সংযোগে ধাতব তার ব্যবহারের সঙ্গে এই ধর্মের সম্পর্ক রয়েছে।

ধাতব পরমাণুর বহিঃস্তরের কিছু ইলেকট্রন কোনো নির্দিষ্ট পরমাণুর অধীনে থাকে না। পুরো ধাতব গঠনে চলাচল করতে পারে বলে এদের সঞ্চরণশীল ইলেকট্রন বলে। ইলেকট্রন ছেড়ে দেওয়া ধনাত্মক পারমাণবিক শাঁসগুলো কেলাসে সজ্জিত থাকে। ধাতব বন্ধনে শাঁস ও ইলেকট্রনের আকর্ষণ ধাতুকে একত্রে রাখে, কিন্তু ইলেকট্রনগুলোর চলাচল বন্ধ করে দেয় না।

ব্যাটারি যুক্ত করার আগেও ধাতুতে সঞ্চরণশীল ইলেকট্রন থাকে। তবে তাদের এলোমেলো চলাচল থেকে তারের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিট আধান প্রবাহ তৈরি হয় না। ব্যাটারি তারের দুই প্রান্তে বিভব পার্থক্য সৃষ্টি করলে এবং বর্তনী সম্পূর্ণ হলে ইলেকট্রনগুলোর একটি নির্দিষ্ট দিকে নিট প্রবাহ ঘটে। এই আধানের প্রবাহই বিদ্যুৎ প্রবাহের কারণ।

ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্ত ইলেকট্রনকে বিকর্ষণ করে এবং ধনাত্মক প্রান্ত আকর্ষণ করে। তাই বাইরের ধাতব তারে ইলেকট্রনের নিট চলাচল ঋণাত্মক প্রান্ত থেকে ধনাত্মক প্রান্তের দিকে। কিন্তু প্রচলিত বিদ্যুৎ প্রবাহের দিক ধনাত্মক প্রান্ত থেকে ঋণাত্মক প্রান্তের দিকে ধরা হয়। ইলেকট্রনের চলার দিক ও প্রচলিত প্রবাহের দিক বিপরীত—এটি মনে রাখা জরুরি।

ধাতু কঠিন অবস্থাতেই বিদ্যুৎ পরিবহন করে, কারণ কঠিন গঠনের মধ্যেও ইলেকট্রন চলতে পারে। আয়নিক কঠিন পদার্থে আয়নগুলো নির্দিষ্ট স্থানে আবদ্ধ থাকে; তাই চলাচলযোগ্য আয়ন পেতে সাধারণত তাকে গলাতে বা পানিতে দ্রবীভূত করতে হয়। ধাতুর ক্ষেত্রে এমন পরিবর্তন দরকার হয় না। লবণের দ্রবণে আয়ন আধান বহন করে, আর তামার তারে ইলেকট্রন বহন করে।

সাধারণ ভুল: ব্যাটারি ধাতুতে প্রথমবার মুক্ত ইলেকট্রন তৈরি করে ভাবা, অথবা ধনাত্মক শাঁসগুলো তার বরাবর ছুটে যায় বলা। ব্যাটারি আগে থেকেই থাকা সঞ্চরণশীল ইলেকট্রনের নিট চলাচল ঘটায়; শাঁসগুলো এভাবে আধান পরিবহন করে না।

মনে রাখো: ধাতুতে বিদ্যুতের বাহক সঞ্চরণশীল ইলেকট্রন, যার চলার দিক প্রচলিত বিদ্যুৎ প্রবাহের বিপরীত।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • ধাতব বন্ধন: তারের ভেতর বিদ্যুৎ চলে কীভাবে?চালিয়ে দেখো

    বাসাবাড়ির বৈদ্যুতিক লাইনে এবং স্কুলের বিজ্ঞান ল্যাবে তার হিসেবে তামা বা অ্যালুমিনিয়ামের মতো ধাতু ব্যবহার করা হয়। বর্তনীতে চাবি অন করলেই কঠিন ধাতব তারের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। অন্যদিকে খাদ্য লবণ (NaCl) আয়ন দ্বারা গঠিত হলেও কঠিন অবস্থায় কোনো বিদ্যুৎ পরিবহন করে না: লবণ গলালে বা পানিতে গুললেই কেবল বিদ্যুৎ চলে। কিন্তু কোনো ধাতু না গলিয়ে কঠিন অবস্থাতেই কীভাবে বিদ্যুৎ পরিবহন করে? ধাতুর ভেতরের পরমাণু ও ইলেকট্রনগুলোর এমন কী বিশেষ ব্যবস্থা থাকে?

এই টপিকের পার্থক্য

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. বাংলাদেশে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (BREB) সরবরাহ লাইনে এবং বাসা-বাড়ির বৈদ্যুতিক তারে তামা বা কপার (Cu) ধাতু ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। ধাতব তামার মধ্য দিয়ে অত্যন্ত সহজে বিদ্যুৎ পরিবাহিত হওয়ার মূল কারণ কোনটি?

    1. ক

      ধাতব কেলাসের মধ্যে মুক্ত বা সঞ্চারণশীল ইলেকট্রনের (delocalized electrons) অবাধ চলাচল

    2. খ

      তামার পরমাণুগুলো বিশ্লিষ্ট হয়ে জলীয় দ্রবণের মতো ক্যাটায়ন ও অ্যানায়নে বিভক্ত হওয়া

    3. গ

      তামার নিউক্লিয়াসে থাকা ধনাত্মক প্রোটনগুলো তারের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে প্রবাহিত হওয়া

    4. ঘ

      সমযোজী বন্ধনের ইলেকট্রন জোড়গুলো এক পরমাণু থেকে অন্য পরমাণুতে স্থানান্তরিত হওয়া

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) ধাতব কেলাসের মধ্যে মুক্ত বা সঞ্চারণশীল ইলেকট্রনের (delocalized electrons) অবাধ চলাচল

    1. ধাতব বন্ধনের মডেলে তামার পরমাণুগুলো তাদের বহিঃস্থ স্তরের যোজ্যতা ইলেকট্রনগুলোকে ত্যাগ করে ধনাত্মক পারমাণবিক শাঁসে (atomic core) পরিণত হয় এবং মুক্ত ইলেকট্রনগুলো সমগ্র কেলাসে একটি সঞ্চারণশীল ইলেকট্রনের সাগর (electron sea) গঠন করে।
    2. তামার তারের দুই প্রান্তে ব্যাটারি বা বিভব পার্থক্য যুক্ত করলে এই সঞ্চারণশীল ইলেকট্রনগুলো ঋণাত্মক প্রান্ত থেকে ধনাত্মক প্রান্তের দিকে সহজে প্রবাহিত হয়, যা বিদ্যুৎ প্রবাহ সৃষ্টি করে।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো