পড়ার নোট
মোমের গলন ও পুনরায় কঠিন হওয়া
তাপ দিলে কঠিন পদার্থ তরল হওয়াকে গলন বলে। তরল পদার্থ তাপ ছেড়ে আবার কঠিন হওয়াকে কঠিনীভবন বলে। মোম গরম করে এবং পরে ঠান্ডা করে এই দুটি পরিবর্তন দেখা যায়। মোম বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ; হাইড্রোজেন ও কার্বন দিয়ে গঠিত জৈব যৌগকে হাইড্রোকার্বন বলে।
পরীক্ষার জন্য মোমের গুঁড়া, এক মুখ বন্ধ কাচনল, পানি ভর্তি বিকার, থার্মোমিটার, স্ট্যান্ড এবং তাপের উৎস লাগে। শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষাটি করো।
- মোম চূর্ণ করে কাচনলে নাও এবং থার্মোমিটারের বাল্ব মোমের মধ্যে রাখো।
- কাচনলটি বিকারের পানিতে বসাও। খোলা মুখ দিয়ে যেন পানি না ঢোকে।
- বিকারের পানিতে ধীরে তাপ দাও। গরম পানি থেকে তাপ পেয়ে মোম গলবে।
- মোম গলা শুরু করা থেকে সম্পূর্ণ তরল হওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রার পাঠ লক্ষ করো ও লিখে রাখো।
- তাপ দেওয়া বন্ধ করে ঠান্ডা হতে দাও। তরল মোম আবার কঠিন হবে।
মোম বিশুদ্ধ একক পদার্থ নয় বলে একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সমস্ত মোম গলে না; একটি তাপমাত্রার পরিসরে গলে। তাই বিশুদ্ধ বরফের মতো গলনের পুরো সময় মোমের তাপমাত্রা স্থির থাকবে, এমন ধারণা ভুল।
তাপ গ্রহণে মোমের কণার গতি বাড়ে এবং তারা আগের স্থির বিন্যাস ছেড়ে চলতে পারে। ঠান্ডা হলে কণার গতি কমে; মোম আবার কঠিন হয়। লোডশেডিংয়ে জ্বালানো মোমবাতির পাশে গড়িয়ে পড়া তরল মোম ঠান্ডা হয়ে জমা এর পরিচিত উদাহরণ। গলন ও কঠিনীভবনে নতুন পদার্থ তৈরি হয় না, তাই এগুলো ভৌত পরিবর্তন।
ঘনীভবন চিনে নেওয়া
বাষ্প তাপ ছেড়ে তরলে পরিণত হওয়াকে ঘনীভবন বলে। ভাত রান্নার হাঁড়ির অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা ঢাকনার নিচে জলীয় বাষ্প পানির ফোঁটা হয়ে জমে। ঢাকনা সাবধানে তুললে এই পরিবর্তন দেখা যায়; গরম বাষ্প থেকে দূরে থাকতে হবে।
মোমবাতিতে মোম প্রথমে গলে, পরে বাষ্প হয়। মোমের বাষ্প অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে জলীয় বাষ্পসহ নতুন পদার্থ তৈরি করে। কিন্তু শুধু মোম গলালে জলীয় বাষ্প তৈরি হয় না। সাধারণ ভুল হলো তরল মোম জমাকে ঘনীভবন বলা। গরম কাচ খালি হাতে ধরবে না এবং চুল ও কাপড় শিখা থেকে দূরে রাখবে।
মনে রাখো: তরল মোম জমা কঠিনীভবন; বাষ্প থেকে তরল হওয়া ঘনীভবন।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।