পড়ার নোট
এক খণ্ড ধাতুর পরমাণুগুলো যে আকর্ষণের মাধ্যমে যুক্ত থাকে, তাকে ধাতব বন্ধন বলে। কণার সাহায্যে আরও স্পষ্টভাবে বললে, এটি ধনাত্মক পারমাণবিক শাঁস ও ঋণাত্মক সঞ্চরণশীল ইলেকট্রনের মধ্যকার তড়িৎ আকর্ষণ। একই ধাতুর অসংখ্য পরমাণু এই আকর্ষণে একত্রে থেকে তার, পাত বা পাত্র তৈরি করে। তাই বন্ধন গঠনের জন্য দুটি ভিন্ন ধাতু থাকা জরুরি নয়।
ধাতব পরমাণুর বাইরের ইলেকট্রনের ওপর নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ তুলনামূলক কম। ধাতুর মধ্যে বহিঃস্তরের এক বা একাধিক ইলেকট্রন কোনো নির্দিষ্ট পরমাণুর অধীনে না থেকে পুরো গঠনে ছড়িয়ে চলাচল করে। এই চলাচলযোগ্য ইলেকট্রনগুলোই সঞ্চরণশীল ইলেকট্রন। ইলেকট্রন ছেড়ে দেওয়া ধনাত্মক অবশিষ্ট অংশ হলো পারমাণবিক শাঁস।
পাশাপাশি দুটি ধনাত্মক শাঁসের মধ্যবর্তী অঞ্চলে একটি ঋণাত্মক ইলেকট্রন থাকলে উভয় শাঁসই সেটিকে আকর্ষণ করে। পুরো ধাতুর অসংখ্য শাঁস ও ইলেকট্রনের মধ্যে এ ধরনের আকর্ষণ কাজ করে। ফলে ধাতব বন্ধনকে কেবল দুটি পরমাণুর মধ্যে আটকে থাকা একটি নির্দিষ্ট ইলেকট্রন জোড় হিসেবে বোঝানো যায় না। আকর্ষণ পুরো ত্রিমাত্রিক গঠনজুড়ে বিস্তৃত থাকে।
এই বিষয়টি অন্য বন্ধনের সঙ্গে তুলনা করলে পরিষ্কার হয়। আয়নিক বন্ধনে বিপরীত আধানের ক্যাটায়ন ও অ্যানায়নের আকর্ষণ থাকে। সমযোজী বন্ধনে দুটি পরমাণু নির্দিষ্ট ইলেকট্রন জোড় শেয়ার করে। ধাতব বন্ধনে ধনাত্মক শাঁসগুলোর সঙ্গে পুরো গঠনে সঞ্চরণশীল ইলেকট্রনের আকর্ষণ কাজ করে। এখানে ইলেকট্রন গ্রহণকারী আলাদা অধাতব পরমাণুর প্রয়োজন নেই।
শক্তিশালী আকর্ষণ ধাতুর দৃঢ়তা এবং অনেক ধাতুর উচ্চ গলনাঙ্কের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে সব ধাতু সমান কঠিন বা তাদের গলনাঙ্ক সমান নয়। ধাতব গঠন ও সঞ্চরণশীল ইলেকট্রন ধাতুর নমনীয়তা, উজ্জ্বলতা এবং তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতাও ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে।
বাংলাদেশের ঘরে তামার তার দিয়ে বিদ্যুৎ চলে, অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে রান্না হয় এবং সোনা দিয়ে অলংকার বানানো হয়। এসব ব্যবহারের পেছনে ধাতুর গঠন ও ধর্মের সম্পর্ক রয়েছে।
সাধারণ ভুল: মুক্ত ইলেকট্রন ধাতু ছেড়ে বাইরে চলে গেছে ভাবা। ধাতব বন্ধনে সেগুলো ধাতুর ভেতরেই থাকে এবং শাঁসগুলোর আকর্ষণে অংশ নেয়।
মনে রাখো: ধাতব বন্ধন হলো পুরো ধাতব গঠনে ধনাত্মক শাঁস ও সঞ্চরণশীল ইলেকট্রনের আকর্ষণ।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।