পড়ার নোট
সমযোজী বন্ধন হলো দুটি অধাতব পরমাণুর মধ্যে এক বা একাধিক জোড়া ইলেকট্রন শেয়ারের মাধ্যমে গঠিত রাসায়নিক বন্ধন। শেয়ার করা ইলেকট্রন জোড় উভয় পরমাণুর কাজে লাগে। তাই কোনো একটি পরমাণু সম্পূর্ণভাবে ইলেকট্রন হারানো বা গ্রহণ করা ছাড়াই স্থিতিশীল বহিঃস্তর লাভ করতে পারে। এই বন্ধনযুক্ত যৌগকে সমযোজী যৌগ বলে।
দুটি ক্লোরিন পরমাণুর কথা ভাবো। প্রত্যেকটির সর্বশেষ শক্তিস্তরে সাতটি ইলেকট্রন থাকে। উভয়েরই একটি অতিরিক্ত ইলেকট্রন দরকার, কিন্তু একটি পরমাণু সহজে নিজের ইলেকট্রন পুরোপুরি ছেড়ে দেয় না। তাই প্রত্যেকে একটি করে ইলেকট্রন দিয়ে একটি শেয়ার করা জোড় তৈরি করে। জোড়টি দুই নিউক্লিয়াসের মধ্যবর্তী অঞ্চলে থাকে এবং উভয় নিউক্লিয়াসের আকর্ষণে পরমাণু দুটিকে যুক্ত রাখে।
এইভাবে ক্লোরিন অণু, , তৈরি হয়। প্রতিটি ক্লোরিনের জন্য নিজের ছয়টি অশেয়ার করা ইলেকট্রন এবং শেয়ার করা জোড়ের দুটি ইলেকট্রন গণনা করলে বহিঃস্তরে আটটি পাওয়া যায়। একটি শেয়ার করা জোড় একটি একক সমযোজী বন্ধন গঠন করে। গাঠনিক সংকেতে একটি রেখা দিয়ে এটি প্রকাশ করা হয়: । এখানে Cl ক্লোরিনের প্রতীক।
হাইড্রোজেনের ক্ষেত্রে প্রতিটি পরমাণু একটি করে ইলেকট্রন দেয়। তৈরি হওয়া জোড়টি শেয়ার করে উভয় পরমাণু হিলিয়ামের মতো দুটি ইলেকট্রনের স্থিতিশীল বিন্যাস পায়। হাইড্রোজেন ও ক্লোরিনও একটি জোড় শেয়ার করে হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গঠন করে; হাইড্রোজেনের দুই এবং ক্লোরিনের আট ইলেকট্রনের চাহিদা পূরণ হয়।
অক্সিজেনের বহিঃস্তরে ছয়টি ইলেকট্রন থাকে। দুটি অক্সিজেন পরমাণু প্রত্যেকে দুটি করে ইলেকট্রন দিয়ে দুই জোড় শেয়ার করে। ফলে দ্বিবন্ধন তৈরি হয়, যা দিয়ে দেখানো যায়; O অক্সিজেনের প্রতীক। এখানে মোট চারটি ইলেকট্রন বন্ধনে অংশ নেয়।
প্রতিদিনের পানির অণুতেও সমযোজী বন্ধন আছে। একটি অক্সিজেন দুটি হাইড্রোজেনের সঙ্গে পৃথক দুটি জোড় শেয়ার করে। বিন্দু ও ক্রস ব্যবহার করলে কোন পরমাণু কোন ইলেকট্রন দিয়েছে তা বোঝানো যায়; এগুলো ভিন্ন ধরনের ইলেকট্রন নয়।
সাধারণ ভুল: একটি বন্ধনরেখাকে একটি ইলেকট্রন ভাবা। প্রতিটি একক বন্ধনরেখা দুই ইলেকট্রনের একটি জোড় নির্দেশ করে।
মনে রাখো: সমযোজী বন্ধনে শেয়ার করা ইলেকট্রন জোড় উভয় পরমাণুকে যুক্ত রাখে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।