offSchoolবেটা

রসায়ন · অধ্যায় ৬ · টপিক ৪

দলগত কাজ: নির্দিষ্ট ঘনমাত্রার দ্রবণ তৈরি (NaCl, গ্লুকোজ বা তুঁতে)

পড়ার নোট

এই দলগত কাজে নির্দিষ্ট মোলারিটির দ্রবণ তৈরি করা হয়, যেমন 250 mL আয়তনিক ফ্লাস্কে 0.1 মোলার NaCl, গ্লুকোজ বা কপার সালফেট দ্রবণ। আগে হিসাব, তারপর ওজন, তারপর দ্রবণ তৈরি।

ধাপ ১: কত গ্রাম দ্রব লাগবে

সূত্র: w=SVM1000w = \frac{SVM}{1000}, যেখানে ww = দ্রবের ভর (g), SS = মোলারিটি, VV = দ্রবণের আয়তন (mL), MM = আণবিক ভর।

দ্রবMMww (0.1 মোলার, 250 mL)
NaCl23+35.5=58.523 + 35.5 = 58.50.1×250×58.51000=1.4625\frac{0.1 \times 250 \times 58.5}{1000} = 1.4625 g
গ্লুকোজ C6H12O6C_6H_{12}O_61800.1×250×1801000=4.5\frac{0.1 \times 250 \times 180}{1000} = 4.5 g
কপার সালফেট CuSO4.5H2OCuSO_4.5H_2O249.50.1×250×249.51000=6.2375\frac{0.1 \times 250 \times 249.5}{1000} = 6.2375 g

কপার সালফেটের কেলাসে 5 অণু পানি থাকে, তাই ওজন করার সময় CuSO4.5H2OCuSO_4.5H_2O এর আণবিক ভর 249.5 ধরতে হয়।

ধাপ ২: দ্রবণ তৈরি

উপকরণ: 250 mL আয়তনিক ফ্লাস্ক, ফানেল, ওজন করার বোতল, রাসায়নিক নিক্তি, ওয়াশ বোতল, পাতিত পানি।

  1. পরিষ্কার আয়তনিক ফ্লাস্কের মুখে ফানেল বসাও।
  2. শুকনো ওজন-বোতল নিক্তিতে ওজন করো, তারপর এতে হিসাবমতো দ্রব নিয়ে আবার ওজন করো।
  3. দ্রব ফানেল দিয়ে ফ্লাস্কে ঢালো; ওয়াশ বোতলের পানি দিয়ে ফানেল ধুয়ে সবটুকু দ্রব ফ্লাস্কে নামাও।
  4. প্রায় অর্ধেক পানি দিয়ে ছিপি লাগিয়ে ঝাঁকাও, যতক্ষণ দ্রব পুরোপুরি দ্রবীভূত না হয়।
  5. এরপর সাবধানে পাতিত পানি যোগ করে দ্রবণের মোট আয়তন ফ্লাস্কের 250 mL দাগ পর্যন্ত আনো, এবং আবার ঝাঁকাও।

সতর্কতা

শুকনো ও বিশুদ্ধ দ্রব নাও, ওজন-বোতল শুকনো রাখো, শুধু পাতিত পানি ব্যবহার করো। সোডিয়াম কার্বনেট বিশুদ্ধ ও শুষ্ক অবস্থায় পাওয়া যায়, সরাসরি ওজন করা যায় এবং এর দ্রবণ দীর্ঘস্থায়ী; তাই একে প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ বলে।

উদাহরণ: একটি দল 0.1 মোলার গ্লুকোজ দ্রবণের জন্য ভুল করে 4.5 g এর বদলে 3.6 g গ্লুকোজ নিল। তাদের দ্রবণের মোলারিটি কত হলো? S=1000×3.6250×180=0.08S = \frac{1000 \times 3.6}{250 \times 180} = 0.08 মোলার, অর্থাৎ লক্ষ্যের চেয়ে কম।

