offSchoolবেটা

রসায়ন · অধ্যায় ৪ · টপিক ৭

বিভিন্ন শ্রেণির মৌলের বিশেষ নাম: ক্ষার ধাতু, মৃৎক্ষার ধাতু, মুদ্রা ধাতু, হ্যালোজেন, নিষ্ক্রিয় গ্যাস, অবস্থান্তর মৌল

পড়ার নোট

মৌলের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের ভিত্তিতে বিভিন্ন সময়ে কিছু গ্রুপের মৌলকে বিশেষ নাম দেওয়া হয়েছে।

  • ক্ষার ধাতু (গ্রুপ 1): গ্রুপ 1 এর 7টি মৌলের মধ্যে হাইড্রোজেন ছাড়া বাকি 6টি: লিথিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, রুবিডিয়াম, সিজিয়াম ও ফ্রান্সিয়াম। এরা পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার তৈরি করে, যেমন 2Na+2H2O→2NaOH+H2\mathrm{2Na + 2H_2O \rightarrow 2NaOH + H_2}।
  • মৃৎক্ষার ধাতু (গ্রুপ 2): বেরিলিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, স্ট্রনসিয়াম, বেরিয়াম ও রেডিয়াম। এদের বিভিন্ন যৌগ মাটিতে পাওয়া যায় এবং এরা ক্ষার তৈরি করে; যেমন ক্যালসিয়ামের হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2\mathrm{Ca(OH)_2} একটি ক্ষার।
  • মুদ্রা ধাতু (গ্রুপ 11): এ গ্রুপের 4টি মৌল কপার, সিলভার, গোল্ড ও রন্টজেনিয়াম। প্রথম 3টি দিয়ে প্রাচীনকালে মুদ্রা তৈরি হতো এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিময়ে ব্যবহৃত হতো, তাই এদের মুদ্রা ধাতু বলে।
  • হ্যালোজেন (গ্রুপ 17): ফ্লোরিন, ক্লোরিন, ব্রোমিন, আয়োডিন, অ্যাস্টাটিন ও টেনেসিন; এদের X দিয়ে প্রকাশ করা হয়। হ্যালোজেন মানে লবণ উৎপাদনকারী, এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ। ধাতুর সাথে যুক্ত হয়ে এরা লবণ তৈরি করে, যেমন সোডিয়াম ফ্লোরাইড (NaF\mathrm{NaF}) ও সোডিয়াম ক্লোরাইড বা খাদ্যলবণ (NaCl\mathrm{NaCl})। নিজেরা ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে Cl2\mathrm{Cl_2}, I2\mathrm{I_2} এর মতো দ্বিপরমাণুক অণু গঠন করে।
  • নিষ্ক্রিয় গ্যাস (গ্রুপ 18): হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপ্টন, জেনন, রেডন ও ওগানেসন। বাইরের শক্তিস্তর প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনে পূর্ণ বলে এরা বিক্রিয়ায় অংশ নেয় না, আর সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাস হিসেবে থাকে।
  • অবস্থান্তর মৌল: d-ব্লকের যেসব মৌলের এক বা একাধিক d অরবিটাল আংশিক ইলেকট্রনপূর্ণ, যেমন লোহা (Fe), নিকেল (Ni), ক্রোমিয়াম (Cr)। সবগুলোই ধাতু, তাই এদের অবস্থান্তর ধাতুও বলে। এরা যৌগে একাধিক যোজনী দেখায়, সাধারণত রঙিন যৌগ গঠন করে এবং শিল্পে ভালো প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।

উদাহরণ: জিংক Zn(30) d-ব্লকের মৌল, কিন্তু এর বিন্যাস 3d104s23d^{10} 4s^2; d অরবিটাল সম্পূর্ণ পূর্ণ, আংশিক নয়। তাই সংজ্ঞা অনুযায়ী জিংক অবস্থান্তর মৌল নয়। অন্যদিকে Fe(26) এর 3d63d^6 আংশিক পূর্ণ, তাই লোহা অবস্থান্তর মৌল।

সাধারণ ভুল হলো হাইড্রোজেনকে ক্ষার ধাতু বলা। হাইড্রোজেন গ্রুপ 1 এ থাকলেও এটি অধাতু।

মনে রাখো: গ্রুপ 1-এর হাইড্রোজেন ছাড়া বাকি মৌলগুলো ক্ষার ধাতু, গ্রুপ 2 মৃৎক্ষার ধাতু, গ্রুপ 11 এর Cu, Ag, Au মুদ্রা ধাতু, গ্রুপ 17 হ্যালোজেন, গ্রুপ 18 নিষ্ক্রিয় গ্যাস; আর আংশিক পূর্ণ d অরবিটালের মৌল অবস্থান্তর মৌল।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • পর্যায় সারণির পরিবার: ক্ষারধাতু ও হ্যালোজেনচালিয়ে দেখো

    রসায়ন গবেষণাগারে সোডিয়ামকে (Na, পারমাণবিক সংখ্যা ১১) বাতাসের অক্সিজেন ও আর্দ্রতা থেকে বাঁচাতে কেরোসিনের নিচে রাখা হয়। এর ১ম আয়নীকরণ শক্তি ৪৯৬ kJ/mol। একই গ্রুপ-১ এর পরবর্তী ক্ষারধাতু পটাশিয়াম (K, পারমাণবিক সংখ্যা ১৯) পানির সংস্পর্শে এলে আরও তীব্র বিস্ফোরণসহ জ্বলে ওঠে। পটাশিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসে ১৯টি প্রোটন এবং বাইরে ৪টি শক্তিস্তরে ইলেকট্রন (২, ৮, ৮, ১) রয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে বলো: সোডিয়াম নাকি পটাশিয়াম কার ১ম আয়নীকরণ শক্তি কম হবে?

