পড়ার নোট
লোহার জানালার গ্রিল, তামার তার, অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র ও সোনার অলংকার অসংখ্য ধাতব পরমাণু দিয়ে তৈরি। পরমাণুগুলো বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে থাকে না; ধাতুর মধ্যে নিয়মিত ত্রিমাত্রিক সজ্জা গঠন করে। এই সজ্জা এবং এর মধ্যে চলাচলকারী ইলেকট্রনের ধারণা দিয়ে ধাতুর গঠন ও অনেক ধর্ম ব্যাখ্যা করা যায়।
ধাতব পরমাণুর সর্বশেষ শক্তিস্তরে সাধারণত একটি, দুটি বা তিনটি ইলেকট্রন থাকে। একই পর্যায়ের অধাতব পরমাণুর তুলনায় ধাতব পরমাণু সাধারণত বড় হয়। ফলে বাইরের ইলেকট্রনের ওপর নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ তুলনামূলক কম থাকে। ধাতুর মধ্যে এই ইলেকট্রনগুলো কোনো একটি পরমাণুর সঙ্গে শক্তভাবে আবদ্ধ না থেকে পুরো গঠনে চলাচল করতে পারে।
বহিঃস্তরের এক বা একাধিক ইলেকট্রন ছেড়ে দেওয়ার পর পরমাণুর যে ধনাত্মক অংশ থাকে, তাকে পারমাণবিক শাঁস বলে। এটি শুধু নিউক্লিয়াস নয়; ভেতরের শক্তিস্তরে ইলেকট্রন থাকলে সেগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত। অসংখ্য পারমাণবিক শাঁস নিয়মিতভাবে সজ্জিত হয়ে ধাতুর কেলাসের কাঠামো তৈরি করে। কঠিন ধাতুতে শাঁসগুলো এই কাঠামোর নিজ নিজ অবস্থানের আশপাশে থাকে।
যে ইলেকট্রনগুলো নির্দিষ্ট কোনো পরমাণুর অধীনে না থেকে ধাতুর মধ্যে চলাচল করে, সেগুলো সঞ্চরণশীল ইলেকট্রন। এগুলো পুরো ধাতব গঠনের অংশ। ধনাত্মক শাঁসগুলোকে ইলেকট্রনের সমুদ্রের মধ্যে সজ্জিত কণার মতো কল্পনা করা যায়। এখানে সমুদ্র কথাটি একটি উপমা; ধাতুর মধ্যে সত্যিকারের কোনো তরল সমুদ্র থাকে না।
ধনাত্মক পারমাণবিক শাঁস ও ঋণাত্মক সঞ্চরণশীল ইলেকট্রনের তড়িৎ আকর্ষণকে ধাতব বন্ধন বলে। এই আকর্ষণ ধাতুর কণাগুলোকে একত্রে ধরে রাখে। শাঁস ধনাত্মক হলেও ধাতুখণ্ড সামগ্রিকভাবে নিরপেক্ষ থাকে, কারণ মুক্ত হওয়া ইলেকট্রনগুলো ধাতুর মধ্যেই থাকে এবং মোট ধনাত্মক আধানের ভারসাম্য বজায় রাখে।
এই গঠন ধাতুর দৃঢ়তা, নমনীয়তা, উজ্জ্বলতা এবং তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতার সঙ্গে সম্পর্কিত। যেমন, বাড়ির তামার তারের মধ্যে চলাচলযোগ্য ইলেকট্রন থাকায় তা বিদ্যুৎ বহন করতে পারে।
সাধারণ ভুল: ধাতুর সব ইলেকট্রন মুক্ত হয়ে যায় ভাবা। গঠনের ব্যাখ্যায় প্রধানত বহিঃস্তরের সঞ্চরণশীল ইলেকট্রন বিবেচনা করা হয়; ভেতরের সব ইলেকট্রন স্বাধীনভাবে চলাচল করে না।
মনে রাখো: ধাতুর গঠন হলো সঞ্চরণশীল ইলেকট্রনের মধ্যে নিয়মিতভাবে সজ্জিত ধনাত্মক পারমাণবিক শাঁস।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।