পড়ার নোট
আয়নিক যৌগ আয়নিক বন্ধনে এবং সমযোজী যৌগ সমযোজী বন্ধনে গঠিত হয়। রান্নাঘরের খাদ্য লবণ ও চিনি, কাপড়কাচা সোডা, আলমারিতে রাখা ন্যাপথলিন এবং কর্পূর নিয়ে এদের শনাক্ত করার অনুশীলন করা যায়। পানিতে দ্রবণীয়তা প্রথম ধারণা দেয়; দ্রবণের বিদ্যুৎ পরিবাহিতা পরীক্ষা করলে সেই ধারণা যাচাই করা যায়।
দ্রবণীয়তা পরীক্ষা করার জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করো:
- আলাদা পরিষ্কার বিকারে পানি নিয়ে প্রতিটিতে একটি করে পদার্থ দাও। কোন বিকারে কী আছে লিখে রাখো।
- কাচদণ্ড দিয়ে নেড়ে দেখো পদার্থটি পানির সঙ্গে সম্পূর্ণ মিশে যাচ্ছে কি না।
- খাদ্য লবণ, কাপড়কাচা সোডা ও কপার সালফেট বা তুঁতে দ্রবীভূত হয়। এগুলো আয়নিক যৌগ।
- কর্পূর, ন্যাপথলিন ও মোম দ্রবীভূত হয় না। এগুলো সমযোজী পদার্থ। সরিষার তেলও পানিতে মেশে না।
পানি একটি পোলার দ্রাবক: এর অণুতে আংশিক ধনাত্মক ও আংশিক ঋণাত্মক প্রান্ত থাকে। এই প্রান্তগুলো আয়নিক যৌগের বিপরীত আধানের আয়নকে আকর্ষণ করে। আকর্ষণ যথেষ্ট হলে আয়নগুলো আলাদা হয়ে পানি দ্বারা পরিবেষ্টিত হয় এবং যৌগ দ্রবীভূত হয়।
বিদ্যুৎ পরিবাহিতা পরীক্ষা করতে লবণ ও চিনির দ্রবণ আলাদা বিকারে নাও। ব্যাটারি, ছোট বাল্ব, সংযোগ তার ও দুটি গ্রাফাইট দণ্ড দিয়ে বর্তনী তৈরি করো। দণ্ড দুটি পরস্পর স্পর্শ না করিয়ে প্রথমে লবণের দ্রবণে ডোবাও। বাল্ব জ্বলে, কারণ দ্রবণে চলাচল করতে পারা সোডিয়াম ও ক্লোরাইড আয়ন আধান বহন করে। দণ্ড পরিষ্কার করে চিনির দ্রবণে পরীক্ষা করলে বাল্ব জ্বলে না। চিনি দ্রবীভূত হলেও মুক্ত আয়ন তৈরি করে না।
বাংলাদেশের ঘরে শরবত তৈরির সময় চিনি পানিতে মিশে যায়। তাই দ্রবীভূত হওয়া দেখেই চিনিকে আয়নিক বলা একটি সাধারণ ভুল। গ্লুকোজও পানিতে দ্রবণীয় সমযোজী যৌগ। আবার সিলভার ক্লোরাইড আয়নিক হলেও পানিতে অদ্রবণীয়। এমনকি সমযোজী হাইড্রোজেন ক্লোরাইড পানিতে আয়ন সৃষ্টি করে বিদ্যুৎ পরিবহন করে। তাই একটি পরীক্ষার ফলকে সব যৌগের জন্য চূড়ান্ত নিয়ম ধরবে না; পরিচিত পদার্থের দ্রবণীয়তা ও আয়ন তৈরির তথ্য মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নাও।
মনে রাখো: দ্রবণীয়তা প্রাথমিক ধারণা দেয়, আর দ্রবণের বিদ্যুৎ পরিবাহিতা চলনশীল আয়নের উপস্থিতি নির্দেশ করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।