পড়ার নোট
তাপমাত্রা নির্ণয় হলো উপযুক্ত থার্মোমিটার দিয়ে কোনো পদার্থের তাপমাত্রার পাঠ নেওয়া। রাসায়নিক পরীক্ষায় শুধু একটি পাঠ নয়, তাপ দেওয়ার সঙ্গে পাঠ কীভাবে বদলাচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এর সাহায্যে পদার্থ গরম হওয়া এবং অবস্থার পরিবর্তনের মধ্যে পার্থক্য বোঝা যায়।
প্রথমে নমুনা উপযুক্ত পাত্রে নাও এবং প্রত্যাশিত তাপমাত্রার জন্য সঠিক পরিমাপসীমার থার্মোমিটার বেছে নাও। বাল্ব নমুনার মধ্যে রাখো, পাত্রের গায়ে বা তলায় নয়। স্থির নমুনার পাঠ স্থির হলে চোখের সমতলে পড়ো। গরম করার পরীক্ষায় ধীরে তাপ দাও এবং পর্যবেক্ষণের সঙ্গে তাপমাত্রা লিখে রাখো। নমুনার মধ্যে থাকা অবস্থায় থার্মোমিটার ঝাঁকাবে না বা ফুঁ দিয়ে ঠান্ডা করবে না।
স্বাভাবিক চাপে বিশুদ্ধ বরফ গলতে থাকলে বরফ-পানির মিশ্রণের তাপমাত্রা থাকে। বরফ ও পানি একসঙ্গে দেখা এবং স্থির পাঠ পাওয়া গলন চেনার প্রমাণ। শুধু একটি সংখ্যার পাঠ দেখে অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। সব বরফ গলে গেলে তাপ দিতে থাকলে পানির তাপমাত্রা বাড়ে।
একইভাবে স্বাভাবিক চাপে বিশুদ্ধ পানি ফুটতে থাকলে তাপমাত্রা থাকে। পানির ভেতর বাষ্পের বুদবুদ তৈরি হয় এবং পানি বাষ্পে পরিবর্তিত হয়। বাড়িতে ভাত রান্নার পানি ফুটতে দেখা এর পরিচিত উদাহরণ। এই তাপমাত্রাগুলো ডিগ্রি সেলসিয়াসে দেওয়া; তাপমাত্রার SI একক কেলভিন।
বিশুদ্ধ ইউরিয়া গলতে শুরু করে তাপমাত্রায় এবং একই তাপমাত্রায় গলন শেষ হয়। কিন্তু মোম মিশ্রণ হওয়ায় একটি পরিসরে গলে। মোমের পরীক্ষায় তাই গলন শুরু ও শেষের পাঠ আলাদাভাবে লিখতে হয়। পানির পাত্রে বসানো কাচনলে মোম রেখে ধীরে গরম করে এই পরিবর্তন লক্ষ করা যায়।
একটি অনুশীলনী উদাহরণে ধরা যাক, গরম করার আগে পানির পাঠ ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং পরে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রথমে শেষ পাঠ থেকে প্রথম পাঠ বিয়োগ করো: ৪০ থেকে ২৫ বাদ দিলে ১৫। তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, অর্থাৎ ১৫ কেলভিন। এটি তাপমাত্রার পরিবর্তন; সরবরাহ করা তাপের পরিমাণ নয়।
সাধারণ ভুল হলো সব পদার্থের সব অবস্থার পরিবর্তনেই তাপমাত্রা স্থির থাকে বলা। বিশুদ্ধ পদার্থ, নির্দিষ্ট চাপ এবং পর্যবেক্ষিত পরিবর্তনের শর্ত বিবেচনা করতে হবে।
মনে রাখো: তাপমাত্রার পাঠের সঙ্গে পদার্থের অবস্থা ও পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করলেই পরীক্ষার সঠিক অর্থ বোঝা যায়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।