এই টপিকের গাইড

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. প্রাচীন বাংলায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও মুদ্রা তৈরিতে পর্যায় সারণির ১১ নম্বর গ্রুপের কিছু মূল্যবান ধাতু ব্যবহৃত হতো, যাদের 'মুদ্রা ধাতু' (coinage metals) বলা হয়। নিচের কোন গুচ্ছে কেবল মুদ্রা ধাতু রয়েছে?

    1. ক

      কপার (Cu), সিলভার (Ag), গোল্ড (Au)

    2. খ

      আয়রন (Fe), কোবাল্ট (Co), নিকেল (Ni)

    3. গ

      সোডিয়াম (Na), পটাশিয়াম (K), ক্যালসিয়াম (Ca)

    4. ঘ

      জিংক (Zn), ক্যাডমিয়াম (Cd), মার্কারি (Hg)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) কপার (Cu), সিলভার (Ag), গোল্ড (Au)

    1. পর্যায় সারণির ১১ নম্বর গ্রুপের চারটি মৌলের মধ্যে কপার (Cu), সিলভার (Ag) এবং গোল্ড (Au)—এই তিনটি ধাতু দিয়ে প্রাচীনকালে মুদ্রা তৈরি করা হতো এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিময় মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
    2. ঐতিহাসিক ব্যবহারের কারণেই রসায়ন পাঠ্যপুস্তক অনুসারে এদেরকে মুদ্রা ধাতু (coinage metals) বলা হয়।
  2. পর্যায় সারণির গ্রুপ ১৭-এর হ্যালোজেন মৌলগুলোর ক্ষেত্রে ওপর থেকে নিচে নামলে পরমাণুর আকার বৃদ্ধির কারণে ইলেকট্রন আসক্তি (electron affinity) ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাওয়ার কথা। সেই হিসেবে ফ্লোরিনের (F, পারমাণবিক সংখ্যা ৯) ইলেকট্রন আসক্তি ক্লোরিনের (Cl, পারমাণবিক সংখ্যা ১৭) চেয়ে বেশি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে ক্লোরিনের ইলেকট্রন আসক্তি ফ্লোরিনের চেয়ে বেশি হয়। এর কারণ কী?

    1. ক

      ফ্লোরিনের পারমাণবিক আকার অতি ক্ষুদ্র হওয়ায় ২য় শক্তিস্তরে ইলেকট্রন ঘনত্ব খুব বেশি এবং তা আগত নতুন ইলেকট্রনকে তীব্রভাবে বিকর্ষণ করে

    2. খ

      ক্লোরিনের তড়িৎ ঋণাত্মকতা ফ্লোরিনের চেয়ে বেশি

    3. গ

      ক্লোরিনের ১ম আয়নিকরণ শক্তি ফ্লোরিনের চেয়ে বেশি

    4. ঘ

      ফ্লোরিনের শেষ শক্তিস্তরে d অরবিটাল বিদ্যমান কিন্তু ক্লোরিনে কোনো d অরবিটাল নেই

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) ফ্লোরিনের পারমাণবিক আকার অতি ক্ষুদ্র হওয়ায় ২য় শক্তিস্তরে ইলেকট্রন ঘনত্ব খুব বেশি এবং তা আগত নতুন ইলেকট্রনকে তীব্রভাবে বিকর্ষণ করে

    1. গ্রুপ ১৭-এ নিচে নামলে পরমাণুর আকার বাড়ে, ফলে সাধারণ প্রবণতা অনুযায়ী ইলেকট্রন আসক্তি কমার কথা (F > Cl > Br > I)।
    2. কিন্তু ফ্লোরিনের আকার অত্যন্ত ছোট হওয়ায় এর ২য় প্রধান শক্তিস্তরের ক্ষুদ্র পরিসরে ৭টি ইলেকট্রন পুঞ্জীভূত থাকে, ফলে এর ইলেকট্রন মেঘের ঘনত্ব খুব বেশি হয়।
    3. এই উচ্চ ঘনত্বের কারণে বাইরে থেকে আগত নতুন ইলেকট্রনটি তীব্র বিকর্ষণের সম্মুখীন হয়। পক্ষান্তরে ক্লোরিনের ৩য় শক্তিস্তর অপেক্ষাকৃত প্রশস্ত হওয়ায় ইলেকট্রন ঘনত্ব কম থাকে এবং আগত ইলেকট্রন সহজে গৃহীত হয়। তাই ক্লোরিনের ইলেকট্রন আসক্তি (৩৪৯ kJ/mol) ফ্লোরিনের (৩২৮ kJ/mol) চেয়ে বেশি।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো