offSchoolবেটা

রসায়ন · অধ্যায় ২ · টপিক ১০

তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ব্যাপন হার বৃদ্ধি

পড়ার নোট

ব্যাপন হার বলতে কণাগুলো কত দ্রুত কোনো মাধ্যমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তা বোঝায়। তুলনীয় অবস্থায় একই পরিমাণ ছড়িয়ে পড়তে কম সময় লাগলে ব্যাপন হার বেশি; বেশি সময় লাগলে হার কম। ব্যাপন ঘটে উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানে কণার ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যমে।

তাপমাত্রা বাড়লে কণাগুলো বেশি গতিশক্তি পায়। ফলে তাদের চলাচল দ্রুত হয় এবং তারা মাধ্যমের বিভিন্ন অংশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণে একই পদার্থের জন্য অন্যান্য অবস্থা একই রাখলে গরম মাধ্যমে ব্যাপন সাধারণত ঠান্ডা মাধ্যমের তুলনায় দ্রুত হয়। তাপমাত্রা কমালে বিপরীত প্রবণতা দেখা যায়।

পানিতে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেটের সামান্য দানা দিলে প্রথমে দানার কাছে রং দেখা যায়। দানা দ্রবীভূত হওয়ার পর কণাগুলো ছড়িয়ে পুরো পানি রঙিন করে। গরম পানিতে এই ছড়ানো তুলনামূলক দ্রুত হয়। একইভাবে পানিতে তরল নীলের ফোঁটা দিলে উষ্ণ পানিতে রং দ্রুত ছড়াতে দেখা যায়। এখানে রঙের বিস্তৃতি কণার চলাচলের দৃশ্যমান চিহ্ন।

বাড়িতে গরম চায়ের সুবাস সহজে পাওয়া যায়। তাপমাত্রার কারণে কণার গতি বৃদ্ধি গন্ধ ছড়াতে সাহায্য করে। তবে খোলা জানালার বাতাস বা পাখাও গন্ধ বহন করতে পারে। তাই শুধু দুটি ঘরে গন্ধ পৌঁছানোর সময় দেখে তাপমাত্রার প্রভাব নিশ্চিত করা যায় না; তুলনার অন্য অবস্থাও একই রাখতে হয়।

তাপমাত্রা ছাড়াও মাধ্যম ও আণবিক ভর ব্যাপনের হারকে প্রভাবিত করে। সাধারণভাবে গ্যাসীয় মাধ্যমে ব্যাপন তরল মাধ্যমের চেয়ে দ্রুত, আর তরলে কঠিন মাধ্যমের চেয়ে দ্রুত। একই তাপমাত্রা ও তুলনীয় অবস্থায় কম আণবিক ভরের গ্যাস দ্রুত ব্যাপিত হয়। যেমন হাইড্রোজেন কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়ে দ্রুত ব্যাপিত হয়।

তাপমাত্রার প্রভাব যাচাই করতে একই পদার্থ, সমান পানির পরিমাণ এবং একই ধরনের পাত্র ব্যবহার করতে হবে। শুধু পানির তাপমাত্রা বদলানো হবে। সাধারণ ভুল হলো, একটি পাত্র নেড়ে অন্যটি না নেড়ে রং ছড়ানোর পার্থক্যকে শুধু তাপমাত্রার ফল বলা। নাড়াচাড়া বাইরের সাহায্যে মিশ্রণ ঘটায়, তাই সেটি তুলনাকে বদলে দেয়।

মনে রাখো: অন্যান্য অবস্থা একই থাকলে তাপমাত্রা বাড়লে কণার গতি বাড়ে এবং ব্যাপন দ্রুত হয়।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • গরম খিচুড়ির সুবাস ও ব্যাপনচালিয়ে দেখো

    বৃষ্টির দিনে রান্নাঘরে গরম খিচুড়ি রান্না হলে তার সুবাস দ্রুত ড্রয়িংরুম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু ফ্রিজ থেকে বের করা ঠান্ডা খিচুড়ির গন্ধ কাছে না গেলে পাওয়া যায় না। ১০০ cm লম্বা একটি কাচনলে ২৫ °C তাপমাত্রায় অ্যামোনিয়া (NH₃) গ্যাসের কণার বেগ ৬৬১ m/s। কাচনলের তাপমাত্রা বাড়িয়ে গরম বাষ্পের মতো ১০০ °C করা হলে কণার বেগ ও ব্যাপন হারে কী পরিবর্তন ঘটবে?

এই টপিকের পার্থক্য

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. পরীক্ষাটি মূল্যায়ন করলে বলা যায়—

    i. শুধু এই পর্যবেক্ষণ থেকে দ্রুত রং ছড়ানোর একমাত্র কারণ তাপমাত্রা বৃদ্ধি বলা যায় না

    ii. তুলনাটি যথাযথ করতে কোনো পাত্রের পানিই না নেড়ে পরীক্ষাটি পুনরায় করা উচিত

    iii. গরম পানিতে রং দ্রুত ছড়ানো প্রমাণ করে যে তাপমাত্রা বাড়লে কণার গতি কমে

    নিচের কোনটি সঠিক?

    1. ক

      i ও iii

    2. খ

      ii ও iii

    3. গ

      i, ii ও iii

    4. ঘ

      i ও ii

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ঘ) i ও ii

    1. পানি নাড়লেও রং দ্রুত ছড়ায়। তাই সুমনের পরীক্ষায় তাপমাত্রার প্রভাব আলাদাভাবে নির্ণয় করা যায় না।
    2. কোনো পাত্রের পানি না নেড়ে অন্যান্য শর্ত একই রেখে তুলনা করতে হবে। তাপমাত্রা বাড়লে কণার গতি বাড়ে, কমে না। তাই i ও ii সঠিক।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো