পড়ার নোট
ব্যাপন হলো কোনো পদার্থের অণুর অধিক ঘনত্বের স্থান থেকে কম ঘনত্বের স্থানে ছড়িয়ে পড়ার ভৌত প্রক্রিয়া। এখানে কোন পদার্থের ঘনত্ব তুলনা করা হচ্ছে, সেটি বোঝা জরুরি। সুগন্ধির ব্যাপন বোঝার সময় সুগন্ধির অণুর ঘনত্ব এবং চিনির ব্যাপন বোঝার সময় চিনির ঘনত্ব তুলনা করতে হবে।
ঘরের এক কোণে আতর রাখলে প্রথমে তার কাছাকাছি সুগন্ধির অণু বেশি থাকে। দূরের বাতাসে সেই অণু কম থাকে। অণুগুলো ছড়িয়ে পড়লে ঘরের অন্য অংশ থেকেও গন্ধ পাওয়া যায়। বাংলাদেশের বাড়িতে আতর ব্যবহারের এই পরিচিত অভিজ্ঞতা গ্যাসীয় অবস্থায় ব্যাপনের উদাহরণ। ফুলের গন্ধ চারদিকে ছড়ানোও একই ধারণা বোঝায়।
এক গ্লাস পানিতে চিনি দিলে চিনি দ্রবীভূত হয় এবং তার অণু পানিতে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে যেখানে চিনি বেশি থাকে, সেখান থেকে কম চিনিযুক্ত অংশে অণুর নিট চলাচল ঘটে। ফলে ধীরে ধীরে অন্য অংশের পানিও মিষ্টি হয়। তাই ব্যাপন শুধু গ্যাসে নয়, তরলেও ঘটে।
নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও বায়ুচাপে অধিক ঘনত্ব থেকে কম ঘনত্বের দিকে ব্যাপনের প্রবণতাকে ব্যাপন চাপ দিয়ে বোঝানো হয়। একই বায়ুচাপে বিশুদ্ধ দ্রাবকের ব্যাপন চাপ এবং দ্রবণের ব্যাপন চাপের পার্থক্য হলো ব্যাপন চাপ ঘাটতি। উদ্ভিদের পানি চলাচল ব্যাখ্যা করতে এই ধারণা কাজে লাগে।
পাতার মেসোফিল কোষ থেকে পানি হারালে সেখানে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। তখন পাশের কোষ থেকে পানি আসে। পাশের কোষেও ঘাটতি তৈরি হলে তার পাশের কোষ পানি দেয়। এভাবে ধারাবাহিক পানি সরবরাহে ব্যাপন চাপ ঘাটতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পাতার পত্ররন্ধ্র দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অক্সিজেনের আদানপ্রদানেও ব্যাপন কাজ করে। দ্রবণে খনিজ আয়নের চলাচলেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে। তাপমাত্রা, ঘনত্বের পার্থক্য ও দূরত্ব ব্যাপনের হারকে প্রভাবিত করে; দীর্ঘ দূরত্বে ব্যাপন ধীর, তাই ক্ষুদ্র দূরত্বে এটি বেশি কার্যকর।
সাধারণ ভুল হলো বলা, ব্যাপনে কোনো ধরনের শক্তিই নেই। অণুর নিজস্ব গতিশক্তি আছে; তবে এই চলাচল ঘটাতে কোষকে আলাদা বিপাকীয় শক্তি খরচ করতে হয় না। ব্যাপনের জন্য বৈষম্যভেদ্য পর্দাও বাধ্যতামূলক নয়।
মনে রাখো: ব্যাপনে সংশ্লিষ্ট পদার্থের অণু অধিক ঘনত্ব থেকে কম ঘনত্বের দিকে নিট চলাচল করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।