পড়ার নোট
পাতন হলো কোনো তরলকে তাপ দিয়ে বাষ্পে পরিণত করা এবং সেই বাষ্প শীতল করে আবার তরল হিসেবে সংগ্রহ করার প্রক্রিয়া। এতে তরল থেকে গ্যাসীয় অবস্থা এবং গ্যাসীয় অবস্থা থেকে তরলে ফেরার দুটি পরিবর্তন পরপর ঘটে। পাতন বুঝতে এই দুই ধাপে তাপের ভূমিকা আলাদা করে লক্ষ করতে হয়।
তাপ প্রয়োগে তরলকে বাষ্পে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে বাষ্পীভবন বলে। চা গরম করার সময় পানি বাষ্প হয়ে বের হয়। তাপ গ্রহণে তরলের কণার গতি বাড়ে; কণা পারস্পরিক আকর্ষণ অতিক্রম করে বাষ্পে যেতে পারে। বাষ্প চারদিকে ছড়িয়ে গেলে সেই পানি আর পাত্রে সংগ্রহ করা থাকে না।
বাষ্প শীতল হয়ে তরলে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ঘনীভবন বলে। এতে বাষ্প তাপ ছেড়ে দেয়। ভাত রান্নার হাঁড়ির অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা ঢাকনার নিচে পানির ফোঁটা জমা এর পরিচিত উদাহরণ। ফোঁটাগুলো ঢাকনা থেকে তৈরি হয়নি; হাঁড়ির পানি থেকে উৎপন্ন জলীয় বাষ্প শীতল হয়ে সেখানে তরল হয়েছে।
সম্পর্কটি সংক্ষেপে লেখা যায়: । এখানে যোগচিহ্ন দুটি প্রক্রিয়ার সমন্বয় বোঝায়; এটি ভৌত রাশির সংখ্যাগত সমীকরণ নয়, তাই কোনো রাশির SI একক প্রযোজ্য নয়।
পাতনের ধাপগুলো হলো:
- উপযুক্ত পাত্রে তরল নিয়ে ধীরে তাপ দাও, যাতে বাষ্প উৎপন্ন হয়।
- উৎপন্ন বাষ্পকে শীতল হওয়ার উপযুক্ত স্থানে নিয়ে যাও।
- বাষ্প তাপ ছেড়ে তরলে পরিণত হলে সেটি অন্য পাত্রে সংগ্রহ করো।
যেমন, পুকুরের ঘোলা পানিতে থাকা কাদা ও অবাষ্পীয় ময়লা থেকে পানি আলাদা করার কথা ভাবো। পানি বাষ্প হয়ে গেলে এসব ময়লা মূল পাত্রে থেকে যায়। বাষ্প শীতল করে অন্য পাত্রে পানি সংগ্রহ করলে সেই ময়লা থেকে পানি পৃথক হয়। এখানে ধরে নেওয়া হচ্ছে যে ময়লাগুলো পানির সঙ্গে বাষ্পে যাচ্ছে না।
সাধারণ ভুল হলো শুধু পানি ফুটিয়ে বাষ্প উড়িয়ে দেওয়াকেই পাতন বলা। বাষ্পকে ঠান্ডা করে তরল হিসেবে সংগ্রহ না করলে পাতনের দুটি ধাপ সম্পূর্ণ হয় না। আবার শুধু ঘনীভবন দেখলেও পুরো পাতন হয়েছে বলা যায় না।
পাতনের এই অবস্থান্তরে পানি নতুন কোনো পদার্থে পরিণত হয় না। তাই এটি ভৌত পরিবর্তন। বাষ্পীভবনে তাপ গ্রহণ এবং ঘনীভবনে তাপ বর্জন—দুটিই প্রক্রিয়াটি বোঝার জন্য দরকার।
মনে রাখো: পাতনে তরলকে বাষ্প করা এবং সেই বাষ্প ঠান্ডা করে তরল সংগ্রহ করা—দুই ধাপই থাকতে হবে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।