পড়ার নোট
কোনো মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা জানা থাকলে প্রথমে তার ইলেকট্রন বিন্যাস লেখো, তারপর সেখান থেকে পর্যায় ও গ্রুপ পড়ে নাও।
পর্যায় নম্বর: ইলেকট্রন বিন্যাসের সবচেয়ে বাইরের প্রধান শক্তিস্তরের নম্বরই পর্যায় নম্বর। যেমন K(19) এর বিন্যাস ; বাইরের শক্তিস্তর 4, তাই পটাশিয়াম পর্যায় 4 এর মৌল।
গ্রুপ নম্বর বের করার তিন নিয়ম:
- নিয়ম 1: বাইরের প্রধান শক্তিস্তরে শুধু s অরবিটাল থাকলে ঐ s অরবিটালের ইলেকট্রন সংখ্যাই গ্রুপ নম্বর। যেমন H(1): , গ্রুপ 1।
- নিয়ম 2: বাইরের শক্তিস্তরে s ও p অরবিটাল থাকলে s ও p এর মোট ইলেকট্রন সংখ্যার সাথে 10 যোগ করলে গ্রুপ নম্বর পাওয়া যায়।
- নিয়ম 3: বাইরের শক্তিস্তরে s অরবিটাল এবং তার আগের শক্তিস্তরে d অরবিটাল থাকলে s ও d এর ইলেকট্রন সংখ্যার যোগফলই গ্রুপ নম্বর।
উদাহরণ 1: সালফার S(16): । বাইরের শক্তিস্তর 3, তাই পর্যায় 3। বাইরের স্তরে s ও p আছে, তাই নিয়ম 2: , অর্থাৎ গ্রুপ 16।
উদাহরণ 2: ম্যাঙ্গানিজ Mn(25): । বাইরের শক্তিস্তর 4, তাই পর্যায় 4। বাইরের স্তরে এবং আগের স্তরে , তাই নিয়ম 3: , অর্থাৎ গ্রুপ 7।
উদাহরণ 3: অ্যালুমিনিয়াম Al(13): । পর্যায় 3, গ্রুপ ।
ক্রোমিয়াম ও কপারের বিন্যাস একটু আলাদা ( ও ), তবু নিয়ম 3 খাটে: Cr এর গ্রুপ এবং Cu এর গ্রুপ ।
ব্যতিক্রম: He(2) এর বিন্যাস , নিয়ম 1 অনুযায়ী গ্রুপ 2 হওয়ার কথা; কিন্তু হিলিয়াম নিষ্ক্রিয় গ্যাস, তাই তাকে গ্রুপ 18 এ রাখা হয়।
সাধারণ ভুল হলো নিয়ম 2 এ 10 যোগ করতে ভুলে যাওয়া; তখন সালফারকে ভুল করে গ্রুপ 6 এ বসানো হয়।
মনে রাখো: সবচেয়ে বাইরের প্রধান শক্তিস্তরের নম্বর = পর্যায়; গ্রুপের জন্য শুধু s হলে s এর ইলেকট্রন, s ও p হলে তাদের যোগফল + 10, আর s ও আগের d হলে তাদের যোগফল।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।