পড়ার নোট
আধুনিক পর্যায় সারণি
আমাদের পরিচিত 118টি মৌলকে কোনো নিয়ম ছাড়া আলাদা আলাদা ভাবে মুখস্থ করা খুব কঠিন। তাই বিজ্ঞানীরা মৌলগুলোকে তাদের ধর্মের ভিত্তিতে সাজিয়ে একটি ছক তৈরি করেছেন, যার নাম পর্যায় সারণি। এই ছকে মৌলগুলো পারমাণবিক সংখ্যা অনুযায়ী ছোট থেকে বড় ক্রমে সাজানো আছে।
আধুনিক পর্যায় সারণিতে মৌলগুলো সাজানো হয়েছে তাদের ইলেকট্রন বিন্যাসের ভিত্তিতে। যে মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা 1, সেটি হাইড্রোজেন (H), তারপর হিলিয়াম (He), লিথিয়াম (Li) এভাবে চলেছে।
পর্যায় সারণিতে মৌলগুলো সারি ও কলামে সাজানো:
- সারিগুলোকে বলা হয় পর্যায়। মোট 7টি পর্যায় আছে।
- উল্লম্ব কলামগুলোকে বলা হয় গ্রুপ। মোট 18টি গ্রুপ আছে।
যে মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসে সর্ববহিঃস্থ শক্তি স্তরে একই সংখ্যক ইলেকট্রন থাকে, তারা একই গ্রুপে থাকে। যেমন: লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাশিয়াম (K) – এদের সর্ববহিঃস্থ শক্তি স্তরে 1টি ইলেকট্রন আছে, তাই এরা গ্রুপ-1 এ আছে।
আবার, কোন মৌল কোন পর্যায়ে আছে তা নির্ভর করে তার ইলেকট্রন কয়টি কক্ষপথে (শক্তি স্তরে) ছড়ানো আছে তার উপর। যেমন: সোডিয়ামের (Na) ইলেকট্রন 3টি কক্ষপথে আছে (K, L, M), তাই এটি 3য় পর্যায়ে।
পর্যায় সারণির বাম দিকে থাকে ধাতু, ডান দিকে থাকে অধাতু, আর মাঝামাঝি কিছু মৌল যারা ধাতু ও অধাতু দুটোর মতোই আচরণ করে, তাদের বলা হয় অপধাতু বা অর্ধধাতু (যেমন: সিলিকন)।
মনে রাখো: পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি হলো মৌলগুলোর ইলেকট্রন বিন্যাস।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।