পড়ার নোট
দ্রব, দ্রাবক ও দ্রবণ
আধা গ্লাস পানিতে খাবার লবণ মিশিয়ে নাড়লে লবণ আর দেখা যায় না; এই মিশ্রণই দ্রবণ। এখানে পানি দ্রাবক আর লবণ দ্রব: দ্রবণ = দ্রব + দ্রাবক। পানি দ্রাবক হলে দ্রবণকে জলীয় দ্রবণ বলে।
একই পরিমাণ দ্রাবকে কম দ্রব থাকলে লঘু দ্রবণ, বেশি থাকলে গাঢ় দ্রবণ। এটি আপেক্ষিক; লঘু ও গাঢ়ের নির্দিষ্ট সীমা নেই। তাই সঠিক পরিমাপের জন্য মোলারিটি ব্যবহার করা হয়।
মোলারিটি
নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় প্রতি লিটার দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের মোল সংখ্যাকে ওই দ্রবণের মোলারিটি বলে। 1 লিটার দ্রবণে 1 মোল দ্রব থাকলে তা মোলার দ্রবণ বা এক মোলার দ্রবণ।
| 1 লিটার দ্রবণে দ্রব | মোলারিটি | নাম |
|---|---|---|
| 1 মোল | 1 | মোলার |
| 0.5 মোল | 0.5 | সেমিমোলার |
| 0.1 মোল | 0.1 | ডেসিমোলার |
সূত্র
এখানে = দ্রবের ভর (গ্রাম), = দ্রবণের মোলারিটি (মোলার, অর্থাৎ মোল/লিটার), = দ্রবণের আয়তন (মিলিলিটার), = দ্রবের আণবিক ভর। 1000 দিয়ে ভাগ করা হয় কারণ মিলিলিটারে, আর মোলারিটি প্রতি লিটারে।
উদাহরণ: 250 mL দ্রবণে 9 g গ্লুকোজ () দ্রবীভূত আছে। দ্রবণের মোলারিটি কত? (C = 12, H = 1, O = 16)
- ।
- থেকে ।
- মোলার।
যাচাই: 9 g গ্লুকোজ মোল; 250 mL বা 0.25 লিটারে, তাই প্রতি লিটারে মোল।
সাধারণ ভুল হলো লিটারে বসিয়ে আবার 1000 দিয়ে ভাগ করা। সূত্রে অবশ্যই মিলিলিটারে বসাতে হয়।
আরেকটি ভুল হলো মোলারিটিকে প্রতি লিটার দ্রাবকে দ্রবের পরিমাণ ভাবা। মোলারিটি গোনা হয় প্রতি লিটার মোট দ্রবণে।
মনে রাখো: মোলারিটি হলো প্রতি লিটার দ্রবণে দ্রবের মোল সংখ্যা; সূত্রে মিলিলিটারে, আর 1, 0.5 ও 0.1 মোলারিটির দ্রবণকে যথাক্রমে মোলার, সেমিমোলার ও ডেসিমোলার বলে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।