ধাতব বন্ধন: তারের ভেতর বিদ্যুৎ চলে কীভাবে?
মান বদলাও, চালাও, আর দেখো কী ঘটে।
বাসাবাড়ির বৈদ্যুতিক লাইনে এবং স্কুলের বিজ্ঞান ল্যাবে তার হিসেবে তামা বা অ্যালুমিনিয়ামের মতো ধাতু ব্যবহার করা হয়। বর্তনীতে চাবি অন করলেই কঠিন ধাতব তারের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। অন্যদিকে খাদ্য লবণ (NaCl) আয়ন দ্বারা গঠিত হলেও কঠিন অবস্থায় কোনো বিদ্যুৎ পরিবহন করে না: লবণ গলালে বা পানিতে গুললেই কেবল বিদ্যুৎ চলে। কিন্তু কোনো ধাতু না গলিয়ে কঠিন অবস্থাতেই কীভাবে বিদ্যুৎ পরিবহন করে? ধাতুর ভেতরের পরমাণু ও ইলেকট্রনগুলোর এমন কী বিশেষ ব্যবস্থা থাকে?
কঠিন খাদ্য লবণ বিদ্যুৎ পরিবহন না করলেও কঠিন ধাতু কীভাবে বিদ্যুৎ পরিবহন করে?
- ধাতুতে যোজ্যতা ইলেকট্রনগুলো মুক্ত হয়ে ইলেকট্রন সাগরে পরিণত হয়, যা কঠিনের ভেতর দিয়ে চলাচল করতে পারে।
- কঠিন স্ফটিকের ভেতর দিয়ে ধনাত্মক ধাতব আয়নগুলি সরাসরি চলাচল করে বিদ্যুৎ পরিবহন করে।
- ধাতুতে কোনো ইলেকট্রনই পরমাণুর সাথে আবদ্ধ থাকে না: সব ইলেকট্রনই সম্পূর্ণ মুক্ত।
যা বদলাতে পারবে
- প্রথম পরমাণু (ডট): লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাশিয়াম (K), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), অ্যালুমিনিয়াম (Al)
- দ্বিতীয় পরমাণু (ক্রস): লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাশিয়াম (K), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), অ্যালুমিনিয়াম (Al)
- ছবি: বোর মডেল, তারপর ডট-ক্রস, শুধু বোর মডেল, শুধু ডট-ক্রস
যা মেপে দেখাবে
- বন্ধনের ধরন
- গঠন
- যোজ্যতা ইলেকট্রন
- গলনাঙ্ক (°C)
- গলিত অবস্থায় পরিবাহী
চালানোর সময় খেয়াল করো
- সোডিয়াম (Na) থেকে ম্যাগনেসিয়াম (Mg) বা অ্যালুমিনিয়াম (Al)-এ পরিবর্তন করে দেখো। যোজ্যতা ইলেকট্রন বাড়লে গলনাঙ্কের কী পরিবর্তন হয়?
- দুটি ভিন্ন ধাতু (যেমন Na ও Al) নির্বাচন করে দেখো। ফলাফল কি খাঁটি ধাতব ল্যাটিস থাকে, নাকি সংকর ধাতু (alloy) হয়?
নিজে করে দেখো
- এমন একটি ধাতব স্ফটিক তৈরি করো যার গলনাঙ্ক ৬০০ °C-এর বেশি।
ইঙ্গিত
বেশি যোজ্যতা ইলেকট্রন থাকা ধাতু বেছে নাও, যেমন ম্যাগনেসিয়াম (Mg) বা অ্যালুমিনিয়াম (Al)।
- দুটি ভিন্ন ধাতু মিশিয়ে একটি সংকর ধাতু (alloy) তৈরি করো।
ইঙ্গিত
প্রথম ও দ্বিতীয় পরমাণু হিসেবে দুটি আলাদা ধাতু নির্বাচন করো।
ধারণাটা কী?আগে নিজে চালিয়ে দেখো, তারপর খোলো।
ধাতব বন্ধন ও মুক্ত ইলেকট্রন মেঘ
ধাতব স্ফটিকে পরমাণুগুলো তাদের সর্ববহিঃস্থ স্তরের যোজ্যতা ইলেকট্রন ত্যাগ করে একটি যৌথ মুক্ত ইলেকট্রন মেঘ বা সাগরে পরিণত করে। এই সঞ্চরণশীল মুক্ত ইলেকট্রনগুলো সমগ্র স্ফটিক জুড়ে অবাধে চলাচল করতে পারে। মুক্ত ইলেকট্রনগুলোর সাগরে নিমজ্জিত ধনাত্মক ধাতব আয়নগুলির মধ্যকার স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণই হলো ধাতব বন্ধন। এই মুক্ত ইলেকট্রনগুলোর চলাচলের কারণেই কঠিন ধাতু বিদ্যুৎ ও তাপ সুপরিবাহী। যোজ্যতা স্তরে যত বেশি ইলেকট্রন থাকে, মুক্ত ইলেকট্রন মেঘে তত বেশি ইলেকট্রন জমা হয় এবং ধাতব বন্ধন তত বেশি শক্তিশালী হয়। বন্ধন শক্তিশালী হওয়ায় ধাতুর গলনাঙ্কও অনেক বৃদ্ধি পায়: ১টি যোজ্যতা ইলেকট্রনবিশিষ্ট Na-এর গলনাঙ্ক ৯৮ °C, ২টি ইলেকট্রনবিশিষ্ট Mg-এর গলনাঙ্ক ৬৫০ °C এবং ৩টি ইলেকট্রনবিশিষ্ট Al-এর গলনাঙ্ক ৬৬০ °C।
অন্য উত্তরগুলো কেন ভুল
কঠিন অবস্থায় ধাতব আয়নগুলি স্ফটিক ল্যাটিসে নির্দিষ্ট স্থানে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করে, তারা স্থান পরিবর্তন করতে পারে না। শুধুমাত্র মুক্ত যোজ্যতা ইলেকট্রনগুলোই ল্যাটিসের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এছাড়া ধাতুর ভেতরের শক্তিস্তরের ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসের সাথে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ থাকে, কেবল বাইরের যোজ্যতা ইলেকট্রনগুলোই মুক্ত সাগরে অংশ নেয়।
যেসব ভুল ধারণা হয়
- কঠিন ধাতুর ভেতর দিয়ে ধনাত্মক আয়নগুলি চলাচল করে বিদ্যুৎ পরিবহন করে
- ধাতুর সব ইলেকট্রনই মুক্ত থাকে এবং কোনো ইলেকট্রনই নিউক্লিয়াসে আবদ্ধ থাকে না
বাস্তবে কোথায় দেখা যায়
- বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডের দূরপাল্লার বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনে অ্যালুমিনিয়ামের তার ব্যবহার করা হয়। অ্যালুমিনিয়ামের মুক্ত ইলেকট্রন মেঘ সহজে বিদ্যুৎ পরিবহন করে এবং হালকা হওয়ায় খুঁটির ওপর কম টান পড়ে।
- বাসাবাড়ির সিলিং ফ্যান ও মোটরের কয়েলে তামার তার ব্যবহার করা হয়। তামার স্ফটিকে মুক্ত ইলেকট্রনগুলো খুব কম বাধায় চলাচল করতে পারে বলে বিদ্যুৎ অপচয় কম হয় এবং ফ্যান অতিরিক্ত গরম হয় না।