আগে বোঝো, তারপর মুখস্থ
পর্যায় সারণিতে মৌলগুলো সাজানো থাকে পারমাণবিক সংখ্যার ক্রমে। সারণিতে ৭টি পর্যায় (আড়াআড়ি সারি) আর ১৮টি গ্রুপ (খাড়া স্তম্ভ)। পর্যায়গুলোতে মৌলের সংখ্যা ২, ৮, ৮, ১৮, ১৮, ৩২, ৩২। ল্যান্থানাইড (৫৭–৭১) ও অ্যাকটিনাইড (৮৯–১০৩) সারি নিচে আলাদা দেখানো হয়, তবে এরা ৬ ও ৭ নম্বর পর্যায়েরই অংশ।
মৌলের অবস্থান তার ইলেকট্রন বিন্যাস থেকেই আসে, তাই ছন্দ দিয়ে ক্রম মনে রাখো আর বিন্যাস দিয়ে বোঝো কোনটি কোথায়।
ছন্দে ১ থেকে ১০
H, He, Li, Be, B, C, N, O, F, Ne:
হঠাৎ হেসে লিলি বেগম বলল, কাল নানু ও ফুপু নেবে।
প্রতিটি শব্দের শুরুর ধ্বনি একটি প্রতীক: হঠাৎ = H (হাইড্রোজেন), হেসে = He (হিলিয়াম), লিলি = Li (লিথিয়াম), বেগম = Be (বেরিলিয়াম), বলল = B (বোরন), কাল = C (কার্বন), নানু = N (নাইট্রোজেন), ও = O (অক্সিজেন), ফুপু = F (ফ্লোরিন), নেবে = Ne (নিয়ন)।
ছন্দে ১১ থেকে ২০
Na, Mg, Al, Si, P, S, Cl, Ar, K, Ca:
নানার মগে আলু সিদ্ধ, পরে সবাই ক্লাসে আড্ডায়, কাকা ক্যান্টিনে।
নানার = Na (সোডিয়াম), মগে = Mg (ম্যাগনেসিয়াম), আলু = Al (অ্যালুমিনিয়াম), সিদ্ধ = Si (সিলিকন), পরে = P (ফসফরাস), সবাই = S (সালফার), ক্লাসে = Cl (ক্লোরিন), আড্ডায় = Ar (আর্গন), কাকা = K (পটাশিয়াম), ক্যান্টিনে = Ca (ক্যালসিয়াম)।
ছন্দে ২১ থেকে ৩০
Sc, Ti, V, Cr, Mn, Fe, Co, Ni, Cu, Zn:
স্কুলে টিয়া ভাই ক্রিকেটে মন ফেলে, কোচ নিজেই কাপ জিতল।
স্কুলে = Sc (স্ক্যান্ডিয়াম), টিয়া = Ti (টাইটেনিয়াম), ভাই = V (ভ্যানাডিয়াম), ক্রিকেটে = Cr (ক্রোমিয়াম), মন = Mn (ম্যাঙ্গানিজ), ফেলে = Fe (আয়রন), কোচ = Co (কোবাল্ট), নিজেই = Ni (নিকেল), কাপ = Cu (কপার), জিতল = Zn (জিংক)।
গ্রুপের ছন্দ
| গ্রুপ | মৌল | ছন্দ |
|---|---|---|
| ১ (ক্ষার ধাতু) | Li, Na, K, Rb, Cs, Fr | লিলি নাচে, কাকা রুবি সেজে ফ্রকে |
| ২ (মৃৎক্ষার ধাতু) | Be, Mg, Ca, Sr, Ba, Ra | বেলা মগে ক্যাফে স্ট্র বাড়িয়ে রাখে |
| ১৭ (হ্যালোজেন) | F, Cl, Br, I, At, Ts | ফুলি ক্লাসে ব্রাশ, আয়না আস্তে টেনে |
| ১৮ (নিষ্ক্রিয় গ্যাস) | He, Ne, Ar, Kr, Xe, Rn | হেনা নেয় আর ক্রিকেট জেনে রান |
গ্রুপ ১-এ হাইড্রোজেনও থাকে, তবে এটি ক্ষার ধাতু নয়। গ্রুপ ১১-এর কপার, সিলভার ও গোল্ড মুদ্রা ধাতু, আর ৩ থেকে ১২ নম্বর গ্রুপের d-ব্লকের মৌলগুলোর মধ্যে আছে অবস্থান্তর মৌল।
প্রথম ৩৬টি মৌলের ছক
| পর্যায় | ১ | ২ | ৩–১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬ | ১৭ | ১৮ |
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| ১ | H | He | |||||||
| ২ | Li | Be | B | C | N | O | F | Ne | |
| ৩ | Na | Mg | Al | Si | P | S | Cl | Ar | |
| ৪ | K | Ca | Sc … Zn | Ga | Ge | As | Se | Br | Kr |
এই ছকটি সাদা কাগজে নিজে আঁকতে পারলেই প্রথম ৩৬টি মৌলের অবস্থান তোমার জানা।
ল্যাটিন নাম থেকে আসা প্রতীক
কিছু প্রতীক ইংরেজি নাম দেখে মেলে না, কারণ সেগুলো এসেছে ল্যাটিন নাম থেকে (টাংস্টেনের W এসেছে Wolfram নাম থেকে)। এগুলো আলাদা করে মুখস্থ রাখো:
| মৌল | ল্যাটিন নাম | প্রতীক |
|---|---|---|
| সোডিয়াম | Natrium | Na |
| পটাশিয়াম | Kalium | K |
| আয়রন | Ferrum | Fe |
| কপার | Cuprum | Cu |
| সিলভার | Argentum | Ag |
| গোল্ড | Aurum | Au |
| টিন | Stannum | Sn |
| লেড | Plumbum | Pb |
| মার্কারি | Hydrargyrum | Hg |
| এন্টিমনি | Stibium | Sb |
| টাংস্টেন | Wolfram | W |
সাত দিনের অনুশীলন
১. প্রথম দুই দিন: প্রতিদিন একটি করে ছন্দ (১–১০, ১১–২০) জোরে বলো, তারপর না দেখে প্রতীকগুলো লেখো। ২. তৃতীয় দিন: ২১–৩০-এর ছন্দ, সাথে ল্যাটিন নামের ছক। ৩. চতুর্থ দিন: গ্রুপের ছন্দগুলো। ৪. পঞ্চম দিন থেকে: প্রতিদিন সাদা কাগজে ওপরের ৩৬ মৌলের ছকটি আঁকো, তারপর পাঠ্যবইয়ের সারণির সাথে মিলিয়ে ভুলগুলো লাল কালিতে ঠিক করো। ৫. শেষে কয়েকটি মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস লিখে পর্যায় ও গ্রুপ বের করো, আর ছকে মিলিয়ে দেখো।
সাধারণ ভুল
- K-কে ক্যালসিয়াম ভাবা। K পটাশিয়াম (Kalium), ক্যালসিয়াম Ca।
- প্রতীকের দ্বিতীয় অক্ষর বড় হাতে লেখা (CL, MG)। প্রথম অক্ষর বড়, দ্বিতীয়টি ছোট: Cl, Mg।
- হাইড্রোজেনকে ক্ষার ধাতু বলা। গ্রুপ ১-এ থাকলেও এটি ক্ষার ধাতু নয়।