পড়ার নোট
দ্রাব্যতা হলো কোনো দ্রাবকে পদার্থের দ্রবীভূত হওয়ার ক্ষমতা, আর বিদ্যুৎ পরিবাহিতা হলো বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে দেওয়ার ক্ষমতা। দুটি ধর্ম এক নয়। কোনো পদার্থ পানিতে মিশে অদৃশ্য হয়ে গেলেই তার দ্রবণ বিদ্যুৎ পরিবহন করবে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। দ্রবণে চলাচল করতে পারে এমন আধানযুক্ত কণা আছে কি না, সেটিও দেখতে হবে।
দলগতভাবে খাদ্য লবণ, তুঁতে, চিনি, মোম ও সরিষার তেল নিয়ে তুলনা করো। তুঁতে হলো কপার সালফেটের সজল কেলাস। প্রতিটি নমুনা আলাদা পাত্রে রাখবে, যাতে একটির কণা অন্যটিতে মিশে পর্যবেক্ষণ বদলে না দেয়।
- পাঁচটি পরিষ্কার বিকারে সমান পরিমাণ পানি নিয়ে নমুনার নাম লিখে চিহ্নিত করো।
- আলাদা বিকারে অল্প পরিমাণে একেকটি নমুনা দাও। পরিষ্কার কাচদণ্ড দিয়ে নাড়ো।
- কোনটি দ্রবীভূত হলো, কোনটি আলাদা রইল এবং কোনো রঙ দেখা গেল কি না লিখে রাখো।
- তৈরি হওয়া দ্রবণগুলোতে আলাদাভাবে ব্যাটারি, বাল্ব ও দুটি তড়িৎদ্বারের সাহায্যে বিদ্যুৎ পরিবাহিতা পরীক্ষা করো। শুধু তড়িৎদ্বার দ্রবণে ডোবাবে।
খাদ্য লবণ ও তুঁতে দ্রবীভূত হয়; তুঁতে নীল দ্রবণ তৈরি করে। পানি পোলার হওয়ায় তার আংশিক আধানযুক্ত প্রান্তগুলো আয়নকে আকর্ষণ করে আলাদা করতে সাহায্য করে। দ্রবণে আয়নগুলো চলাচল করতে পারে বলে বিদ্যুৎ পরিবহন হয়।
চিনিও পানিতে দ্রবীভূত হয়, কিন্তু অণু হিসেবে ছড়িয়ে থাকে; চলাচলযোগ্য আয়ন তৈরি করে না। তাই চিনির দ্রবণ বিদ্যুৎ পরিবহন করে না। গ্লুকোজের ক্ষেত্রেও একই ব্যাখ্যা প্রযোজ্য। অন্যদিকে মোম ও সরিষার তেল দ্রবীভূত হয় না; নাড়ার পরও আলাদা থাকে। এগুলোকে মোমের দ্রবণ বা তেলের দ্রবণ বলা ঠিক নয়।
বাংলাদেশের রান্নাঘরে লবণপানি, মিষ্টি শরবত এবং পানির ওপর তেলের স্তর এই তিন ধরনের আচরণ মনে রাখতে সাহায্য করে। প্রথম দুটিতে পদার্থ দ্রবীভূত হলেও বিদ্যুৎ পরিবাহিতায় পার্থক্য থাকে।
সাধারণ ভুল: শুধু দ্রাব্যতা দেখে বন্ধনের ধরন নিশ্চিত করা। চিনি দ্রবণীয় সমযোজী পদার্থ; আবার সমযোজী হাইড্রোজেন ক্লোরাইড পানিতে আয়ন তৈরি করে বিদ্যুৎ পরিবহন করে। তাই মূল বিচার হলো দ্রবণে চলাচলযোগ্য আয়নের উপস্থিতি।
মনে রাখো: পানিতে দ্রবীভূত হওয়া ও আয়ন তৈরি হওয়া আলাদা ঘটনা; চলাচলযোগ্য আয়ন দ্রবণে বিদ্যুৎ বহন করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।