পড়ার নোট
পানি ও খনিজ লবণের শোষণ হলো উদ্ভিদের মাটি থেকে পানি এবং দ্রবীভূত খনিজ উপাদান গ্রহণের প্রক্রিয়া। পানি ও খনিজ একই মূলের মাধ্যমে প্রবেশ করলেও তাদের শোষণপদ্ধতি পুরোপুরি এক নয়। পানি প্রধানত মূলরোম দিয়ে ঢোকে, আর খনিজ লবণ আয়ন হিসেবে শোষিত হয়।
পানি শোষণ
উদ্ভিদ সাধারণত মাটির সূক্ষ্ম ফাঁকে থাকা কৈশিক পানি গ্রহণ করে। মূলরোমের কোষরসের তুলনায় মাটির দ্রবণ কম ঘন হলে পানি কোষঝিল্লি অতিক্রম করে মূলরোমে প্রবেশ করে। নির্বাচনীভাবে ভেদ্য পর্দার মধ্য দিয়ে কম ঘন দ্রবণ থেকে বেশি ঘন দ্রবণের দিকে পানির এই চলাচলকে অভিস্রবণ বলে।
পানি শোষণের সঙ্গে পাতার প্রস্বেদনের সম্পর্কটি ধাপে ধাপে বোঝা যায়:
- প্রস্বেদনে পাতার কোষ থেকে পানি বের হলে সেখানে পানির ঘাটতি ও ব্যাপনচাপ ঘাটতি তৈরি হয়।
- তখন পাশের কোষ থেকে পানি ওই কোষে আসে। পাশের কোষও আবার তার সংলগ্ন কোষ থেকে পানি নেয়।
- এভাবে পানির চাহিদা মূলরোম পর্যন্ত বিস্তৃত হয় এবং শোষণশক্তি সৃষ্টি হয়। ফলে মাটি থেকে পানি গ্রহণ অব্যাহত থাকে।
- মূলরোম থেকে পানি কর্টেক্সের কোষগুলো পার হয়ে অন্তঃত্বক, পরিচক্র এবং শেষে জাইলেমে পৌঁছায়।
কোষ থেকে কোষে পানির এই চলাচলকে কোষ থেকে কোষ অভিস্রবণ বলে। সামগ্রিকভাবে পানি শোষণ ইমবাইবিশন, ব্যাপন ও অভিস্রবণ, এই তিন প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে ঘটে।
খনিজ লবণ শোষণ
কিছু খনিজ মূলরোম দিয়ে শোষিত হলেও মূলের অগ্রভাগের ভাজক অঞ্চল খনিজ শোষণের প্রধান স্থান। মাটিতে দ্রবীভূত লবণের আয়ন উদ্ভিদ দুইভাবে গ্রহণ করে:
- নিষ্ক্রিয় শোষণ: বিপাকীয় শক্তি খরচ না করে মূলরোমের মাধ্যমে ইমবাইবিশন ও অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় খনিজ লবণ শোষণ।
- সক্রিয় শোষণ: কোষে উৎপন্ন বিপাকীয় শক্তি ব্যবহার করে খনিজ আয়ন গ্রহণ।
শোষিত পানি ও খনিজ উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং স্বাভাবিক বিপাকীয় কাজ চালাতে সাহায্য করে।
মনে রাখো: পানি মূলরোমে অভিস্রবণে প্রবেশ করে; খনিজ আয়নের শোষণ নিষ্ক্রিয় ও সক্রিয়—দুইভাবেই হতে পারে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।