পড়ার নোট
পরীক্ষার প্রস্তুতি ও পদ্ধতি
এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য হলো ঠান্ডা, স্বাভাবিক ও গরম পানিতে একই পদার্থের কণা ছড়ানোর গতি তুলনা করা। পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট একটি রঙিন কঠিন পদার্থ; এর সংকেত । পানিতে অল্প পরিমাণ দ্রবীভূত হলে রং দেখা যায়, তাই কণার ছড়ানো সহজে পর্যবেক্ষণ করা যায়।
তিনটি একই ধরনের স্বচ্ছ বিকার, বিশুদ্ধ পানি, সামান্য পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট, স্প্যাচুলা, থার্মোমিটার এবং সময় দেখার ঘড়ি নাও। বিকারগুলোকে ঠান্ডা, স্বাভাবিক ও গরম বলে চিহ্নিত করো। তুলনা নির্ভরযোগ্য করতে পানির পরিমাণ এবং যোগ করা কঠিনের পরিমাণ সমান রাখতে হবে।
- তিন বিকারে সমান পরিমাণ ঠান্ডা, কক্ষ তাপমাত্রার ও গরম পানি নাও। গরম পানি ফুটতে থাকা অবস্থায় ব্যবহার করো না।
- থার্মোমিটার দিয়ে প্রতিটির তাপমাত্রা মেপে লিখে রাখো। তাপমাত্রা মাপার পর পানি স্থির হতে দাও।
- প্রায় সমান আকারের ছোট কেলাস একই সময়ে একইভাবে প্রতিটি বিকারে দাও। স্প্যাচুলা ব্যবহার করো, খালি হাতে রাসায়নিক ধরবে না।
- কোনো বিকার নাড়বে না। একই সময়ের ব্যবধানে রং কত দূর ছড়ায় লক্ষ করো।
- পুরো পানিতে রং মোটামুটি সমানভাবে ছড়াতে কত সময় লাগে, তা আলাদাভাবে লিখে রাখো। সব বিকারের জন্য একই পর্যবেক্ষণ-মানদণ্ড ব্যবহার করো।
পর্যবেক্ষণ, ব্যাখ্যা ও সতর্কতা
প্রথমে কেলাসের কাছে গাঢ় রং দেখা যায়। পরে তা চারদিকে ছড়ায়। অল্প পরিমাণের দ্রবণ গোলাপি এবং বেশি ঘন অংশ বেগুনি দেখাতে পারে। গরম পানিতে রং সবচেয়ে দ্রুত, স্বাভাবিক পানিতে মাঝারি গতিতে এবং ঠান্ডা পানিতে সবচেয়ে ধীরে ছড়ানোর কথা।
এই স্বতঃস্ফূর্ত ছড়ানো হলো ব্যাপন। গরম পানিতে কণার গতিশক্তি বেশি থাকায় তারা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। রান্নাঘরে উষ্ণ পানিতে রং দ্রুত মিশতে দেখার পেছনেও একই ধারণা কাজে লাগে।
একটি সাধারণ ভুল হলো, গরম পানিতে বড় কেলাস দিয়ে বেশি গাঢ় রং দেখে ব্যাপন বেশি হয়েছে বলা। রঙের গাঢ়ত্ব ও ছড়ানোর গতি এক বিষয় নয়। নাড়াচাড়া, অসম পানির পরিমাণ বা অসম কেলাস তুলনাকে বদলে দেয়। গরম পাত্র সাবধানে ধরো এবং পরীক্ষার পানি পান করবে না।
মনে রাখো: তাপমাত্রার প্রভাব বুঝতে অন্য সব অবস্থা একই রেখে রং ছড়ানোর সময় তুলনা করতে হবে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।