পড়ার নোট
অভিস্রবণ হলো বৈষম্যভেদ্য পর্দার মধ্য দিয়ে কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে বেশি ঘনত্বের দ্রবণের দিকে দ্রাবকের চলাচল। উদ্ভিদের ক্ষেত্রে দ্রাবক সাধারণত পানি। একই দ্রব ও দ্রাবকের দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণ পর্দা দিয়ে পৃথক থাকলে এই প্রক্রিয়া বোঝা যায়।
বৈষম্যভেদ্য পর্দা কিছু পদার্থকে অতিক্রম করতে দেয়, অন্য পদার্থের চলাচল বাধা দেয়। অভিস্রবণের আলোচনায় পানি পর্দা অতিক্রম করতে পারে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট দ্রাবের কণা পারে না। ফলে ঘনত্বের পার্থক্য কমানোর জন্য প্রধানত পানিই চলাচল করে। পর্দার এই বৈশিষ্ট্য অভিস্রবণকে সাধারণ ব্যাপন থেকে আলাদা করে।
কম ঘনত্বের দ্রবণে দ্রাবের তুলনায় পানির অনুপাত বেশি থাকে। বেশি ঘনত্বের দ্রবণে পানির অনুপাত তুলনামূলক কম। তাই দ্রবণের ঘনত্বের হিসাবে পানি কম ঘন থেকে বেশি ঘনের দিকে গেলেও, পানির নিজের ঘনত্বের হিসাবে বেশি থেকে কমের দিকেই যায়। এই কারণে অভিস্রবণকে দ্রাবকের বিশেষ ধরনের ব্যাপন বলা হয়।
বাংলাদেশে পায়েস রান্নার আগে কিশমিশ পানিতে ভেজানোর পরিচিত উদাহরণটি ভাবো। কিশমিশের ভেতরের দ্রবণ বাইরের পানির তুলনায় ঘন হওয়ায় পানি ভেতরে যায় এবং কিশমিশ ফুলে ওঠে। এরপর সেই কিশমিশ ঘন চিনির দ্রবণে রাখলে পানি বাইরে যেতে পারে; তখন কিশমিশ আবার সংকুচিত হয়।
মূলরোমের কোষরসের তুলনায় মাটির দ্রবণ পাতলা হলে পানি অভিস্রবণে মূলরোমে প্রবেশ করে। কোষে পানি ঢুকলে কোষ স্ফীত হয়। এই স্ফীতি কচি পাতা ও নরম কাণ্ড দৃঢ় রাখতে সাহায্য করে। পানি হারালে কোষের স্ফীতি কমে গাছ নেতিয়ে পড়তে পারে। মূলের ভেতরে কোষ থেকে কোষে পানি চলাচলেও অভিস্রবণের ভূমিকা আছে।
অভিস্রবণ শুধু জীবিত উদ্ভিদেই সম্ভব নয়; উপযুক্ত পর্দা ও দ্রবণ দিয়ে পরীক্ষাগারেও দেখানো যায়। পানি চলাচলে ঘনত্বের পার্থক্য কমার প্রবণতা থাকে। তবে জীবিত কোষে সব অবস্থায় দুই পাশের ঘনত্ব ঠিক সমান হবেই—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
সাধারণ ভুল হলো দ্রবণ ও দ্রাবকের ঘনত্ব গুলিয়ে পানির চলার দিক উল্টো বলা। আরেকটি ভুল হলো চিনিও পানির সঙ্গে পর্দা পার হচ্ছে ধরে নেওয়া।
মনে রাখো: অভিস্রবণে বৈষম্যভেদ্য পর্দা দিয়ে পানি পাতলা দ্রবণ থেকে ঘন দ্রবণের দিকে যায়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।