পড়ার নোট
লবণপানি ও চিনির পানি দেখতে একই রকম স্বচ্ছ হতে পারে। কিন্তু বিদ্যুৎ পরিবাহিতা, অর্থাৎ বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে দেওয়ার ক্ষমতা, দিয়ে তাদের পার্থক্য বোঝা যায়। খাদ্য লবণ একটি আয়নিক যৌগ এবং চিনি একটি সমযোজী যৌগ। দুটিই পানিতে দ্রবীভূত হলেও দ্রবণে তাদের কণার অবস্থা এক রকম থাকে না।
এই পরীক্ষার জন্য দুটি বিকার, পানি, খাদ্য লবণ, চিনি, কাচদণ্ড, ছোট ব্যাটারি, উপযুক্ত ছোট বাল্ব, সংযোগ তার এবং দুটি গ্রাফাইট বা ধাতব দণ্ড নাও। দ্রবণের সঙ্গে বর্তনীর সংযোগকারী দণ্ড দুটিকে তড়িৎদ্বার বলে। ব্যাটারি ও বাল্ব বাইরে থাকবে; শুধু দণ্ডের নিচের অংশ দ্রবণে ডুববে।
- দুটি বিকারে সমান পরিমাণ পানি নাও। একটিতে এক চামচ লবণ এবং অন্যটিতে এক চামচ চিনি দিয়ে আলাদাভাবে নেড়ে দ্রবীভূত করো।
- ব্যাটারি, বাল্ব ও তড়িৎদ্বার দুটি তার দিয়ে এমনভাবে যুক্ত করো, যেন বিদ্যুতের পথ দণ্ড দুটির মধ্যবর্তী দ্রবণের মধ্য দিয়ে যায়।
- দণ্ড দুটি পরস্পর স্পর্শ না করিয়ে লবণপানিতে ডোবাও এবং বাল্ব লক্ষ করো।
- তড়িৎদ্বার ভালোভাবে পরিষ্কার করে একই দূরত্ব ও প্রায় একই গভীরতা রেখে চিনির দ্রবণ পরীক্ষা করো। পর্যবেক্ষণ লিখে রাখো।
উপযুক্ত বর্তনীতে লবণের দ্রবণে বাল্ব জ্বলে। লবণ দ্রবীভূত হলে সোডিয়াম আয়ন, , এবং ক্লোরাইড আয়ন, , পানিতে আলাদা হয়ে চলাচল করতে পারে। এখানে Na সোডিয়াম, Cl ক্লোরিন এবং ওপরের চিহ্নগুলো আধানের ধরন বোঝায়। এই আয়নগুলো দ্রবণের মধ্যে আধান বহন করে।
চিনির দ্রবণে বাল্ব জ্বলে না, কারণ চিনি নিরপেক্ষ অণু হিসেবে থাকে; চলাচলযোগ্য আয়ন তৈরি করে না। অর্থাৎ দ্রবীভূত হওয়াই বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য যথেষ্ট নয়। রান্নাঘরের লবণপানি ও চিনির শরবতের পার্থক্য এভাবে কণার ধারণা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়।
সাধারণ ভুল: দুই দণ্ড ছুঁইয়ে পরীক্ষা করা। এতে বিদ্যুৎ সরাসরি দণ্ডের মধ্য দিয়ে যেতে পারে, ফলে দ্রবণ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত ভুল হবে। লবণের দ্রবণেও বাল্ব না জ্বললে আগে ব্যাটারি, বাল্ব ও তারের সংযোগ পরীক্ষা করো।
মনে রাখো: লবণের দ্রবণে চলাচলযোগ্য আয়ন আছে, চিনির দ্রবণে নেই—এই পার্থক্যই পরীক্ষার মূল কথা।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।