সাধারণ ভুল হলো দ্রবের সাথে আলাদা করে 250 mL পানি ঢালা। তাহলে মোট আয়তন 250 mL এর বেশি হয়ে যায়; দাগ পর্যন্ত পানি যোগ করে মোট দ্রবণকে 250 mL করতে হয়।

মনে রাখো: নির্দিষ্ট ঘনমাত্রার দ্রবণ তৈরিতে আগে w=SVM1000w = \frac{SVM}{1000} দিয়ে দ্রবের ভর বের করে ওজন করতে হয়, তারপর আয়তনিক ফ্লাস্কে দ্রবীভূত করে দাগ পর্যন্ত পাতিত পানি যোগ করতে হয়।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

এই টপিকের পার্থক্য

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. খুলনার একটি বিদ্যালয়ের রসায়ন পরীক্ষাগারে তানিয়া ২৫০ mL এর একটি আয়তনমিতিক ফ্লাস্কে (volumetric flask) ৫.৩ g অনার্দ্র সোডিয়াম কার্বনেট (Na₂CO₃) দ্রবীভূত করে নির্দিষ্ট দাগ পর্যন্ত পানি যোগ করে দ্রবণ প্রস্তুত করল। প্রস্তুতকৃত দ্রবণের মোলারিটি (molarity) কত? (দেওয়া আছে: পারমাণবিক ভর Na = ২৩, C = ১২, O = ১৬)।

    1. ক

      ০.১ M

    2. খ

      ০.২ M

    3. গ

      ০.৫ M

    4. ঘ

      ২.০ M

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    খ) ০.২ M

    1. Na₂CO₃ এর আণবিক ভর M = (২৩ × ২) + ১২ + (১৬ × ৩) = ৪৬ + ১২ + ৪৮ = ১০৬ g/mol।
    M=106 g/molM = 106\text{ g/mol}
    1. মোলারিটির সূত্র: S = (১০০০ × W) ⁄ (M × V), যেখানে W = ৫.৩ g এবং V = ২৫০ mL।
    S=1000×WM×VS = \frac{1000 \times W}{M \times V}
    1. মান বসিয়ে: S = (১০০০ × ৫.৩) ⁄ (১০৬ × ২৫০) = ৫৩০০ ⁄ ২৬৫০০ = ০.২ M (mol/L)।
    S=1000×5.3106×250=0.2 MS = \frac{1000 \times 5.3}{106 \times 250} = 0.2\text{ M}
  2. কুমিল্লা জিলা স্কুলের রসায়ন পরীক্ষাগারে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাকিবকে ২৫০ mL এর একটি আয়তনমিতিক ফ্লাস্কে ০.১ M ঘনমাত্রার গ্লুকোজ (C₆H₁₂O₆) দ্রবণ তৈরি করতে বলা হলো। ডিজিটাল নিক্তিতে মেপে তাকে কত গ্রাম (g) বিশুদ্ধ গ্লুকোজ দ্রবীভূত করতে হবে? (দেওয়া আছে: পারমাণবিক ভর C = ১২, H = ১, O = ১৬)।

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ৪.৫ g

    1. গ্লুকোজের (C₆H₁₂O₆) আণবিক ভর M = (১২ × ৬) + (১ × ১২) + (১৬ × ৬) = ৭২ + ১২ + ৯৬ = ১৮০ g/mol।
    M=(12×6)+(1×12)+(16×6)=180 g/molM = (12 \times 6) + (1 \times 12) + (16 \times 6) = 180\text{ g/mol}
    1. দ্রবণের ঘনমাত্রা S = ০.১ M এবং আয়তন V = ২৫০ mL। প্রয়োজনীয় দ্রবের ভর W = (S × M × V) ⁄ ১০০০।
    W=S×M×V1000W = \frac{S \times M \times V}{1000}
    1. মান বসিয়ে পাই: W = (০.১ × ১৮০ × ২৫০) ⁄ ১০০০ = ৪৫০০ ⁄ ১০০০ = ৪.৫ g।
    W=0.1×180×2501000=4.5 gW = \frac{0.1 \times 180 \times 250}{1000} = 4.5\text{ g}

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো