পড়ার নোট
রাসায়নিক বন্ধন হলো সেই আকর্ষণ বল, যা পরমাণুগুলোকে একসঙ্গে যুক্ত রাখে। পদার্থের অণুতে পরমাণুগুলো শুধু পাশাপাশি জমা থাকে না; তাদের মধ্যে আকর্ষণ কার্যকর থাকে। যেমন, হাইড্রোজেন অণুর দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু এবং হাইড্রোজেন ক্লোরাইড অণুর হাইড্রোজেন ও ক্লোরিন পরমাণু বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকে।
বন্ধন একই মৌলের দুটি পরমাণুর মধ্যেও হতে পারে, আবার ভিন্ন মৌলের পরমাণুর মধ্যেও হতে পারে। তাই বন্ধন আছে মানেই পদার্থটি যৌগ—এমন নয়। দুটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তৈরি অণু মৌলিক পদার্থের অণু, কিন্তু হাইড্রোজেন ও ক্লোরিনের তৈরি অণু যৌগের অণু।
বন্ধন গঠনের প্রধান কারণ হলো পরমাণুর বহিঃস্থ স্তরে স্থিতিশীল ইলেকট্রন বিন্যাস অর্জনের প্রবণতা। নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলোর বিন্যাস আগে থেকেই স্থিতিশীল। অন্য পরমাণু ইলেকট্রন ত্যাগ, গ্রহণ বা শেয়ারের মাধ্যমে অনুরূপ বিন্যাস অর্জন করতে পারে। এই পরিবর্তনে যোজ্যতা ইলেকট্রন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সোডিয়ামের বিন্যাস 2, 8, 1 এবং ক্লোরিনের 2, 8, 7। সোডিয়াম বাইরের একটি ইলেকট্রন ক্লোরিনকে দিলে সোডিয়ামের বিন্যাস হয় 2, 8 এবং ক্লোরিনের হয় 2, 8, 8। এগুলো যথাক্রমে নিয়ন ও আর্গনের মতো বিন্যাস। ইলেকট্রন হারিয়ে সোডিয়াম ধনাত্মক এবং ইলেকট্রন পেয়ে ক্লোরিন ঋণাত্মক আয়ন হয়। বিপরীত আধানের আকর্ষণ তাদের যুক্ত রাখে।
অন্যদিকে, দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু একটি করে ইলেকট্রন শেয়ার করে একটি জোড় তৈরি করতে পারে। শেয়ারকৃত জোড়টি উভয় পরমাণুর জন্য গণ্য হয়। ফলে প্রত্যেকটি হিলিয়ামের মতো দুই ইলেকট্রনের বিন্যাস পায়। এখানে কোনো পরমাণুকে সম্পূর্ণ ইলেকট্রন দিয়ে দিতে হয় না।
এই অধ্যায়ে আলোচিত প্রধান বন্ধন হলো আয়নিক, সমযোজী ও ধাতব বন্ধন। বাংলাদেশের বাড়িতে রান্নার লবণে আয়নিক বন্ধন, পানির অণুতে সমযোজী বন্ধন এবং তামার তারে ধাতব বন্ধনের উদাহরণ দেখা যায়। পরিচিত পদার্থগুলোর মধ্যে কণাকে যুক্ত রাখার পদ্ধতি তাই এক নয়।
সাধারণ ভুল হলো ইলেকট্রন স্থানান্তরের ঘটনাকেই সম্পূর্ণ বন্ধন বলা। স্থানান্তরে আয়ন তৈরি হয়; এরপর আয়নগুলোর আকর্ষণই আয়নিক বন্ধন। একইভাবে সব বন্ধনে ইলেকট্রন স্থানান্তর হয় না, শেয়ারও হতে পারে।
মনে রাখো: স্থিতিশীল ইলেকট্রন বিন্যাস অর্জনের সঙ্গে সৃষ্ট আকর্ষণ পরমাণুগুলোকে রাসায়নিক বন্ধনে যুক্ত রাখে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।