পড়ার নোট
থার্মোমিটার হলো তাপমাত্রা পরিমাপের যন্ত্র। কোনো পদার্থ কতটা গরম বা ঠান্ডা, তা হাত দিয়ে আন্দাজ করার বদলে এই যন্ত্র দিয়ে নির্ণয় করা যায়। বরফের গলন, পানির স্ফুটন এবং বিভিন্ন তাপমাত্রায় ব্যাপনের পরীক্ষা পর্যবেক্ষণে এটি কাজে লাগে। তবে থার্মোমিটার তাপমাত্রা মাপে, কোনো পদার্থে মোট কত তাপ আছে তা মাপে না।
পরীক্ষাগারের কাচের থার্মোমিটারে একটি বাল্ব থাকে; এটি নিচের তরলভর্তি অংশ। তাপমাত্রার পরিবর্তনে ভেতরের তরল স্তম্ভের উচ্চতা বদলায়। পাশে থাকা দাগ বা স্কেল থেকে পাঠ নেওয়া হয়। সঠিক পাঠ পেতে বাল্বকে যে পদার্থের তাপমাত্রা মাপবে, তার সংস্পর্শে যথাযথভাবে রাখতে হবে।
ব্যবহারের সময় নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করো:
- প্রত্যাশিত তাপমাত্রা থার্মোমিটারের পরিমাপসীমার মধ্যে আছে কি না দেখো। ফুটন্ত পানির জন্য উপযুক্ত পরীক্ষাগারের থার্মোমিটার ব্যবহার করো।
- ওপরের অংশ ধরে থার্মোমিটার বসাও; বাল্ব ধরে রাখবে না। প্রয়োজনে স্ট্যান্ড ও ক্ল্যাম্প দিয়ে সোজা ও স্থির রাখো।
- তরল মাপার সময় বাল্ব সম্পূর্ণ ডোবাও, কিন্তু পাত্রের তলা বা পাশে ঠেকিও না। পাত্রের সংস্পর্শ পাঠকে প্রভাবিত করতে পারে।
- স্থির তাপমাত্রার নমুনায় তরল স্তম্ভ স্থির হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করো। গরম করার পরীক্ষায় স্তম্ভের পরিবর্তন লক্ষ করো।
- বাল্ব নমুনায় রেখেই চোখ তরল স্তম্ভের ওপরের প্রান্তের সমতলে এনে পাঠ নাও। ওপর বা নিচ থেকে দেখলে দাগের অবস্থান ভুল মনে হতে পারে।
- পাঠের সঙ্গে একক লেখো। ডিগ্রি সেলসিয়াস প্রচলিত হলেও তাপমাত্রার SI একক কেলভিন।
ব্যাপন পরীক্ষায় ঠান্ডা, স্বাভাবিক ও গরম পানিকে শুধু স্পর্শের অনুভূতি দিয়ে আলাদা না করে থার্মোমিটারের পাঠ লিখে রাখলে তুলনা স্পষ্ট হয়। এতে কোন পানিতে রং দ্রুত ছড়াল, তার সঙ্গে তাপমাত্রার সম্পর্ক বিচার করা সহজ হয়।
সাধারণ ভুল হলো থার্মোমিটারকে নাড়ানোর দণ্ড হিসেবে ব্যবহার করা বা তরল থেকে তুলে পাঠ নেওয়া। এতে যন্ত্র ভাঙতে পারে কিংবা পাঠ বদলে যেতে পারে। থার্মোমিটারে আঘাত দেবে না, অতি গরম পদার্থে হঠাৎ ঢোকাবে না। ব্যবহারের পরে ঠান্ডা করে পরিষ্কার ও নিরাপদে রাখো। পারদযুক্ত থার্মোমিটার ভাঙলে পারদ স্পর্শ না করে শিক্ষককে জানাও।
মনে রাখো: বাল্ব সঠিক স্থানে রেখে, চোখের সমতলে এবং এককসহ থার্মোমিটারের পাঠ নিতে হয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।