পড়ার নোট
বরফের গলন
তাপ প্রয়োগে কঠিন পদার্থ তরলে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে গলন বলে। স্বাভাবিক চাপে বিশুদ্ধ কঠিন পদার্থ যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গলে, সেটি তার গলনাঙ্ক। বরফ পানির কঠিন অবস্থা; স্বাভাবিক চাপে এর গলনাঙ্ক । এখানে তাপমাত্রা ডিগ্রি সেলসিয়াসে প্রকাশিত; তাপমাত্রার SI একক কেলভিন।
বিকারে কয়েক টুকরা বরফ নিয়ে ধীরে তাপ দিলে থার্মোমিটারে পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। বরফের প্রাথমিক তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে হলে প্রথমে তাপমাত্রা বাড়ে। গলনাঙ্কে পৌঁছালে বরফ গলতে শুরু করে। তখন বরফ ও পানি একসঙ্গে থাকে। সমস্ত বরফ গলে যাওয়ার আগে তাপ দিলেও তাপমাত্রা আর বাড়ে না।
এই সময় সরবরাহ করা তাপ কণাগুলোর পারস্পরিক আকর্ষণ অতিক্রম করে কঠিনের নির্দিষ্ট বিন্যাস বদলাতে ব্যবহৃত হয়। সব বরফ গলে গেলে আরও তাপ দিলে পানির তাপমাত্রা বাড়ে। তাপমাত্রার লেখচিত্রে গলনের সময় সময়-অক্ষের সমান্তরাল অংশকে গলনাঙ্ক রেখা বলে। বাড়িতে শরবতে বরফ দিলে বরফ আশপাশ থেকে তাপ গ্রহণ করে গলে; শরবত ঠান্ডা হয়।
ন্যাপথালিন ও কর্পূরের ঊর্ধ্বপাতন
কঠিন পদার্থ তরল না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। ন্যাপথালিন ও কর্পূর এভাবে বাষ্পে পরিণত হতে পারে। আলমারিতে রাখা ন্যাপথালিন ধীরে ছোট হয়, অথচ নিচে তরল জমে না। পূজায় ব্যবহৃত কর্পূর খোলা অবস্থায় রাখলেও ধীরে কমে যেতে পারে। এসব ক্ষেত্রে পদার্থ হারিয়ে যায় না; তার কণা বায়ুতে ছড়িয়ে পড়ে।
এই প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন বাষ্প শীতল হলে সরাসরি কঠিন হিসেবে জমতে পারে। কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা শুষ্ক বরফও ঊর্ধ্বপাতিত হয়। এর আশপাশের দৃশ্যমান কুয়াশাকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস ভাবা ঠিক নয়।
ঊর্ধ্বপাতন মিশ্রণ পৃথক করতেও কাজে লাগে। নিশাদল ও খাদ্যলবণের মিশ্রণে তাপ দিলে নিশাদল বাষ্পে যায়, খাদ্যলবণ থেকে যায়; বাষ্প ঠান্ডা করে নিশাদল সংগ্রহ করা যায়। সাধারণ ভুল হলো বরফের গলন ও ন্যাপথালিনের ঊর্ধ্বপাতনকে একই পরিবর্তন বলা। প্রথমটিতে তরল তৈরি হয়, দ্বিতীয়টিতে সরাসরি বাষ্প তৈরি হয়।
মনে রাখো: বরফের গলনে তরল পানি হয়; ন্যাপথালিন ও কর্পূরের ঊর্ধ্বপাতনে কঠিন থেকে সরাসরি বাষ্প হয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।